আশঙ্কার মেঘ ঘনিয়েছে ইরান ও ইজরায়েল দুই দেশই পরমাণু শক্তিধর দেশ হওয়ায়।

এখন বিষয়টি থেমে ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ চুক্তির উপর।
শেষ আপডেট: 17 June 2025 11:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে ইরানকে বাগে আনতে ইজরায়েলি হামলা পঞ্চম দিনেও অব্যাহত। এর মধ্যেই আশঙ্কার মেঘ ঘনিয়েছে ইরান ও ইজরায়েল দুই দেশই পরমাণু শক্তিধর দেশ হওয়ায়। ফলে, বহু আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও রণনীতি বিশেষজ্ঞ দুদেশের মধ্যে পরমাণু যুদ্ধের সম্ভাবনা খারিজ করে দিতে পারছেন না। এই পরিস্থিতিতে ইরানের পক্ষে রয়েছে পরমাণু অস্ত্র শক্তিধর পাকিস্তান সহ প্রায় সমগ্র মুসলিম দেশ ও কট্টর ইসলামি জঙ্গি সংগঠনগুলি। পাশাপাশি রয়েছে চিন ও রাশিয়ার প্রত্যক্ষ সমর্থন। অন্যদিকে, ইজরায়েলের দিকে রয়েছে আমেরিকা সহ প্রায় সব ইউরোপীয় দেশ ও মায় অস্ট্রেলিয়াও। ফলে, পরমাণু যুদ্ধের আঁচ লাগলে তা ভয়ানক মহাযুদ্ধের দিকে গড়াতে পারে বলে এই মুহূর্তেই অনেকেই আশঙ্কা করছেন।
এখন বিষয়টি থেমে ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ চুক্তির উপর। আন্তর্জাতিক সনদ ও আইন অনুসারে প্রথম পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার বেড়ি পরানো আছে সব দেশেরই উপর। কিন্তু, সত্যিই যদি সেই পরিস্থিতি আসে, তাহলে আমেরিকার ‘দাদাগিরি’ ঠেকাতে ইরানের পাশে দাঁড়াবে অনেক রাষ্ট্রই। পাকিস্তান ইতিমধ্যেই হুমকি দিয়ে রেখেছে যে, তেহরানে পরমাণু হামলা চালালে তারাও ইজরায়েলে পরমাণু বোমা মারবে। এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে দেখে নেওয়া যাক, সত্যি যুদ্ধ বাধলে রণক্ষমতায় কোন দেশ, কার থেকে বেশি এগিয়ে।
এবছরেরই এপ্রিল পাকিস্তানের মন্ত্রী হানিফ আব্বাসি ভারতকে পরমাণু হামলার খোলাখুলি হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার অন্তর্গত ঘোরি, শাহিন এবং গজনবি সহ ১৩০টি পরমাণু বোমা কেবলমাত্র ভারতের জন্যই মুখিয়ে আছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের একটি সমীক্ষায় পাক পরমাণু পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডারের একটি হিসেব মিলেছে।
পরমাণু অস্ত্র- আনুমানিক ১০০-১২০টি পরমাণু বোমা আছে। তবে তার ক্ষমতা বিভিন্ন রকমের।
প্রয়োগ কৌশল- পরমাণু অস্ত্রগুলি তৈরি করা হয়েছে যুদ্ধবিমান এবং ভূমি থেকে ছোড়ার মতো ক্ষেপণাস্ত্র মারফত।
রক্ষণাবেক্ষণ- অনুমান শান্তিপূর্ণ অবস্থায় পাকিস্তান পরমাণু অস্ত্রগুলিকে ক্ষেপণাস্ত্র থেকে সরিয়ে আলাদা করে রাখে।
কী ধরনের পরমাণু বোমা- পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার ধারণা করা হয়ে সবথেকে উৎকৃষ্ট ইউরেনিয়াম ব্যবহারে তৈরি।
উৎকৃষ্ট ইউরেনিয়ামের রসদ- ২০১৪ সালের হিসেব অনুযায়ী সেই সময়েই পাকিস্তানের হাতে প্রায় ২.৭ থেকে ৩.৫ টন ইউরেনিয়াম শুধুমাত্র বোমা তৈরির জন্যই মজুত ছিল।
কাগজে-কলমে ইরানের প্রধান শক্তি তাদের ৮৮ মিলিয়ন জনসংখ্যা ও বিশাল মানচিত্র। অন্যদিকে, ইজরায়েলের জনসংখ্যা মাত্র ৯ মিলিয়ন এবং একটি গন্ডির মধ্যে আবদ্ধ তাদের সীমা। পাশাপাশি ইরানের চিরাচরিত সেনা সংখ্যা ৬ লক্ষের কাছে এবং এলিট গার্ডের সংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ। যারা বিভিন্ন প্রকারের যুদ্ধ কৌশলে পারদর্শী।
তবে ইরানের যুদ্ধ সরঞ্জাম অত্যন্ত পুরনো। যেমন তাদের জেট বিমানগুলি অনেক পুরনো মডেলের। সেই দিক থেকে আমেরিকার এফ সিরিজের বিমানের মদতপুষ্ট ইজরায়েলের থেকে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে ইরান। যদিও রাশিয়ার সাহায্যে শাহিদ অ্যাটাক ড্রোনের সম্ভার প্রচুর রয়েছে। যারা কেরামতি দেখিয়েছে গত পাঁচদিনে।
সমর ক্ষমতা তালিকা- ইরানের স্থান ১৬, ইজরায়েল ১৫।
সক্রিয় সেনা- ইরানের ৬১০০০০, ইজরায়েলের ১৭০০০০।
সংরক্ষিত সেনা- ইরানের সাড়ে ৩ লক্ষ, ইজরায়েলের সাড়ে ৪ লক্ষের বেশি।
যুদ্ধযান- ইরানের রয়েছে ৭০,০০০, ইজরায়েলের ৪৩,৪০৭।
যুদ্ধবিমান- ইরানের ৫৫১, ইজরায়েলের ৬১২।
নৌ শক্তি- ইরানের ১০১, ইজরায়েলের ৬৭।
প্রযুক্তি কৌশল- ইরানের অনেক পিছিয়ে, ইজরায়েল রণ-প্রযুক্তিতে বিশ্বে প্রথম সারিতে রয়েছে।