
শেষ আপডেট: 31 May 2023 09:21
দ্য ওয়াল: মুখ ও গলার ক্যানসার (Head and Neck Cancer) বলতে ঠিক কী বোঝায়, শরীরের কোথায় কোথায় এই ক্যানসার হয়?
ডক্টর: ঠোঁট, জিভ, গাল, মাড়ি, নাক, গলা, থাইরয়েড-- এই সবটাই হেড অ্যান্ড নেক ক্যানসারের অন্তর্ভুক্ত। সাধারণত আমাদের শরীরের কোষগুলি নির্দিষ্ট সময়ে তৈরি হয় ও ধ্বংস হয়। ক্যানসারের ফলে কোষের গঠন ও বিস্তার বদলে যায়। ক্ষতি করে। একেই বলে ক্যানসার।

এখন এই নির্দিষ্ট হেড অ্যান্ড নেক ক্যানসারের ক্ষেত্রে তামাক বা তামাকজাত দ্রব্যের ভূমিকা অত্যন্ত নিবিড়। সারা দেশে নানা রকম ভাবে তামাক ব্যবহার হচ্ছে। সিগারেট তো বটেই, গুটখা, খৈনিও প্রভাব বিস্তার করেছে। শুধু সিগারেটই যদি ধরি, তাহলে তাতে সাত হাজারটা নানা রকম রাসায়নিক আছে। তার মধ্যে ৭২টা সাংঘাতিক ভাবে কার্সিনোজেনিক। এই টোব্যাকোর প্রভাবে যে ক্ষতি, তাতে সবার আগে আক্রান্ত হয় ফুসফুস। তার পরেই হেড অ্যান্ড নেক। তাই এই ক্যানসার নিয়ে আলোচনা করতে গেলে তা টোব্যাকোকে বাদ দিয়ে করা যাবে না।
দ্য ওয়াল: এক জন মানুষ কখন বুঝবেন তাঁর মুখ ও গলার ক্যানসার (Head and Neck Cancer) হয়েছে?
ডক্টর: এই বিষয়ে আমরা সহজ করে বোঝাই, CAUTION. বা সতর্কতা। এই সতর্কতা জীবনে যেমন মেনে চলতে হবে, সেই সঙ্গে শব্দটাকেও ভাঙতে হবে। এই শব্দের প্রথম অক্ষর, 'সি' বলতে বোঝাচ্ছে চেঞ্জ। চেঞ্জ ইন বাওয়েলস অর ব্লাডার হ্যাবিট। আমাদের প্রস্রাব বা মলত্যাগের যে অভ্যাস ও পদ্ধতি, তা কোনও ভাবে বদলে যাচ্ছে বলে মনে হলে, বড় কোনও পরিবর্তন বুঝলে, অবশ্যই ডাক্তার দেখান।
এর পরের অক্ষর 'এ' বলতে বোঝাচ্ছে, 'আ সোর দ্যাট ডাজ নট হিল'। কোনও ঘা বা ক্ষত, তা শরীরের যেখানেই হোক, মুখে হলে আরও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। যদি অনেক দিন ধরে ঠিক না হয়, তা ক্যানসারের কারণ হতে পারে।
তৃতীয় অক্ষর 'ইউ' বলতে বোঝায়, 'আনইউজুয়াল ব্লিডিং অর ডিসচার্জ'। নাক, কান, মুখ, গলা-- শরীরের যে কোনও অঙ্গ থেকে অস্বাভাবিক রক্তপাত এর মধ্যে পড়ছে। মলদ্বার থেকেও অস্বাভাবিক রক্তপাত হতে পারে, এমনকি মহিলাদের মাসিক রক্তপাতের অস্বাভাবিক বদলও ক্যানসারের ইঙ্গিতবাহী হতে পারে।
এর পরে 'টি' হল, 'থিকেনিং অর লাম্প'। শরীরের কোথাও ফোলা, মাংস জমা হলেই সতর্ক হন। মহিলাদের ক্ষেত্রে স্তনে, পুরুষদের ক্ষেত্রে অণ্ডকোষে এমন হলে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে। মুখের বা মাড়ির কোনও ফুসকুড়ির ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা। তা থেকে টিউমার ও টিউমার পরবর্তী ম্যালিগন্যান্সির সম্ভাবনা প্রবল।
এর পরে 'আই'। অর্থাৎ 'ইনডাইজেশন অর ডিফিকাল্টি ইন সোয়ালোয়িং'। বেশ কিছুদিন ধরে খিদে না হলে, ক্রনিক বদহজম হলে সতর্ক হন। প্যান্টোপ্রাজোল বা হজমের ওষুধ খেয়ে বারবার করে সারাতে থাকলে হবে না। একটানা সমস্যা থেকে গেলে অবশ্যই ডাক্তার দেখান।
'ও' বলতে বোঝাচ্ছি, 'অবভিয়াস চেঞ্জ ইন দ্য ওয়ার্ট অর মোল'। শরীরের কোনও জায়গায় অস্বাভাবিক বদল হলে সতর্ক হোন। তা যে কোনও বদলই হতে পার। একটা তিলের রং বদলালে, মুখের দুর্গন্ধ বদলালে-- সব রকম আচমকা বদলকে গুরুত্ব দিন, কারণ বোঝার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
এর পরে শেষ অক্ষর 'এন' হল, 'ন্যাগিং কফ'। ঠান্ডা লাগা, কাশি একটানা না সারলে, ১৫-২০ দিনে একই রকম থেকে গেলে চিকিৎসককে দেখান। এটা ক্যানসারের ইঙ্গিত হতে পারে।

তবে আমি বলছি না এরকম কিছু হলেই অঙ্কোলজিস্টের কাছে ছুটে যান। সাধারণ চিকিৎসককেই দেখান। তার পরে তিনি বললে তখন আমাদের কাছে আসুন, আমরা সিম্পটম্পস দেখে সব রকম টেস্ট করে দেখব। তবেই নিশ্চিত হওয়া যাবে। আতঙ্কিত হলে চলবে না, তবে সতর্ক থাকতেই হবে।
দ্য ওয়াল: হেড অ্যান্ড নেক ক্যানসারে তামাক (Tobacco) ঠিক কতটা ক্ষতিকর কারণ?
ডক্টর: তামাক ভীষণ ভাবে দায়ী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অর্থাৎ হু জানিয়েছে, টোব্যাকো থেকে দূরে থাকলে ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটা কমবে। এটা গবেষণালব্ধ ও তথ্যপ্রমাণ-সহ নির্ধারিত। দেখা যাচ্ছে, আমাদের দেশে গুটখা, পানমশলা, সিগারেট, বিড়ি, হুঁকো-- সব রকম নেশার জিনিস নেওয়ার অভ্যেস মানুষের। এগুলোই কিন্তু ওরাল ক্যানসারের প্রধান কারণ।

যেমন, সুপুরি মুখে রাখা অতি খারাপ অভ্যাস। অনেকে বলেন, আমাদের মা-দিদিমারা খেয়েছেন, কিছুই হয়নি তাঁদের, আমার কেন হবে। এটার কোনও উত্তর হয় না। কে কোন সময়ে কতটা সেনসিটিভ হবেন ক্যানসারের জন্য, সেটা আগে থেকে বোঝা যায় না। সুপুরি নিয়মিত মুখে থাকায় যে ক্ষত তৈরি হচ্ছে, তা ক্যানসারে পরিণত হবে কি হবে না, তার কোনও অঙ্ক নেই। কারও হয়নি মানে তিনি বেঁচে গেছেন। সকলে নাও বাঁচতে পারেন।
দ্য ওয়াল: হেড অ্যান্ড নেক ক্যানসারের উপসর্গ (Head and Neck Cancer) কী কী?
ডক্টর: এই ক্যানসারের বিভিন্ন স্টেজ থাকে। প্রথম স্টেজটা খুব লোকালাইজ়়ড। ধরা যাক কারও জিভে ক্যানসার হয়েছে, আর কোথাও ছড়ায়নি। সেটাই প্রথম স্টেজ। এর পরে দ্বিতীয় স্টেজ মানে সামান্য ছড়িয়েছে গালে, কয়েকটি লিম্ফনোডে। তৃতীয় স্টেজ মানে সব ক'টা লিম্ফ নোড আক্রান্ত। স্টেজ ফোর মানে একেবারে অন্য কোথাও ক্যানসার পৌঁছে গেছে। যেমন ধরুন মুখ থেকে ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়েছে ক্যানসার। বলাই বাহুল্য, যত দেরি করে ক্যানসার ধরা পড়বে তত সম্ভাবনা কমবে নিরাময়ের।
প্রথম দিকে ধরা পড়ার পরে চিকিৎসা নিলে, তা সারতে পারে। তবে চিকিৎসা মানে কিন্তু শুধু অস্ত্রোপচারটুকু নয়। তার সঙ্গে রেডিয়েশন, কেমো, সর্বোপরি নিয়মিত ফলোআপ-- চিকিৎসকের কথা পালন করে সবটা করলে নিরাময় হওয়া অসম্ভব নয়। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ রোগী আসছেন স্টেজ থ্রি-র পরে। চিকিৎসা শুরু করতেই দেরি হয়ে যাচ্ছে আমাদের। সেটা মাথায় রেখে আমরা একটাই কথা বলছি। টোব্যাকো বর্জন করুন।

হেড অ্যান্ড নেকের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কমন জিভের ক্যানসার। খুব তাড়াতাড়ি ছড়ায় এটি। আগে জিভ বাদ দিতে হতো, এখন পুরোটা বাদ দিতে হয় না। যতটা সম্ভব অর্গ্যান বাঁচাচ্ছি আমরা এখন। তার পরে শরীরের অন্য অংশের চামড়া নিয়ে রিকনস্ট্রাক্টও করছি। চোয়ালের হাড়ের ক্যানসার আগে হলে পুরোটা বাদ দিতে হতো। এখন বিষয়টা এতটা ভয়ংকর নয়। রেডিয়েশন অনেক উন্নত, অপারেশনের ধরনও অনেক পরিবর্তিত। রিকনস্ট্রাকশনের পদ্ধতিও ক্রমে ইতিহাস গড়ছে।
কিন্তু আবারও মনে করাই, এই সবটাই সম্ভব আর্লি স্টেজে এলে। দেরি হয়ে গেলে লডা়ই কঠিন। তাই দয়া করে কখনওই অসুখ ফেলে রাখবেন না। মাড়ির ঘা, দাঁতের দুর্বলতা, একটানা ঘা, মুখে একটানা বাজে দুর্গন্ধ-- এরকম যে কোনও কিছু হলেই পরীক্ষা করান। অনেক সময়ে হয়তো ছোট কোনও টিউমার হয়, থাকতে থাকতে বাড়াবাড়ি হলে তা ক্যানসার হয়ে যায়। প্লিজ় সতর্ক হোন।
দ্য ওয়াল: এই ধরনের ক্যানসার হলে তার চিকিৎসা পদ্ধতি কী রকম?
ডক্টর: ক্যানসার হয়তো ধরা পড়ল। এবার কী হবে। প্রথম বায়প্সির পরে একটা প্যাথলজিক্যাল স্টেজিং হয়। সেটাই প্রকৃত স্টেজিং। সেই বুঝে চিকিৎসা পদ্ধতি তৈরি হয়। তার পরে চিকিৎসা। তবে আমাদের দেশে দেখা যায়, বহু পেশেন্ট চিকিৎসা করিয়ে সুস্থতা অর্জন করার পরে আর ফেরত আসেন না। ফলো আপের জন্য সময় বা গুরুত্ব দেন না। এর ফলে অনেক পেশেন্টকে অকালে হারাই আমরা। চিকিৎসার পরে প্রথম দু'বছর খুব জরুরি, কারণ ক্যানসার আবারও ফিরে আসতে পারে। এই সময়টা খুব সংবেদনশীল। বারবার পরীক্ষা জরুরি। পরীক্ষার রেজাল্ট নর্মাল এলেও তা নিয়ম মেনে করে যেতে হবে। প্রথম দু'বছর তীব্র ভাবে পরীক্ষা, তার পরে একটু কম। অন্তত ৫ বছর এটা চলে।

দ্য ওয়াল: এই সম্পূর্ণ চিকিৎসা পিরিয়ডটা রোগী কাটাবেন কী করে?
ডক্টর: একটা কথা আমাদের মনে রাখতে হবে, রোগীর ইমিউনিটি কম ছিল বলেই কিন্তু ক্যানসার হয়েছে তাঁর। এখন ক্যানসারের মতো কঠিন রোগীর ট্রিটমেন্ট চলাকালীন তা আরও কমে যায়। ফলে ইনফেকশনের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই রোগীকে আগলে রাখতে হয়।
পরিবারকে এই সময়টা খেয়াল রাখতে হবে। রোগীর মানসিক অবসাদ হবে, তখন পরিবার ও বন্ধুদের সাপোর্ট খুব জরুরি। রোগীর মনের ভিতরে ভয় ও আতঙ্ক থাকেই। কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন নিয়েও চাপে থাকেন রোগী। চিকিৎসার পরেও ভয় থেকে যায়, আবার হবে না তো! মৃত্যুকে সবাই ভয় পায়। এই ভয় কাটানোর জন্য সহানুভূতি জরুরি।

অনেক রোগী আবার পুরনো নেশায় ফিরে যায়, ভাবে আমার তো সব হয়ে গেছে, এবার খাই। এটা করা যাবে না।রোগ ফিরে আসার সম্ভাবনাও কয়েক গুণ বেড়ে যায় এমন হলে। এমন প্রবণতা হলে মনটা ঘোরাতে হবে অন্যদিকে। দরকারে চুইংগাম খাওয়া, বই পড়া-- এসবে মন দিতে হবে। এই পর্যায়ে বন্ধুবান্ধবদের ভূমিকা জরুরি। তামাকের অভ্যেস ছাড়া সহজ নয়। তামাকের নেশা কখন ইচ্ছে বাড়ছে, সেটা খেয়াল রাখতে হবে। অফিসে সিগারেট ব্রেক চলার সময়ে সতর্ক থাকতে হবে রোগীর সহকর্মীদের।
দ্য ওয়াল: টোব্যাকো থেকে হেড অ্যান্ড নেক ক্যানসার বা অন্য ক্যানসার কীভাবে হতে পারে?
ডক্টর: সবার ধারণা সিগারেট খেলে শুধু ফুসফুসে ক্যানসার হয়, তা নয়। সিগারেট খেলে ওরাল ক্যানসার থেকে শুরু করে গলার ক্যানসার, চেস্টের ক্যানসার, প্যানক্রিয়াসের ক্যানসার এমনকি রেক্টাল ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে। আর যদি ধরেও নিই যে ক্যানসার হল না, তাহলে অসংখ্য ক্রনিক ডিজিজ হতে পারে। ইনফার্টিলিটি, স্ট্রোক, রক্তচাপ, হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়া হয়।
স্মোকিং তিন রকমের। অ্যাকটিভ আর প্যাসিভ আমরা জানি। নিজে খাওয়া, আর অন্য কেউ খেলে তার সামনে থাকা। প্যাসিভ স্মোকারের আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা ২০ শতাংশ বেশি। এর পরেও আরও একটা ক্ষতি আছে, থার্ড হ্যান্ড স্মোকিং। কোনও একটা ঘরে কেউ সিগারেট খেল, সেখান থেকে বেরিয়ে চলে গেল, পরে সেই রুমে যে গেল বা সাফ করল, সেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
একটা স্টাডি বলছে, এরকম ক্ষতিকর পার্টিকেলগুলো ৬ মাস পর্যন্ত থেকে যায়। স্মোকারদের মধ্যে প্রবণতা থাকে, বাচ্চা আছে হয়তো বাড়িতে, তার সামনে না করে অন্য ঘরে করছে। কিন্তু ক্ষতি কিন্তু হচ্ছে বাচ্চা ওই রুমে বা বারান্দায় গেলে। পার্টিকেলগুলো ওর ক্ষতি করছে। আপনি আপনার অজান্তে ক্যানসারের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। তাই কোথাও স্মোক করবেন না। সে নো টু টোব্যাকো, সে ইয়েস টু লাইফ।
দ্য ওয়াল: মহিলাদের মধ্যে ওরাল ক্যানসার কতটা প্রভাব ফেলছে?
ডক্টর: মহিলাদের এই ক্যানসার হওয়ার সংখ্যা হয়তো কম। কিন্তু হয় না, তা নয়। মহিলারা আজকাল স্মোক করছেন, অ্যালকোহল নিচ্ছেন। আক্রান্তও হচ্ছেন। সতর্কতা খুব জরুরি। আর জরুরি সার্ভাইকাল ক্যানসার নিয়ে সচেতন হওয়া। এই ক্যানসার তাঁর সঙ্গী বা সঙ্গিনীর ওরাল ক্যানসারের কারণ হলেও হতে পারে। এই সার্ভাইকাল ক্যানসারের কারণ অর্থাৎ হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের সম্ভাবনাও এ দেশে বাড়ছে। কিছু দেশে এর ভ্যাকসিন চালু হয়েছে, কিশোরীদের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সার্ভাইক্যাল ক্যানসার কমে যাচ্ছে।
https://youtu.be/gWHZ6ue0cO0
দ্য ওয়াল: কতটা স্মোক করলে তা ক্যানসার না হওয়ার পক্ষে নিরাপদ?
ডক্টর: তামাকের (Tobacco) সেফ লেভেল বলে কিছু নেই। এমন কোনও অঙ্ক নেই, কতটা খেলে হবে বা কতটায় হবে না। ওর তো এত খেয়ে হয়নি, আমার কম খেয়েও হল কেন-- এরকম কোনও হিসেব নেই। তামাকে মোট ৭২টা কার্সিনোজেনিক উপাদান আছে, যা ক্যানসারের কারণ। এটা কার কতটা ক্ষতি করবে সেটার মাপকাঠি ঠিক করা মুশকিল।
একটা উদাহরণ দিই। আমার এক পেশেন্ট ২৭ বছর বয়সে এসেছিল জিভের ক্যানসার নিয়ে। সে স্মোক করত না। কোনও নেশাও ছিল না। তবে তদন্ত করে বেরোল, ১৮ বছর বয়সে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে ফেল করেছিল, সেই হতাশা কাটাতে পানমশলা, গুটখা খেয়েছিল। কয়েক মাসের জন্য। তার পরে সে কাটিয়ে উঠেছিল এই নেশা। কিন্তু তার প্রভাব রয়ে গেছে এত বছর ধরে। এত দিন পরে ক্যানসার হল, স্টেজ ওয়ান ছিল যদিও, অপারেশন করে সফল হলাম আমরা। কিন্তু তার পরেও ফের ফিরে আসে ক্যানসার। ফলে আবার অপারেশন হয়। এভাবে মোট ৫ বার অপারেশন হয়। কেমো, রেডিয়েশন সব চলে। কিন্তু বাঁচানো যায়নি ছেলেটিকে। ওই কয়েক মাসের চরম ফল ভুগতে হল এত অল্প বয়সেই।

আমি বলতে চাই, মুখ ও গলার ক্যানসার নিয়ে সতর্ক থাকুন, আর এটা এড়াতে তামাক এড়িয়ে চলুন। কারণ টোব্যাকোর সবটাই ক্ষতি। কোনও একটিও লাভ নেই। এটা বন্ধ করুন। অনেকের ক্ষেত্রে এমনও দেখি, ক্যানসার ধরা পড়লে, অপারেশন হওয়ার আগে আরও বেশি করে খেয়ে নেন। আর তো খেতে পারবেন না, এই ভেবে। কিন্তু এর ফলে অপারেশনের প্রভাব কিন্তু খারাপ হয়। থেরাপির সাইড এফেক্ট বেড়ে যায়। তাই কোনও কারণেই খাবেন না।
সে নো টু টোব্যাকো (Tobacco), ইয়েস টু লাইফ।