
শেষ আপডেট: 30 October 2023 14:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটা বয়সের পরে ঘাড়ে আর কোমরে ব্যথা নিয়ে নিত্য সমস্যায় ভোগেন বেশির ভাগ মানুষ। কম বয়সে এই ব্যথার উৎস মাসকিউলার স্ট্রেন হলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিজেনারেটিভ ডিজিজি বা ক্ষয়ের কারণে বিভিন্ন রকমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ফলে শিরদাঁড়ার অস্থিসন্ধি, নার্ভ ও অন্যান্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘাড়ে-কোমরে, পিঠে ব্যথা শুরু হয়। রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা বনমন্ত্রীর নানারকম শারীরিক সমস্যা ধরা পড়েছে। মেডিক্যাল বুলেটিন থেকে জানা গেছে, তাঁর সার্ভিকাল স্পাইনেও সমস্যা আছে। এখন জেনে নেওয়া যাক শিরদাঁড়া বা মেরুদণ্ডে কী কী সমস্যা বেশি ভোগায়।
নার্ভ বা স্পাইনাল কর্ডের উপরে অতিরিক্ত চাপ পড়াই হল যাবতীয় সমস্যার কারণ। ব্যথা যখন কোমর থেকে পায়ের দিকে যায়, তখন সায়াটিকা বলা হয়। নিউরোসার্জনরা বলছেন, ঘাড়ে-কোমরে স্পন্ডিলোসিস, শিরদাঁড়ায় স্লিপড ডিস্কের সমস্যা এখনকার দিনে বেশি হচ্ছে। তাছাড়া স্পাইনার কর্ড টিউমার বা টিবি-র কারণেও মারাত্মক ব্যথা হয়।
জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককের স্পাইনাল কর্ডের টেস্ট হয়েছে। তাতে সামান্য সমস্যা ধরা পড়েছে। ডাক্তরাবাবুরা বলছেন, অনেক সময় দেখা যায় বসে থাকলে কোনও সমস্যা নেই, কিন্তু উঠে হাঁটতে গেলেই ব্যথা শুরু হয়। কখনও ঘাড় থেকে ব্যথা নামে কোমরের দিকে, আবার কখনও কোমর থেকে পায়ের দিকে। মনে হয় ঝনঝন করে উঠল শিরদাঁড়া। নিউরোলজিক্যাল পেন কেন হচ্ছে তা চেকআপ করিয়ে নেওয়া খুব জরুরি।
শিরদাঁড়ার হাড়গুলি পরপর স্তরে-স্তরে সাজানো থাকে। এর ফাঁকে থাকে ডিস্ক। কম বয়সে তা জেলির মতো থাকে, ফ্লুয়িড বা জলীয় ভাগ অনেক বেশি। এগুলো শক অ্যাবজর্বার হিসেবে কাজ করে। বয়স বাড়লে ফ্লুইডের পরিমাণটা কমতে থাকে। অর্থাৎ জেলির মতো অংশটা শুকোতে থাকে। ফলে হাড়ে হাড়ে ঘষা লাগতে থাকে। এই ঘষা লাগার ফলে হাড়ে ক্ষয় হতে শুরু করে। তখন এই অবস্থাকে ডাক্তারি ভাষায় বলে হাড়ের ডিজেনারেটিভ চেঞ্জ। ডিস্কগুলি শুকিয়ে এলে হাড়গুলো একে অন্যের কাছে চলে আসে এবং দেহের উচ্চতা কমে যায়। তখন রোগী ব্যথায় কুঁজো হয়ে যায় বা মনে হয় শিরদাঁড়া বেঁকে গেছে।
যদি দেখা যায় শিরদাঁড়া বা স্পাইনাল কর্ডে বেশি চাপ পড়ছে তাহলে যে ব্যথা শুরু হয় তাকে র্যাডিকিউলোপ্যাথি বলে। এক্ষেত্রে দেখা যায়, ঘাড় থেকে কোমরে ও হাতে ব্যথা নেমেছে, অথবা ঝিনঝিনে ব্যথা কোমর থেকে পায়ে নামছে। নার্ভ যতটা অংশে ছড়িয়ে আছে, ততখানি জুড়েই ব্যথা হয়। অতিরিক্ত ওজন, এক নাগাড়ে কম্পিউটারে কাজ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা না থেমে গাড়ি চালানো, ভুল ভঙ্গিমায় বসা, কুঁজো হয়ে হাঁটা— এমন নানা কারণে পিঠে ব্যথা শুরু হতে পারে। তাছাড়া শরীরচর্চার অভাব, শরীরে নানারকম কোমর্বিডিটি থাকলেও এই ধরনের ব্যথা হতে পারে।
স্পন্ডিলাইটিসের (spondylitis) সমস্যা দেখা দিলে প্রথমেই কোমর এবং তার আশপাশে ব্যথা শুরু হবে। সবথেকে বেশি এই সমস্যা দেখা দেয় সকালের দিকে। মাথা ঘোরা, গা বমিভাব এবং ঘাড়ের যন্ত্রণাও এর লক্ষণ। স্পন্ডিলাইটিসের সমস্যা দেখা দিলে শিরদাঁড়া এবং তার আশেপাশে ব্যথা, যন্ত্রণা দেখা দেয়। শিরদাঁড়ায় লিগামেন্টে টান ধরার সমস্যা দেখা দিতে পারে। কোমর এবং ঘাড়ের জয়েন্টেও ব্যথা, যন্ত্রণা হতে পারে স্পন্ডিলাইটিসের কারণে। এই ব্যথা কমাতে হলে রোজ ব্যায়াম করতে হবে। শরীরচর্চা করলেই এই রোগের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। বিশেষ করে কিছু স্ট্রেচিং। যোগাসন করেও এই রোগ দূর করা সম্ভব। ঘাড় বা পিঠ বেঁকিয়ে দীর্ঘক্ষণ বসার অভ্যাস বদলাতে হবে। পেশার তাগিদে তেমন ভাবে বসতে হলে মাঝে মাঝেই উঠে হাঁটাহাঁটি করতে হবে। চোখ ও কম্পিউটারের স্ক্রিন যেন সোজাসুজি থাকে সেই ব্যবস্থা করুন। আকুপাংচারের চিকিৎসায় আরাম পাওয়া যায় অনেকটাই।