ইরানের মিনাবে মেয়েদের স্কুলে ভয়াবহ হামলা! ১৫০-র বেশি মৃত্যুর দাবি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্ক।

ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 8 March 2026 09:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা উত্তেজনার আবহে এবার তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে একটি ভয়াবহ হামলার ঘটনা। দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে মেয়েদের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় ১৫০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই ছাত্রী। এই ঘটনার পরই দোষারোপের পালা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
এই হামলার জন্য সরাসরি ইরানকেই দায়ী করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। শনিবার ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের ধারণা, এটি ইরানই করেছে। কারণ তাদের অস্ত্র খুব নিখুঁত নয়, তাদের গোলাবারুদের কোনও নির্ভুলতা নেই।” তবে এখনও পর্যন্ত এই হামলার দায় আনুষ্ঠানিকভাবে কেউই স্বীকার করেনি। আমেরিকা বা ইজরায়েল— কোনও দেশই আক্রমণের দায়িত্ব নেয়নি। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো ঘটনাটি এখনও তদন্তের অধীনে রয়েছে। অন্য দিকে ইরান পাল্টা অভিযোগ তুলে এই হামলার জন্য সরাসরি আমেরিকাকেই দায়ী করেছে। তেহরানের দাবি, এই আক্রমণের পিছনে ওয়াশিংটনের ভূমিকা রয়েছে।
ফরাসি সংবাদসংস্থা Agence France-Presse (এএফপি) জানিয়েছে, তাদের প্রতিনিধিরা এখনও ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারেননি। ফলে হামলার প্রকৃত পরিস্থিতি বা মৃত্যুর সংখ্যা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এদিকে ইরানের Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) শুক্রবার দাবি করেছে, তারা সংযুক্ত আরব আমিরশাহির একটি মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তাদের অভিযোগ, মিনাবের ওই স্কুলে হামলা চালানো হয়েছিল সেই ঘাঁটি থেকেই।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর United States Department of Defense, যা সাধারণভাবে পেন্টাগন নামে পরিচিত। একই সঙ্গে মার্কিন বিদেশমন্ত্রী Marco Rubio স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আমেরিকা ইচ্ছাকৃত ভাবে কোনও স্কুলকে লক্ষ্য করে হামলা করবে না।”
অন্যদিকে মার্কিন সংবাদপত্র The New York Times একটি ভিন্ন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সময় মার্কিন বাহিনী Strait of Hormuz অঞ্চলের কাছে নৌবাহিনীর একটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছিল। সেখানে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডসের একটি ঘাঁটিও রয়েছে। সেই হামলার সময়েই ভুলবশত স্কুলটিতে আঘাত লাগতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
সংবাদপত্রটির বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, হামলার সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত পোস্ট, প্রত্যক্ষদর্শীদের তোলা ছবি ও ভিডিয়ো— সব কিছু মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, স্কুলে আঘাত লাগার মুহূর্তে কাছাকাছি এলাকাতেই রেভলিউশনারি গার্ডসের নৌঘাঁটিতে হামলা হচ্ছিল।
সব মিলিয়ে মিনাবের এই মর্মান্তিক হামলা ঘিরে এখনও বহু প্রশ্নের উত্তর অমীমাংসিত। কারা এই আক্রমণের জন্য দায়ী, তা নিয়ে শুরু হয়েছে দায় ঠেলাঠেলি। পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে এই ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা।