
শেষ আপডেট: 1 February 2021 11:00
সাধারণত আমলকি খাওয়া হয়ে গেলেই, অনেকে বীজটা ফেলে দেন। তবে এবার থেকে জমিয়ে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ! সবুজ রসালো ফলের মতোই বীজটিও পুষ্টিগুণে ভরপুর। এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা ত্বকের নানা সমস্যা মেটাতে সাহায্য করে। আবার এই বীজ মিহিদানার মতো গুঁড়ো করে, জলের সঙ্গে মিশিয়ে অনেকে খান। জানেন কি ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ, কিংবা অতিরিক্ত সাদাস্রাবের সমস্যা থাকলে, তা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করবে আমলকির বীজ!
আমলকির গুণাবলি
আমলকির মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি। একটা কমলালেবুর তুলনায় ২০ গুণ বেশি পরিমাণ ভিটামিন সি থাকে এতে। তাছাড়া এর মধ্যে কিছু ফ্লেবোনল কেমিক্যাল থাকে। যা স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এর মধ্যে ক্যালোরি এবং ফ্যাটের পরিমাণ অত্যন্ত কম থাকে। আমলকিতে ভিটামিন বি৫, বি৬, কপার, পটাশিয়াম থাকায়, শরীর সার্বিকভাবে সুস্থ রাখতেও সাহায্য করে এটি।
আমলকি সাদাস্রাবের সমস্যা মেটাতে কীভাবে সাহায্য করবে
সাদাস্রাব বা লিউকোরিয়া গন্ধহীন, থকথকে, সাদা, হালকা হলুদ রঙের একধরনের ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ। সাধারণত এটি নির্গত হয়ই। সেটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নির্গত হতে দেখা যায়। সেটা ইনফেকশনের কারণে হতে পারে। অথবা ইস্ট্রোজেনের ভারসাম্য নষ্ট হলেও এটি হয়। কখনও কখনও দেখা যায়, ইনফেকশন হলে একেবারেই বের হয় না, আবার মাঝে মাঝে বেড়েও যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আমলকির বীজ ভ্যাজাইনাল ইনফেকশন কমাতে ভীষণ সাহায্য করে। সেক্ষেত্রে একটানা এক সপ্তাহ খেলে উপকার পাবেন বলে জানাচ্ছেন তাঁরা।
সাদাস্রাবের সমস্যা কাটাতে কীভাবে খাওয়া উচিত এটা
বিশেষজ্ঞদের মতে, নানাভাবে প্রতিদিন আমলকি খেতে পারেন। যেমন কাঁচা ফল নুন ছাড়া শুধু শুধু খেতে পারেন। আবার অনেকেই আমলকির জুস তৈরি করে খান। কিন্তু অতিরিক্ত ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ বা সাদাস্রাবের সমস্যা থাকলে সেক্ষেত্রে বীজটা গুঁড়ো করেই খেতে বলছেন ডাক্তাররা।
বাজারে বিভিন্ন ওষুধের দোকানে খোঁজ করলেই পেতে পারেন। তাছাড়া বাড়িতেই সহজে বানিয়ে ফেলতে পারেন এই বীজের গুঁড়ো। ব্লেন্ডারে শুকনো বীজ দিয়ে একেবারে মিহিদানার মতো গুঁড়ো করে নিন। তারপর মধু, বা গুড়ের সঙ্গে মিশিয়ে সেটা একটি এয়ারটাইট জারে রেখে দিন। তারপর ঈষদুষ্ণ জলে এই মিশ্রণটি মিশিয়ে রোজ সকালে খালি পেটে খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
সতর্কতা: বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এর পরেও সমস্যা না কমলে ডাক্তারদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তাছাড়াও প্রেগনেন্সির সময়, কনসিভ করার চেষ্টা করলে, সদ্য সার্জারি হলে, তাঁদের খেতে মানা করছেন বিশেষজ্ঞরা।