
শেষ আপডেট: 30 July 2023 18:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সারাদিনের সঙ্গী মোবাইল? রাতের অন্ধকারেও মোবাইলে খুটখাট? ফোন আঁকড়েই রাত জাগা? জানেন কি, আলো-আঁধারিতে বারোটা বাজছে চোখের? অফিসের কাজ থেকে আরম্ভ করে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ, রোজের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটি, ক্যামেরায় জীবনের চালচিত্র ধরে রাখা ইত্যাদি সমস্ত কাজেই মুঠোফোন (Smartphone Addiction)। আপনার গান শোনা, সিনেমা দেখা, লেখালেখির মতো বিষয়গুলিও মোবাইলেই সেরে ফেলা সম্ভব। কিন্তু সব করতে গিয়ে আবার মোবাইলের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা (Smartphone Addiction) তৈরি হয়ে যাচ্ছে না তো?
আপনি যে মোবাইল ফোনে আসক্ত (Smartphone Addiction), সেটা বোঝার কিছু উপায়ও আছে। দেখবেন, মোবাইল ফোন চার্জে বসিয়েও আপনি শান্তিতে থাকতে পারবেন না। তার আশপাশেই ঘোরাঘুরি করবেন। চার্জ চলাকালীন ফোনে কথা বলা বা সার্ফিং করা বিপজ্জনক জেনেও তা হাত থেকে নামাতে পারবেন না। তীব্র গতিতে আপনি মেসেজ টাইপ করতে পারেন,একসঙ্গে একাধিক চ্যাটবক্সে বার্তালাপ চালিয়ে যাওয়াটাও আপনার অনেকদিনের অভ্যেস। কোনও অনুষ্ঠানে বা নেমন্তন্ন বাড়িতে গিয়েও চ্যাট করে যান অবলীলায়। লোকের সঙ্গে কথা বলার থেকে চ্যাট করতেই ভাল লাগে বেশি। আপনি এমন জায়গাতেই বেড়াতে যান যেখানে মোবাইল ফোনে পুরো টাওয়ার পাওয়া যায়। যেখানে টাওয়ার নেই, সেখানকার নৈসর্গিক দৃশ্য দেখেও আপনার কিছুতেই মন ভরে না – কেবলমাত্র টাওয়ার খুঁজে বেড়াতেই সময় চলে যায়।

সিনেমাহল থেকে আরম্ভ করে অফিসের টয়লেট – সর্বত্র একটা সেলফি না তুললে আপনার চলে না একেবারেই। আশপাশের কেউ বিরক্ত হচ্ছেন কিনা, সে ব্যাপারে আপনার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই, সেলফি তোলার ব্যাপারে আপনি দুর্দমনীয়। এসবই হল স্মার্টফোনে অতিরিক্ত আসক্তির লক্ষণ।
'সাইবারসাইকোলজি বিহেভিয়র অ্যান্ড সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং' জার্নালে একটি গবেষণার খবর ছাপা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা কমবয়সি থেকে বেশি বয়সিদের সাইকোলজির ওপরে গবেষণা করেছেন। মন কেন ভাল নেই? মুড কেন অফ? তার কারণ খুঁজে বের করেছেন (Mental Health)। গবেষণা বলছেন, ইদানীংকালে এত বেশি মুড সুয়িং, ডিপ্রেশন, অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডারের কারণ হল স্মার্টফোন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক বেশি সময় কাটানো। অফিসকাছারি সেরে সারাদিন ৯ ঘণ্টা পেশাগত কাজের পরে খাওয়া ও ঘুম বাদে বাকি সময়টা লোকজন ফোন ঘাঁটাঘাঁটি করেই কাটিয়ে দেন। এমনকি খাওয়ার সময়েও হাত চলে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকে। কে কী স্ট্যাটাস দিল, কার কোন ছবিতে লাইক-কমেন্ট পড়ছে বেশি, ফেসবুক পোস্টে কে কার সমালোচনা করছে, তার উত্তরে বাকিরা কী বলছে, আমার নাম এসবে নেই তো! এইসব ভেবেই মনের ওপর চাপ বাড়ে। তার থেকেই তৈরি হয় অ্যাংজাইটি।
আরও পড়ুন: ঘর ছেড়ে চাঁদের পথ ধরতে চলেছে চন্দ্রযান, পৃথিবীকে চক্কর কাটা শেষ হল
পরিবার ও সন্তানের সঙ্গে সময় কাটানো তো দূর টুইটারে তর্ক জুড়তে না পারলে স্নান-খাওয়া মাথায় ওঠে। একদিন ফেসবুকে আপডেট না দিলে ফলোয়াররা লাইক কমিয়ে দেয়, প্রয়োজনের কথা বলার সুযোগও মেলে না ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে বুঁদ হয়ে থাকার সময়ে। মনোবিজ্ঞানীরাই বলছেন, তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশের মানসিক চাপের কারণ সোশ্যাল মিডিয়া। সেখানে অতিরিক্ত সময় কাটানোয় ৯০ শতাংশ ঘুমের সমস্যায় ভোগেন। কম ঘুমের জেরে তৈরি হচ্ছে মানসিক চাপ। যার মধ্যে ৬০ শতাংশ সম্পর্ক হারানো বা সামাজিক সম্মান হারানোর মতো বিভিন্ন আশঙ্কায় ভুগছেন। আবার অনেকে তিরিক্ত তামাকজাত দ্রব্যে অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন।
সমাজমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করার কুফল নিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন গবেষকরা। দুশ্চিন্তা, চাপ, মনোরোগ, ঘুমের সমস্যা, স্বাস্থ্য, আত্মহত্যা, ও আসক্তি— এই সমস্যাগুলি বিশ্ব জুড়ে বেড়ে চলেছে। এর থেকে রেহাই মেলার একমাত্র উপায় হল ফোন থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকা। সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্তি কমানো। পারিবারিক বন্ধু, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সময় কাটানো, বই পড়া, গান শোনা, ছবি আঁকা ইত্যাদির মধ্যে থাকলে মন অনেক বেশি সতেজ থাকবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিযোগিতায় সেরা থাকার দৌড় থেকে বেরিয়ে এলে তবেই মুড ঠিক হবে। নিজেকে নিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়বে। অবসাদও অনেকটাই কাটবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।