গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের (US Israel) যৌথ হানায় ইরানের (Iran) সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-এর (Ayatolla Khamenei) মৃত্যুর পর এবার সরাসরি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে (Donald Trump) নিশানা করল তেহরান (Tehran)।
.jpeg.webp)
ট্রাম্প ও আলি লারিজানি
শেষ আপডেট: 8 March 2026 13:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের (US Israel) যৌথ হানায় ইরানের (Iran) সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-এর (Ayatolla Khamenei) মৃত্যুর পর এবার সরাসরি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে (Donald Trump) নিশানা করল তেহরান (Tehran)। রবিবার ইরানের নিরাপত্তা প্রধান তথা প্রাক্তন রেভলিউশনারি গার্ডস (IRGC) প্রধান আলি লারিজানি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “খামেনেই-এর রক্তের বদলা আমরা নেবই। ট্রাম্পকে এর চরম মূল্য চোকাতে হবে।”
‘পারলে ঠেকান’, প্রতিবেশীদের হুঁশিয়ারি লারিজানির
লারিজানি কেবল ট্রাম্পকে হুমকি দিয়েই ক্ষান্ত হননি, ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলিকেও কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, হয় ওই দেশগুলি নিজেদের মাটি ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার হাতে ব্যবহার হওয়া থেকে আটাক, নয়তো ইরান নিজেই ব্যবস্থা নেবে। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই বেশ কিছু মার্কিন সেনাকে বন্দি করেছে ইরান। লারিজানির কথায়, “আমেরিকা মনে করেছিল ইরানের অবস্থা ভেনেজুয়েলার মতো হবে— হামলা চালাবে আর দখল নেবে। কিন্তু ওরা এখন ফাঁদে পড়েছে।”
‘কে এই লারিজানি? চিনিই না!’: পাল্টা ট্রাম্প
ইরানি নিরাপত্তা প্রধানের এই হুঁশিয়ারিকে অবশ্য পাত্তাই দিতে চাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তাঁর চেনা তাচ্ছিল্যভরা মন্তব্য করে বলেন, “উনি কী বলছেন আমি জানি না, আর উনি কে তাও আমি জানি না। ওঁর ব্যাপারে আমার বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই।” ট্রাম্পের দাবি, লারিজানি ও তাঁর বাহিনী ইতিমধ্যেই পরাজিত। ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর (Benjamin Netanyahu) সুরেই ট্রাম্পের যুক্তি, ইরান এক চরম বিপদ হয়ে উঠছিল, তাই আগেভাগেই ‘প্রি-এম্পটিভ’ হামলা চালানো হয়েছে।
যুদ্ধের সপ্তম দিন: মৃত্যুমিছিল ও ধ্বংসলীলা
গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে রক্তক্ষয় বেড়েই চলেছে। আমেরিকা ও ইজরায়েলি হামলায় এখনও পর্যন্ত ইরানে খামেনেই-সহ ১০০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। জবাবে ইজরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান। এই পাল্টাপাল্টি লড়াইয়ে ইজরায়েলে ডজনখানেক এবং অন্তত ছয় জন মার্কিন সেনার প্রাণহানি ঘটেছে।
যুদ্ধের এই জটিল মোড়ে লারিজানির মতো প্রভাবশালী নেতার মন্তব্য এবং ট্রাম্পের পাল্টা মেজাজ বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, আরব দুনিয়ার এই অস্থিরতা সহজে শান্ত হওয়ার নয়।