দ্য ওয়াল ব্যুরো: সদ্য বিয়ে হয়েছে আইটি-র ঝকঝকে তরুণ রণিতের। তার আগে কয়েক মাসের ডেটিং, চ্যাটিং সবই চলেছে। ছন্দপতন হল বিয়ের পর স্ত্রীর সঙ্গে প্রথম ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে। চূড়ান্ত লজ্জা, অপমান, আত্মসম্মান তছনছ করে পরের দিনই স্ত্রী পত্রপাঠ বাপের বাড়ি। ব্যাপারটা কী? আত্মীয়দের কাছেও মুখে কুলুপ। মানসিক অবসাদে অফিসের কাজকর্মও শিকেয়, অতএব বসের মুখ ঝামটা। শেষে চিকিৎসকের কাছে এসে পরিত্রাণ মিলল। রণিত ইরেকটাইল ডিসফাংশনের (Erectile Dysfunction)শিকার।
এই রোগ বিরল নয়, বরং বর্তমান সেডেন্টারি লাইফস্টাইলে এই সমস্যায় ভুগছেন অসংখ্য পুরুষ। উপযুক্ত সমাধানের জন্য কেউ সাহস করে সমস্যার কথা প্রকাশ্যে আনেন, কেউ আবার পুরুষত্বে ঘা লাগার আশঙ্কায় মুখ বুজে বাজার চলতি নানা পিলের উপর ভরসা রাখেন। তাতে ফল হয় উল্টোটাই। ইরেকটাইল ডিসফাংশন শুধু যৌনজীবনকে ব্যাহত করে তাই নয়, জন্ম দেয় গুরুতর মানসিক সমস্যার। মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে স্নায়ু।
ওষুধে নয়, যৌন সমস্যা মিটবে ব্যায়ামে! এমনটাই দাবি বিশেষজ্ঞদের। ইরেকটাইল ডিসফাংশনের থেকে মুক্তি পেতে সিডেনাফিলের (যার ব্র্যান্ড নাম ভায়গ্রা) থেকেও বেশি কার্যকর এবং নিরাপদ উপায় ব্যায়াম। সপ্তাহে চার দিন মাত্র ৪০ মিনিটের ব্যায়াম (কার্ডিও বা অ্যারোবিক) সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে অচিরেই।
কেন হয় ইরেকটাইল ডিসফাংশন?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরেকটাইল ডিসফাংশন বা পুরুষাঙ্গের শিথিলতায় ভোগেন এমন পুরুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। সেক্স লাইফে মারাত্মক ভাবে ক্ষতি করে এই সমস্যা। সঙ্গমের সময় বা হস্তমৈথুনের সময় চূড়ান্ত উত্তেজন মুহূর্তে যৌন হরমোন টেস্টোস্টেরনের ক্ষরণের ফলে পুরুষাঙ্গ শক্ত হয়ে ওঠে। পুরুষাঙ্গের ধমনীতে দ্রুত রক্তসঞ্চালনের ফলে তা কার্যক্ষম হয়। কোনওভাবে যদি পুরুষাঙ্গ তার কর্মক্ষমতা হারিয়ে শিথিল ও দুর্বল হয়ে যায় তাকে বলে ইরেকটাইল ডিসফাংশন।
এই রোগের পিছনে রয়েছে নানা কারণ। প্রথমত পুরুষাঙ্গের ধমনীর ভিতর কোনওভাবে যদি রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় তাহলে সেটা আর ঋজু এবং কর্মক্ষম থাকে না। অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস (Atherosclerosis) রোগে এমনটা দেখা যায়।
অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিসের ফলে ধমনী অনেক সরু হয়ে যায় এবং তার দেওয়ালে হাল্কা প্রাচীর তৈরি হয় যা রক্তপ্রবাহে বাধা দেয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই রোগ হলে পুরুষাঙ্গের ধমনীতে রক্ত প্রবাহ অনেক কমে যায় এবং পুরুষাঙ্গ তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারায়, শিথিল ও দুর্বল হয়ে পড়ে।
অতিরিক্ত ওজন বা ওবেসিটি, শরীরচর্চার অভাব, মানসিক অবসাদ, মদ ও সিগারেটের নেশা— নানা কারণে দেখা দিতে পারে এই রোগ।
ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপও ইরেকটাইল ডিসফাংশনের অন্যতম কারণ।
বিশেষজ্ঞেরা পারকিনসন রোগকেও ইরেকটাইল ডিসফাংশনের কারণ বলে ধরেছেন। তা ছাড়া, ইনসমনিয়া, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, যৌনাঙ্গের কোনও অস্ত্রোপচারের কারণেও পুরুষাঙ্গ শিথিল হতে পারে।
সমীক্ষা বলছে, শরীরচর্চায় অনাসক্ত এমন ২৩ শতাংশ মানুষ ইরেকটাইল ডিসফাংশনের শিকার। এ ছাড়া, ২৩-৪০ শতাংশ ওবেসিটি, ৪০ শতাংশ উচ্চ রক্তচাপজনিত কারণ, ৭৫ শতাংশ কার্ডিওভাসকুলার রোগে পুরুষাঙ্গ শিথিল হয়।
তাহলে সমস্যা সমাধানের উপায় কী?
সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সমাধান হল ব্যায়াম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্মক্ষম থাকুন। কার্ডিওভাসকুলার এক্সারসাইজের ফলে হার্টের ক্ষমতা বাড়বে। সেক্সুয়াল পারফরম্যান্স বাড়াতে দিনে অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করুন। হাঁটা, দৌড়নো, সাঁতার— যে ভাবেই হোক না কেন, হার্টের ক্ষমতা বাড়লে বেডরুমেও আপনি মাস্টার স্ট্রোক দিতে পারবেন।
আমেরিকার বিজ্ঞানীরা বলছে, এই রোগের মুক্তি মিলতে পারে কেগাল এক্সারসাইজের মাধ্যমে। এই ব্যায়ামে ৪০% ক্ষেত্রে ইরেকটাইল ডিসফাংশন সারিয়ে ফেলা সম্ভব।
কেগাল এক্সারসাইস হল পেলভিকের নীচের দিকে, পেলভিক ফ্লোর মাসলের ব্যায়াম যা পেশিকে সুগঠিত করা যায়। দিনে অন্তত তিনবার কিছুক্ষণ এই ধরনের ম্যাসাজের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর যৌনজীবন লাভ করা যায়। এই ব্যায়াম পুরুষাঙ্গে রক্ত সঞ্চালন অনেক বাড়িয়ে দেয়। প্রোস্টেট ক্যানসারের সম্ভাবনা কমায়।
ব্যায়াম করুন নিয়মিত, স্ট্রেস কমান এবং নেশাকে বলুন গুডবাই, তাহলেই আপনার যৌনজীবন হবে স্বাস্থ্যকর।