
শেষ আপডেট: 20 July 2023 12:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সারা বিশ্বে ২০০০ সাল থেকেই অ্যালঝাইমার্স (Alzheimer’s) রোগটি দ্রুত হারে ছড়িয়ে পড়ছে। ভারতে ২০০৫ অবধি অ্যালঝাইমার্সকে আলাদা ভাবে চিহ্নিত করা হয়নি। ডিপ্রেশন, স্কিৎজোফ্রেনিয়া, বাই-পোলার ডিসঅর্ডার, পারকিনসন্স এইরকম বহু রোগের সঙ্গে অ্যালঝাইমার্স (Alzheimer’s) রোগীদেরও ‘পাগল’ বলে চিহ্নিত করা হত। কিন্তু এখন অ্যালঝাইমার্সের মতো ভয়ঙ্কর মানসিক ব্যধি নিয়ে নানারকম গবেষণা চলছে। এই রোগ সারানো যেতে পারে এমন থেরাপিও নাকি বের করে ফেলেছেন চিকিৎসক-গবেষকরা। তার থেকেও বড় কথা হল অ্যালঝাইমার্স নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে এমন ওষুধও নাকি তৈরি হয়েছে।
মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি এলি লিলি একধরনের মনোক্লোনাল অ্য়ান্টিবডি তৈরি করেছে যার নাম ডোনানেমাব (Donanemab)। বিজ্ঞানীদের দাবি, অ্যালঝাইমার্স (Alzheimer’s) গোড়ার দিকে ধরা পড়লে এই ওষুধে অনেকটাই কাজ দেবে। রোগীদের উপর ক্লিনিকাল ট্রায়াল করে নাকি ভাল ফল পাওয়া গেছে বলে দাবি এলি লিলি-র গবেষকদের।

মানুষের মস্তিষ্ক রাসায়নিক বা কেমিক্যালে ভরা। ধীরে ধীরে মস্তিস্কের সেলগুলি নষ্ট হতে থাকে। তখন কোনও মানুষ বা জায়গা চিনতে পারা যায় না। মস্তিস্কের সংরক্ষণ প্রণালী নষ্ট হয়ে যায়। তখন দৈনন্দিন জীবনে রোজকার ঘটনাগুলোও মানুষ ভুলতে শুরু করে। অতীত পুরোপুরি ঝাপসা হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, অনেক সময় মস্তিষ্কে অতিরিক্ত কিছু প্রোটিন জমাট বাঁধলে তার থেকে হয় অ্যালঝাইমার্স রোগ (Alzheimer’s disease)। এর জেরে বয়স বাড়ার সঙ্গে কমতে থাকে প্রতিরোধশক্তি। ধীরে ধীরে চলে যেতে থাকে স্মৃতিশক্তি।
এর পেছনে অনেক কারণও আছে। রাতে কম ঘুম হলে, ইনসমনিয়া বা স্লিপিং ডিসঅর্ডার থাকলে মস্তিষ্কে তার প্রভাব পড়ে। সারাদিন কাজের পরে রাতে মস্তিষ্ক বিশ্রাম করে, নিজের মেরামতির কাজ সারে। সে সময় যদি মস্তিষ্ককে সজাগ করে রাখা হয় তাহলে সেই মেরামতির কাজ বাধা পায়। সারাদিনের টক্সিন পরিষ্কার করার বদলে মস্তিষ্কেই ময়লা জমতে থাকে। অনেকের রাতের দিকে রক্তচাপ বেড়ে যায়, একে ডাক্তারি ভাষায় বলে ‘রিভার্স ডিপিং’, তেমন হলে মস্তিষ্কে এর প্রভাব পড়ে। তখন স্মৃতিনাশের সমস্যা দেখা দেয়। যার পরিণাম অ্যালঝাইমার্স।
প্রোডাকটিভিটি বাড়াতে নজর দিন আপনার কাজের জায়গার দিকে, টিপস দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ১৭৩৬ জন রোগীর উপরে পরীক্ষা করা হয়েছে। দেখা গেছে এক বছরের মধ্যে ৭২ শতাংশ রোগী অনেকটাই সেরে উঠেছেন। অ্যালঝাইমার্স জটিল পর্যায়ে পৌঁছনোর আগেই রোগ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।