শনিবারের ঘটনার পর আওয়ামী লিগ অভিযোগ করেছে, মহম্মদ ইউনুসের (Muhammad Yunus) অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারের কোনও ফারাক নেই। শনিবারই দলের ভার্চুয়াল সভায় আওয়ামী লিগ নেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের অংশ ধার করে বলেন, 'আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবা না।'

শেষ আপডেট: 7 March 2026 18:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার ঢাকায় ধানমন্ডিতে (Dhanmundi) শেখ মুজিবুর রহমানের (Sheikh Mujibur Rahman) বাড়িতে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গেলে চারজনকে পুলিশ আটক করেছে। পরে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
ধৃতদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। তবে ধৃত ব্যক্তিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লিগের (Awami Leauge) নেতা-কর্মী-সমর্থক কিনা তা স্পষ্ট করেনি পুলিশ। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, স্রেফ ফুল মালা নিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়ার অপরাধে কীভাবে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা হতে পারে?
এর আগে গত বছর ১৫ অগস্ট মুজিবুর রহমানের মৃত্যু দিনে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ধানমন্ডির ওই বাড়িতে গেলে এক রিকশ চালককে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ প্রথমে খুনের মামলা দিয়েছিল। পরে অবশ্য সেই মামলা প্রত্যাহার করা হয়।
শনিবারের ঘটনার পর আওয়ামী লিগ অভিযোগ করেছে, মহম্মদ ইউনুসের (Muhammad Yunus) অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারের কোনও ফারাক নেই। শনিবারই দলের ভার্চুয়াল সভায় আওয়ামী লিগ নেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের অংশ ধার করে বলেন, 'আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবা না।'
শনিবার ৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের ৫৫ তম বর্ষ উদযাপনের কর্মসূচি নিয়েছিল আওয়ামী লিগ। কার্যক্রম নিষিদ্ধ এই দলটির তরফে ঘোষণা করা হয়েছিল তারা ধানমন্ডি ৩২ এ বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে গিয়ে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চায়।
তবে শনিবার সে সুযোগ ছিল না বললেই চলে। শুক্রবার রাত থেকেই বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত ধানমন্ডির ওই বাড়ি ঘিরে নিশ্চিদ্র প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়। বাড়িটির যদিও চার ভাগের তিন ভাগেরই অস্তিত্ব নেই। ২০২৪ এর ৫ অগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের দিনে ধানমন্ডির বাড়ির হামলা হয়। গত বছর চার ও ৫ ফেব্রুয়ারি সেই বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয় উন্মত্ত জনতা। আগুনও ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই থেকে বাড়িটির ত্রিসীমানায় আর কাউকে ঘেষতে দেওয়া হচ্ছে না। তারপরও বিশেষ বিশেষ দিনে সেই ধ্বংসস্তূপেই শ্রদ্ধা জানাতে যান বহু মানুষ। সেই কারণে হেনস্থা হতে হয়েছে তাদের অনেককেই। বাদ যাননি মহিলারাও।
শনিবার ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলেন বেশ কিছু মানুষ। ১৯৭১ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু ঢাকার বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতা ও মুক্তির ডাক দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’
শেখ হাসিনা শনিবার দলের ভার্চুয়াল সভায় বলেন, ওই ভাষণের দিন কয়েক পর ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেও ৭ মার্চের ভাষণ ছিল লড়াইয়ের দিকনির্দেশনা।