
শেষ আপডেট: 9 March 2024 19:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একেবারেই লাইপোসাকশন নয়, তাতে এক লাফে বেশি ওজন কমে না মোটেও। এদিকে জিমেও যাননি বছর আঠারোর তরুণী, ডায়েটও করেননি সেভাবে। কিন্তু তাও ১২০ কেজি থেকে তাঁর ওজন ৪০ কেজি কমে গেছে। সেই সঙ্গেই কমেছে ডায়বেটিস, পলিসিস্টিক ওভারি-সহ আনুষঙ্গিক আরও নানা রোগ।
দিল্লির ইন্দ্রপ্রস্থ অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসা করাচ্ছিলেন তরুণী। জানিয়েছেন, লকডাউনের সময়েই ৩০ কেজি ওজন বেড়ে যায়। তারপর ধীরে ধীরে তা বাড়তেই থাকে। ধরা পড়ে পিসিওএস, লেভেল ছাড়িয়ে যায় সুগার। কাজকর্ম করতে, হাঁটাচলা করতে কষ্ট হত। আরও নানা রোগ বাসা বাঁধতে শুরু করেছিল শরীরে। আর্থ্রাইটিসের উপসর্গও দেখা দিচ্ছিল। ডাক্তার দেখাতে তাঁরা বেরিয়াট্রিক সার্জারির পরামর্শ দেন। আর তাতেই বিজ্ঞানসম্মতভাবে ৪০ কেজি ওজন কমে যায় খুব তাড়াতাড়ি।
কী এই বেরিয়াট্রিক সার্জারি?
লাইপোসাকশন ও বেরিয়াট্রিকের মধ্যে পার্থক্য আছে। লাইপোসাকশন শরীরের নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় করা হয়। আসলে প্লাস্টিক সার্জারি। বগলের ঠিক নীচের জায়গা, থাই, তলপেট, নিতম্ব ইত্যাদি জায়গায় অতিরিক্ত মেদ জমলে যেখানে সার্জারি না করে সাকশন করে ফ্যাট বের করে দেওয়া হয়। লাইপোসাকশনে ওজন সেভাবে কমে না, দেহের আকার-আকৃতিকে আরও সুন্দর করে তোলার জন্য নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় মেদের স্তরকে ভেঙে ফেলা হয়।
বেরিয়াট্রিকে সারা শরীরের ওজন কমানো হয়। গ্যাসট্রিক বাইপাসে প্রায় ৪৬ শতাংশ ওজন কমে, আরওয়াইজিবি সার্জারিতে আরও বেশি প্রায় ৬০ শতাংশ।
বেরিয়াট্রিক অনেক রকমের হয়। গ্যাসট্রিক রেসট্রিকটিভ সার্জারি (Gastric Restrictive Surgery), ম্যালঅ্যাবসর্পটিভ বেরিয়াট্রিক সার্জারি, আরওয়াইজিবি (RYGB) গ্যাসট্রিক স্লিভ রিসেকশন ইত্যাদি। রেসট্রিকটিভ মানে হল রেসট্রিকশন, অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণে রাখা। অর্থাৎ পাকস্থলীর আকার কমিয়ে দিয়ে তার খাবার ধারণ ক্ষমতাকে একটা সীমার মধ্যে নিয়ে চলে আসা। এটা দুভাবে হতে পারে—পাকস্থলীকে দুটো ভাগে ভাগ করে দেওয়া হয়, যার মধ্যে একটা ভাগ হয় অতি ক্ষুদ্র, ২.৫ আউন্স মতো ওজন নিতে পারবে। দ্বিতীয় পদ্ধতিতে পাকস্থলীর ৮০ শতাংশ মতো বাদ দিয়ে দেওয়া হয়, ফলে আকার কমে যায়, ধারণ ক্ষমতাও কমে যায়। তখন বেশি খাওয়া যায় না। সার্জারির আগে পাকস্থলীর যা ধারণ ক্ষমতা থাকে পরে সেটা এক চতুর্থাংশে এসে ঠেকে। তখন একটু খেলেই পেট ভর্তি হয়ে যায়, বেশি খাওয়া যায় না।
তাছাড়া অনেক সময় পাকস্থলীকে ছোট করে তার সঙ্গে ক্ষুদ্রান্তের একটা ছোট অংশ বাইপাস করে জুড়ে দেওয়া হয়। এর কাজ হয় দুটো—এক, কম খাবার পাকস্থলীতে ঢোকে, দুই—ক্ষুদ্রান্তের ছোট পাইপে কম পুষ্টি উপাদানের শোষণ হয়। এই ধরনের সার্জারিতে খুব দ্রুত ওজন কমতে থাকে।
ডাক্তারবাবুরা বলেন, বেরিয়াট্রিক সার্জারির একটা সুবিধা হল, স্থূলত্ব কমার কারণে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে। তাছাড়া ওভারি ক্যানসার, ব্রেস্ট ক্যানসার, লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি অনেক কমে যায়। তবে সার্জারির পরে লাইফস্টাইল ম্যানেজমেন্ট বিশেষ করে দরকার। বেশিরভাগ মানুষের ধারণা বেরিয়াট্রিক সার্জারি করালেই রাতারাতি রোগা হয়ে যায়। কিন্তু তা নয়। এই অপারেশনের পরে অনেক নিয়ম মেনে চলার সঙ্গে সঙ্গে পুষ্টিকর খাবার খেতে হয়। অনেকে খাওয়ার ব্যাপারে গুরুত্ব দেন না। এ ক্ষেত্রে অপুষ্টি জনিত মারাত্মক রোগের শিকার হতে হয়। সিভিয়ার ম্যালনিউট্রিশন হতে পারে। আবার অতিরিক্ত খেয়ে ফেললে বমি হতে পারে। সঠিক সময় খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম আর ডাক্তারের পরামর্শ মেনে শরীরচর্চা, এইসব নিয়ম মেনে চললে ওজন ধরে রাখা সম্ভব।