দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছোটবেলায় আমরা হোম ওয়ার্ক করতে ভুলে যেতাম। কখনও সখনও বাড়ির বড়দের কথা শুনতেও। ছোটবেলার সেই ভুলে যাওয়া ভুলগুলো আসলে ছিল দুষ্টুমি। কিন্তু বড় হয়ে আমরা অনেকে বাইরে বেরোনোর সময় পার্স নিয়ে যেতে ভুলে যাই, মোবাইলটা কখনও কখনও কোথায় রেখেছি, মনে করতে কালঘাম ছুটে যায়। বাথরুমের আলো বন্ধ করতে ভুলে যাই, এমনকি বাজারের ফর্দ মিলিয়ে কিনতে গিয়েও ভুলে ফেলে আসি বাজারের ব্যাগটা।
আমাদের জীবনে এসব টুকটাক ভুলে যাওয়া আকছার ঘটেই থাকে। তবে ভুলে যাওয়া যদি ঘন ঘন হতে থাকে বা ক্রনিক পর্যায়ে চলে যায়, তবে একটু সাবধান হওয়া প্রয়োজন বৈকি!
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মস্তিষ্কের ক্ষমতা কমতে থাকে। তাই বার্ধক্যজনিত কারণে ভুলে যাওয়ার সমস্যা স্বাভাবিক। কিন্তু কম বয়সেই এই ভুলে যাওয়ার সমস্যা যখন অবহেলার কারণে গুরুতর আকার ধারণ করে, তখন তা ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রমের আকারও পেতে পারে।
স্মৃতিভ্রমের কারণ কী?
অনেক কারণ থাকতে পারে। যেমন...
● শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ও খনিজের অভাব
● মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত পরিমাণ রক্ত সঞ্চালনের অভাব
● বিভিন্ন রোগের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
● অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

উপরের প্রথম তিনটি কারণের ওপর আমাদের হাত নেই, কিন্তু শেষ কারণটিকে আমরা চাইলে সংশোধন করে নিতে পারি। সুষম খাদ্যাভ্যাস আমাদের সকলের জন্য জরুরি। মস্তিষ্ক যদি পর্যাপ্ত পুষ্টি পায়, তবে ভুলে যাওয়ার সমস্যা কমতে পারে।
পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন। সঙ্গে খাবারতালিকায় যোগ করুন সেই খাবারগুলো, যেগুলো স্মৃতিভ্রংশ রোধে সাহায্য করতে পারে।
১. শাকসবজি: এখনকার প্রজন্মের ফাস্ট ফুডের প্রতি যতটা আকর্ষণ, তার কনামাত্র শাকসবজির ওপর থাকলে স্মৃতিভ্রম ঘটা এতটা সহজ হতো না। পালং শাক, ব্রকোলি, ফুলকপি, ক্যাপসিকাম, গাজরের মতো সবজিতে থাকে প্রচুর পরিমাণে ফোলেট, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ফ্ল্যাভোনয়েডস, ভিটামিন-ই, আয়রন, ভিটামিন বি ও ক্যারটিনয়েডের মতো উপাদান। এগুলো আমাদের স্মৃতি মস্তিস্কে ধরে রাখতে সাহায্য করে। ব্রেনকে আরও কার্যক্ষম করে তোলে।
২. বাদাম, আখরোট: বেশি না, রোজ একমুঠো বাদাম আমাদের স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির জন্য দারুন কার্যকর। আখরোট, চিনাবাদাম ও কাজুবাদাম, আমন্ডে থাকে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা থ্রি, ওমেগা সিক্স ফ্যাটি অ্যাসিড ও ভিটামিন বি সিক্স এবং ভিটামিন ই, যা আমাদের স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
৩. ডার্ক চকোলেট: চকোলেট খেতে ভালবাসতেই পারেন। তবে চেষ্টা করুন ডার্ক চকোলেট খেতে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডার্ক চকোলেট আমাদের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক। পুষ্টিবিদদের মতে, ডার্ক চকোলেটের মধ্যে দ্রবণীয় ফাইবার ও খনিজ রয়েছে। এগুলি শরীরের অন্যান্য অসুখ বিসুখ তো দূরে রাখেই। সঙ্গে মস্তিষ্কের পুষ্টি যোগায়।
৪. কফি: দীর্ঘকালীন স্মৃতিশক্তি বাড়াতে কফি দারুণ কাজে দেয়। যদিও ক্যাফেইনের প্রভাব শরীরে নানা ভাবে পড়তে পারে, তাই বুঝেশুনে খাওয়া উচিত।
৫. সামুদ্রিক মাছ : স্মৃতিশক্তি বাড়িয়ে মস্তিষ্কের পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে সামুদ্রিক মাছ। প্রতিদিন না হলেও, সপ্তাহে দু'দিনও যদি ডায়েটে সামুদ্রিক মাছে থাকে, তাহলে তা আমাদের মস্তিষ্কের জন্য খুবই উপকারী। ডিমেনশিয়ার রোগীদের সামুদ্রিক মাছ খাবার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'