পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব এবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে। দুবাই মারিনার একটি বহুতলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়তেই আতঙ্ক ছড়ায়।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 8 March 2026 09:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ার চলা সংঘাতের আবহে এবার সরাসরি তার প্রভাব পড়ল সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে। শনিবার দুবাই মারিনার (Dubai Marina) একটি বহুতলের উপর আচমকা আছড়ে পড়ে ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ। ঘটনার পর বহুতলের একাংশ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। তবে স্বস্তির বিষয়, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত হতাহতের কোনও খবর মেলেনি। আমিরশাহীর বায়ুসেনা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দিতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং পুরো এলাকাটি নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে।
আমিরশাহীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, ইরানের অন্তত ১৬টি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ১২১টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৫টি মিসাইল আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, আর একটি মিসাইল সমুদ্রে পড়ে। ড্রোনগুলির ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। মোট ১২১টির মধ্যে ১১৯টি ড্রোন মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দেন আরব সেনারা। শনিবার সকাল থেকেই দুবাই ও আবু ধাবির আকাশে একাধিক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, আকাশেই ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার ফলেই এই বিস্ফোরণের শব্দ তৈরি হয়েছিল।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই আবু ধাবি টিভির মাধ্যমে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন আমিরশাহীর প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এই সঙ্কট কাটিয়ে দেশ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দেন, দুবাইসহ গোটা দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় সেনাবাহিনী যে কোনও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
এদিকে, প্রতিবেশী দেশগুলিতে হামলার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি জানান, ইরান নিজে থেকে কোনও প্রতিবেশী দেশের উপর হামলা চালাতে চায় না। তবে অন্য কোনও দেশ যদি ইরানের উপর আক্রমণ করে, তা হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘শর্তহীন আত্মসমর্পণ’-এর দাবি সরাসরি নস্যাৎ করে দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে বিমান হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজ়রায়েল। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে পরিচিত ওই অভিযানে তেহরান-সহ একাধিক শহরে আঘাত হানা হয়। এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলী খামেনেই এবং তাঁর পরিবারের কয়েক জন সদস্য নিহত হন। পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটানোর লক্ষ্যেই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। এরপর থেকেই পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি দ্রুত অস্থির হয়ে উঠেছে।