গত ৭ মে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারত শুরু করে 'অপারেশন সিঁদুর' অভিযান। ২২ এপ্রিলের পহেলগাম জঙ্গি হামলার জবাবে ভারতীয় বাহিনী তখন পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে থাকা একাধিক জঙ্গি ঘাঁটিতে আঘাত হানে।

খওয়াজা আসিফ
শেষ আপডেট: 6 October 2025 17:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদীর কড়া সতর্কবার্তার কয়েকদিনের মধ্যেই পাল্টা সুরে চড়ালেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খওয়াজা আসিফ (Khawaja Asif)। তাঁর দাবি - একদিন ভারত তার নিজের যুদ্ধবিমানের ধ্বংসস্তূপের (Warplane Debris) নীচে চাপা পড়বে!
সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার ভারতের (India) পক্ষ থেকে পাকিস্তানকে (Pakistan) পরপর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সেনাপ্রধান থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং — সকলে পাকিস্তানকে সতর্ক করেছেন। আর সেই পরিপ্রেক্ষিতেই এখন পাল্টা এমন মন্তব্য করলেন পাকিস্তানের মন্ত্রী।
খওয়াজা আসিফ বলেন, ‘‘ভারতের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের এই মন্তব্য আসলে নিজেদের হারানো বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরে পাওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা। সিঁদুর অভিযানে ০–৬ ব্যবধানে পরাজয়ের পরও তারা ফের হামলার চেষ্টা করলে, এবার ফল আরও ভয়াবহ হবে।’’ যদিও পাকিস্তান সরকার এখন পর্যন্ত এই কথিত ‘০–৬ স্কোর’-এর কোনও প্রমাণ দেয়নি। তবে ইসলামাবাদের দাবি, ওই অভিযানে তারা ছয়টি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ধ্বংস করতে পেরেছিল।
গত ৭ মে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারত শুরু করে 'অপারেশন সিঁদুর' অভিযান (Operation Sindoor)। ২২ এপ্রিলের পহেলগাম জঙ্গি হামলার (Pahalgam Attack) জবাবে ভারতীয় বাহিনী তখন পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে থাকা একাধিক জঙ্গি ঘাঁটিতে আঘাত হানে। টানা চারদিনের সংঘাত শেষে ১০ মে দুই দেশ যুদ্ধবিরতি মেনে নেয়। ভারতের দাবি, ওই সময় পাকিস্তানই প্রথম যুদ্ধবিরতি চেয়েছিল, কারণ ভারতীয় বাহিনীর আঘাতে তাদের সামরিক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
ভারতের কড়া বার্তা
গত ৪ অক্টোবর সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেন, ‘‘ভারত এবার সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ভবিষ্যতে আর কোনও সংযম দেখানো হবে না। পাকিস্তান যদি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া বন্ধ না করে, তবে তাদের ভাবতে হবে — বিশ্ব মানচিত্রে নিজেদের জায়গা টিকিয়ে রাখতে চায় কিনা।''
একইসঙ্গে বায়ুসেনা প্রধান এ পি সিং বলেন, ভারতীয় হামলায় পাকিস্তানের অন্তত ডজনখানেক যুদ্ধবিমান, তার মধ্যে কয়েকটি মার্কিন এফ-১৬ও, ধ্বংস হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘ওদের দাবি নিছক মনগড়া কাহিনি। আমাদের গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, পাকিস্তানের একাধিক রাডার, কন্ট্রোল সেন্টার, রানওয়ে ও হ্যাঙ্গার ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’’
রাজনাথ সিংয়ের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি
গত শুক্রবার হায়দরাবাদে এক অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, ‘‘দেশের ঐক্য ও নাগরিকদের রক্ষায় প্রয়োজন হলে ভারত যে কোনও সীমান্ত পেরোতে পারে।’’ তিনি ২০১৬-র সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, ২০১৯-এর বালাকোট হামলা এবং সাম্প্রতিক 'অপারেশন সিঁদুর'-এর কথা উল্লেখ করেন। মন্তব্য ছিল, স্যার ক্রিক সীমান্তে কোনও রকম দুঃসাহস দেখালে পাকিস্তানকে ‘নির্ণায়ক জবাব’ দেওয়া হবে।