
শেষ আপডেট: 5 September 2023 10:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেনোপজের পরে প্রতি চারজন মহিলার একজনই ভুগছেন হার্টের রোগে (heart problems)। আচমকা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে মৃত্যুও হচ্ছে। 'আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন জার্নাল'-এ সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে যেখানে কার্ডিওলজিস্টরা বলছেন, অতিরিক্ত চিন্তা, স্ট্রেস, একাকীত্ব, অবসাদ থেকেই হৃদরোগ বাড়ছে মহিলাদের। ৫০-৭৯ বছরের মহিলাদের হার্টের রোগের অন্যতম কারণই হল স্ট্রেস, ডিপ্রেশন।
পঞ্চাশোর্ধ্ব মহিলাদের যে ধরনের হার্টের রোগ হচ্ছে তাকে চিকিৎসার পরিভাষায় বলে atrial fibrillation (AFib)। হার্টের স্পন্দন অনিয়মিত হয়ে যাচ্ছে। হার্টরেট বেড়ে যাচ্ছে অস্বাভাবিকভাবে। আচমকা হৃদরোগে মৃত্যুও হচ্ছে।
পেশার ক্ষেত্রে পাহাড়প্রমাণ চাপ, সেই কারণে মাথায় সবসময় চিন্তা, আবার অন্যদিকে পরিবার, আত্মীয়-পরিজন. সন্তান সব সামলে মহিলাদের স্ট্রেস (Women Mental Health) আরও বাড়ছে বলেই দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। এর কারণও আছে। গবেষকরা বলছেন, মহিলারা নিজের শরীর-স্বাস্থ্যের দিকে অতটাও গুরুত্ব দেন না। পরিবার সামলে, আপনজনদের দেখাশোনার পরে নিজের জন্য সামান্য় কিছু সময়েই থাকে। মানসিক চাপ বাড়লে তাও সুকৌশলে চেপে রাখেন মেয়েরা। বাড়তে থাকা স্ট্রেস মনের ভেতরেই চাপা পড়ে সমস্যা আরও বাড়িয়ে তোলে। এর থেকেই ঘন ঘন মুড সুয়িং, উদ্বেগ, অতিরিক্ত চিন্তা এবং শেষে অবসাদে ভুগতে থাকেন মেয়েরা।
করোনা কালে লকডাউনের সময় এই মানসিক চাপ (Women Mental Health) আরও বেড়েছে। গৃহবন্দি অবস্থায় মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে মহিলাদের। সমীক্ষায় দেখা গেছে, পুরুষদের থেকে অনেক বেশি মানসিক চাপ (Women Mental Health), অবসাদ ও একাকীত্বে ভুগেছেন মহিলারা। বিশেষ করে কর্মরত মহিলারা যেমন ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কার থেকে বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত মহিলারাই দীর্ঘ দু'বছর অতিমহামারী পর্যায়ে মানসিক উদ্বেগের শিকার হয়েছেন নানাভাবে। গার্হস্থ্য হিংসারও শিকার হতে হয়েছে মেয়েদের।
আরও পড়ুন: ভারতে ৩০ শতাংশ মহিলাই ভোগেন হাইপারটেনশনে! কেন নিঃশব্দে বাড়ছে প্রেসার

গবেষণা বলছে, ২০২০ সাল অর্থাৎ করোনাকালের পর থেকে মহিলাদের মধ্যে মানসিক উদ্বেগ, রাগ, অবসাদের পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে, যা গত ১০ বছরের তুলনায় দ্বিগুণ (Women Mental Health)। গ্লোবাল উইমেনস হেলথ ইনডেক্সের করা সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, বাড়ি থেকে কাজ, বেকারত্ব, সম্পর্কের অবনতি, অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা, গার্হস্থ্য হিংসা–সব মিলিয়ে অবসাদ বেড়েছে। একই সঙ্গে মানসিক উদ্বেগও বেড়েছে নানা কারণে। এমনও দেখা গেছে, ইদানীংকালে সবচেয়ে বেশি অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডারে ভুগছেন মহিলারা।
কী কী লক্ষণ দেখে আগেই সাবধান হবেন মেয়েরা?
বুকের মাঝখানে প্রচণ্ড ব্যথা। সবসময় বুকে ব্যথা মানেই হার্টের (Heart Attack) রোগ নয়, খেয়াল করবেন সেই ব্যথা চোয়ালে অথবা বাম কাঁধ ও হাতে ছড়িয়ে পড়ছে কিনা (heart problems)। এই রকম ব্যথা দেখা দিলে অব্যশই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ঘন ঘন শ্বাসের সমস্যা, অল্পেই ক্লান্তি বুক ধড়ফড় হার্টের রোগের ইঙ্গিত হতে পারে।
অতিরিক্ত ঘাম হওয়া হার্ট অ্যাটাকের পূর্ব লক্ষণ। বিশেষ করে ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে বুকে ব্যথা হওয়া ছাড়াও অতিরিক্ত ঘাম, বুক ধড়ফড়, হঠাৎ শরীর খারাপ লাগতে শুরু করলে অব্যশই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
ঠান্ডা না লাগলেও প্রচণ্ড কাশি, কফের সঙ্গে রক্ত বের হলে সাবধান হতে হবে।
যখনই প্রচণ্ড মাথা ব্যথা হয়, আমরা ওষুধ খেয়ে থাকি। জেনে রাখুন, হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম লক্ষণ হল প্রতিদিনের প্রচণ্ড মাথা ব্যথা।
যদি কাজ করার মধ্যেই আপনি প্রায়ই হঠাৎ করে অজ্ঞান হয়ে যান, তা হলে বুঝবেন হার্টের সমস্যা রয়েছে।
যদি মাঝেমধ্যেই পালস রেট ওঠা-নামা করে তাহলে সতর্ক হতে হবে।