ব্রিটেনের ওয়ালসল এলাকায় পাঞ্জাবি তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে তোলপাড় শিখ সমাজে। পুলিশের দাবি, ঘটনাটি জাতিগত বিদ্বেষমূলক হামলা। অভিযুক্ত শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তির খোঁজে তল্লাশি চলছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 27 October 2025 08:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্রিটেনে ফের জাতিগত বিদ্বেষের শিকার ভারতীয় তরুণী। উত্তরাঞ্চলে ২০ বছরের ওই ভারত বংশোদ্ভূতকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশের দাবি, ইতিমধ্যেই এক শ্বেতাঙ্গ সন্দেহভাজনের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছেন তাঁরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় ওয়ালসলের পার্ক হল এলাকায় রাস্তায় এক তরুণীকে বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। তাঁদের কাছে তরুণী জানান, জাতপাত তুলে তাঁকে নির্মমভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে। এরপরই পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজে দেখতে পায়, এক শ্বেতাঙ্গ এই কাজ করেছেন। তাঁকে খুঁজে পেতে তল্লাশি শুরু হয়েছে, দিকে দিকে পড়েছে পোস্টার।
ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশের ডিটেকটিভ সুপারিনটেনডেন্ট রোনান টাইরার রবিবার জানিয়েছেন, খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। একাধিক টিম প্রমাণ সংগ্রহ করছে ও অভিযুক্তের প্রোফাইল তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, “যারা শনিবার রাতে ওই এলাকায় সন্দেহজনক কিছু দেখেছেন, যাঁদের বাড়িতে ড্যাশক্যাম বা সিসিটিভি আছে, তাঁরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। যেকোনও তথ্যই এই তদন্তে বড় অগ্রগতি আনতে পারে।”
পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, অভিযুক্ত একজন শ্বেতাঙ্গ পুরুষ, বয়স আনুমানিক ত্রিশের কোঠায়। তাঁর ছোট চুল এবং কালো পোশাক পরা অবস্থায় দেখা গিয়েছে। স্থানীয় সম্প্রদায়ের দাবি, নির্যাতিতা তরুণী পাঞ্জাবি। তাঁরা জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহ আগেও ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসেরই ওল্ডবুরি এলাকায় এক ব্রিটিশ শিখ তরুণীকে একইভাবে জাতিগত বিদ্বেষমূলক ধর্ষণ করা হয়েছিল।
তবে এই দুই ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ডিটেকটিভ সুপারিনটেনডেন্ট টাইরার। ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশের পাবলিক প্রোটেকশন ইউনিট, স্থানীয় থানার আধিকারিক এবং ফরেনসিক টিম মিলিতভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। ইতিমধ্যেই সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও সিসিটিভি পর্যালোচনার কাজ চলছে।
ওয়ালসল পুলিশের চিফ সুপারিনটেনডেন্ট ফিল ডলবি বলেন, “ওয়ালসলে অনেক ধরনের মানুষ থাকেন। এই ভয়াবহ ঘটনার জেরে সমাজে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা আমরা বুঝতে পারছি। তাই আগামী কয়েক দিনে এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি আরও বাড়ানো হবে।”
শিখ ফেডারেশন ইউকের দাবি, “ওয়ালসলের এই ঘটনায় আক্রান্ত তরুণী পাঞ্জাবি বংশোদ্ভূত। অভিযুক্ত না কি তাঁর ঘরের দরজা ভেঙে ঢুকে হামলা চালায়। এর আগে ওল্ডবুরির ঘটনায়ও একই ধরণের অভিযোগ উঠেছিল। গত দুই মাসে এমন দুটি জাতিগত বিদ্বেষমূলক ধর্ষণের ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।”
ওল্ডবুরি ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হলেও পরে তাদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। এখন ওয়ালসল কাণ্ডে ব্রিটেনের পাঞ্জাবি ও শিখ সমাজে প্রবল ক্ষোভ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।