প্রত্যেক বারের মতো ঠিক সময়ে আসেনি বর্ষা, তবে যখন এসেছে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছে জ্বর সর্দি কাশি। এই জ্বরে কম বেশি প্রায় সকলেই কাবু হচ্ছেন, তা নিয়েই রোজকার ছুটোছুটি চলছে। এ সময়ে কী করবেন, কী করবেন না, কী ভাবেই বা একটু স্বস্তি পাবেন, সুস্থ হবেন? জানাচ্ছেন ডঃ কৃষ্ণেন্দু দে।
দ্য ওয়াল: জ্বরে আজকাল সকলে খুব কাবু হচ্ছেন, এটা কি ভাইরাল ফিভার? কত দিন এর এফেক্ট থাকছে?
ডঃ দে: বর্ষায় জ্বর অনেক কারণের জন্য হয়ে থাকে। ভাইরাল ফিভার তার মধ্যে একটা বিশেষ গ্রুপ, যেখানে জ্বরের কারণ হল ভাইরাসের সংক্রমণ। বিশেষত যে সব জ্বরের ক্ষেত্রে আগে সর্দি কাশি হয়, বা খুব প্রমিনেন্ট মাথা ব্যথা, গায়ে ব্যথা থাকে সেগুলো ভাইরাল ফিভার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
ভাইরাল ফিভারের মাঝে কোনও জটিলতা বা কম্প্লিকেশান না হলে সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই উপশম হয়। তবে জ্বর পরবর্তী দুর্বলতা, কাশি, খাবারে অরুচি এগুলো জ্বর সেরে যাওয়ার পরেও বেশ কিছু সপ্তাহ থাকতে পারে।
দ্য ওয়াল: এর তো কোনও বয়সের সীমা নেই, সেক্ষেত্রে ছোট এবং বড়দের কি আলাদা চিকিৎসা দরকার? হলে সেটা কী রকম?
ডঃ দে: সাধারণভাবে ভাইরাল ফিভারের চিকিৎসা ছোট বা বড় সবার ক্ষেত্রেই এক। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই যেহেতু এর কোনও নির্দিষ্ট চিকিৎসা থাকে না, তাই বিশ্রাম, প্রচুর জল এবং ফল খাওয়া, খাবার নিয়মিত খাওয়া, জ্বর এলে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাওয়া একে মোকাবিলার একমাত্র উপায়। কোনও জটিলতা সৃষ্টি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
দ্য ওয়াল: এই জ্বর যাঁদের হয়নি এখনও, তাঁরা কী ভাবে নিজেদের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারেন?
ডঃ দে: ভাইরাল ফিভার যেহেতু অত্যন্ত সংক্রামক, তাই একে প্রতিরোধের উপায় সেরকম নেই। শারীরিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রচুর জল খাওয়া, পুষ্টিকর খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম এই সমস্ত সাধারণ নিযমকানুনগুলো মেনে চলা যেতে পারে।
আরও জানুন ডাক্তারবাবু কী বললেন---
https://www.youtube.com/watch?v=Ddaif3QlxdQ&feature=youtu.be
দ্য ওয়াল: জ্বরের লক্ষণ এবং উপসর্গগুলো কী কী হচ্ছে?
ডঃ দে: জ্বরের উপসর্গ গুলো বেশির ভাগই সর্দি দিয়ে শুরু হয়। তার সাথে থাকে কাশি আর গলা ব্যথা। এছাড়াও দুর্বলতা, খাবারে অরুচি মাথা এবং গা হাত পায়ে ব্যথাও থাকে।
দ্য ওয়াল: জ্বরে এখন তো সকলেই অ্যাণ্টিবায়োটিক খেতে বলেন, সেটা এক্ষেত্রে আরও দুর্বল করে দিচ্ছে কি? সেক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের বদলে কী খাওয়া যেতে পারে সেরে উঠতে?
ডঃ দে: জ্বর হলে সকলেই অ্যান্টিবায়োটিক খেতে বলেন না আজকাল। একমাত্র সেনসিটিভ ব্যাক্টিরিয়া ঘটিত জ্বরের ক্ষেত্রেই অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকরী। তা ছাড়া অন্য কিছু ক্ষেত্রে জটিলতা প্রিভেনশন এর জন্য অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া যেতে পারে। ভাইরাল ফিভারে অ্যান্টিবায়োটিকের সেরকম কোনও ভূমিকা নেই।
দ্য ওয়াল: এ সময়ে খাওয়া দাওয়াতে কোনও রেস্ট্রিকশন রাখতে হচ্ছে কি? হলে সেটা কী কী ?
ডঃ দে: বর্ষাকালে জল বাহিত রোগের প্রকোপ যেহেতু খুব বেড়ে যায় তাই এই সময় বাইরের খাবার বা জল না খাওয়াই ভালো।
দ্য ওয়াল: জ্বর হলেই কি সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে, নাকি বাড়িতে প্যারাসিটামল খেয়ে দু দিন দেখা উচিত?
ডঃ দে: জ্বরের প্রাথমিক পর্যায়ে অবশ্যই সাপোর্টিভ চিকিৎসা বাড়িতে শুরু করা যেতে পারে, কিন্তু যে কোনও রকমের জটিলতার লক্ষণ দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
দ্য ওয়াল: ডাক্তারের পরামর্শ না করে অনেকে নিজেরাই অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে নেন? সেটা কি উচিত?
ডঃ দে: কোনও রোগের ক্ষেত্রেই ডাক্তার এর পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা উচিত নয়। আজকাল সাধারণ মানুষের মধ্যে ওষুধের দোকানে গিয়ে মুঠোমুঠো অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এটা চলতে থাকলে, একটা সময়ের পরে শরীরে আর কোনও ওষুধই সেভাবে কাজ করবে না।
সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মধুরিমা রায়