
শেষ আপডেট: 2 August 2020 18:30
আজ ঘাড়ে ব্যথা, তো কাল পিঠ টনটন। পরশু হাতের কনুই নাড়ানোই যাচ্ছে না। ঘাড় থেকে শিরদাঁড়া বেয়ে সবসময় একটা ঝিনঝিনে ব্যথা। মাথা যেন কয়েকমণ ভারী। দপদপ করছে। রাতে বিছানায় শুলে ঘুম আসে না। ওয়ার্ক ফ্রম হোমে এই ধরনের উপসর্গ কমবেশি সকলেরই দেখা যাচ্ছে। অনেকেই আবার নিরীহ প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন, ‘বাড়িতে বসে আরামেই তো কাজ করছি, তাহলে কেন এত ব্যথা-বেদনা?’ এর উত্তর একটাই, এই অতিরিক্ত আরামই সর্বনাশটি ঘটাচ্ছে।
না, হাত দ্রুত কাজ করবে না মোটেও, স্নায়ুরা ভাববে এখন আরামের সময়, এতএব বেশি সঙ্কেত পাঠানোর দরকার নেই। ফলে শরীর ঝিমিয়ে পড়বে। এই অবস্থায় ল্যাপটপ বুকের উপর বা কোলের উপর বসিয়ে মাথা, চোখকে জোর করে জাগিয়ে তুলে কাজ করার চেষ্টা মানেই একটা চাপ তৈরি হওয়া। তাতেই বাড়বে নানা রকম ব্যথা। ঘাড়, কাঁধের পুরনো ব্যথারাও ফিরে আসতে পারে। শরীর নানা ভঙ্গিমায় বাঁকিয়ে আধশোয়া হয়ে কাজ করলে শিরদাঁড়ায় চাপ পড়তে বাধ্য। তাই আজ ঘাড়ে ব্যথা, তো কাল কাঁধ টনটন। একটা না একটা লেগেই থাকবে।
অন্দরবাসে কাজ যবে থেকে শুরু হয়েছে বেশিরভাগ মানুষই ল্যাপটন নিয়ে সোজা বিছানায় গিয়ে সেঁধিয়েছেন। ডাক্তাররা বলছেন, কাজের জায়গা আর বিশ্রামের জায়গা সব সময় আলাদা রাখা উচিত। বাড়ি বসে কাজ হলেও পরিবেশ তৈরি করতে হবে। চেয়ার-টেবিলে বসে বা সোফায় বসলেও পিঠ সোজা করে কাজ করা জরুরি। বেডরুম কাজের উপযুক্ত পরিবেশ নয়। এতে কাজের গতি কমবে। মানও খারাপ হবে। সুবিধা থাকলে জানলার পাশে কাজের পরিবেশ তৈরি করে নেওয়া যেতে পারে। গবেষণাই বলছে, যেখানে আলো-হাওয়া বেশি এমন জায়গায় ওয়ার্কপ্লেস হলে কাজের গতি অন্তত ৫০% বেড়ে যায়। সেখানে বদ্ধ বেডরুমে বিছানায় বসে কাজ করলে সেই গতি আসে না।
শরীর যদি সবসময় ঝিমিয়েই থাকে তাহলে সঠিক সময় ঘুম কিছুতেই আসবে না। বিছানায় শুয়ে ল্যাপটপ বা মোবাইল দেখলে মস্তিষ্কেও তার ধাক্কা লাগে। দিনের পর দিন এমনভাবে কাজ করলে ইনসমনিয়াও ধরে যেতে পারে।
দুই পা বেশিক্ষণ ভাঁজ করে না রেখে ছড়িয়ে দেওয়া ভাল। একইভাবে দীর্ঘসময় বসে থাকলে হাতে, পায়ে ও পিঠে ব্যথা হবে। বসার ধরন বদলানো দরকার। মাঝে মাঝে বিরতিও জরুরি। কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করে এসে ফের কাজে বসা যেতে পারে। এতে শরীর ঝিমিয়ে পড়বে না, রক্ত চলাচল ঠিকমতো হবে। দিনে অন্তত ৩০ মিনিট শরীরচর্চা দরকার। পারলে কাজে বসার আগে ওয়ার্কআউট করে নেওয়া ভাল। তাতে শরীর ওয়ার্মআপ থাকবে। কাজেও গতি আসবে। ঘুম ঘুম ভাব চলে যাবে। যদি বিছানায় শুয়েই কাজ করতে হয় তাহলে ঘাড়ের নীচে হাল্কা বালিশ রাখলে ভাল। তবে বেশিক্ষণ শুয়ে কাজ করলে ঘাড়, মাথায় ব্যথা হতে বাধ্য। রাতে ঘুমেরও বারোটা বাজবে। কাজেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিছানার প্রতি যতই মোহ-মায়া থাক না কেন, কাজের সময় বিছানাকে একটু এড়িয়ে চলাই ভাল। ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ যদি ‘ওয়ার্ক ফ্রম বেড’ হয়ে যায় তাহলেই মুশকিল।