বিশ্ব ইতিহাসে সবথেকে বিপজ্জনক সংঘর্ষে যখন মেতে উঠেছে সিয়া মুসলিম ও ইহুদি রাষ্ট্র, তখন নয়াদিল্লির পতাকা কাদের শিবিরে উড়বে?

ভারত পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বিগ্ন।
শেষ আপডেট: 13 June 2025 14:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরান-ইজরায়েল দ্বন্দ্বে ‘বিশ্বগুরু’ ভারতের পা থাকবে কোন নৌকায়? বিশ্ব ইতিহাসে সবথেকে বিপজ্জনক সংঘর্ষে যখন মেতে উঠেছে সিয়া মুসলিম ও ইহুদি রাষ্ট্র, তখন নয়াদিল্লির পতাকা কাদের শিবিরে উড়বে? কারণ, ইরান ও ইজরায়েল দুই দেশেরই সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত মজবুত ও বন্ধুত্বপূর্ণ। বিশেষত এই কিছুদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘুরে এলেন ইরান সফর শেষ করে।
ভারত এসব ক্ষেত্রে যা করে থাকে তাহল, নিরপেক্ষতা অবলম্বন, উত্তেজনা এড়িয়ে যাওয়া এবং নিজের মূল স্বার্থরক্ষাকারী লক্ষ্য বজায় রাখা। ভারতের সঙ্গে ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব খুবই গভীর ও ভরসাপূর্ণ জায়গায় রয়েছে। অন্যদিকে, জ্বালানি-শক্তি এবং সংযোগকারী প্রকল্পে ইরানি বন্ধু নয়াদিল্লি।
বিদেশ মন্ত্রকের তরফে শুক্রবার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভারত পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বিগ্ন। ভারত দুই দেশকেই উত্তেজনা প্রশমন করে সংযমী থাকার বার্তা পাঠিয়েছে। উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক রাস্তায় হাঁটার কথাও বলেছে। ইরান ও ইজরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ভারতে যে কোনও ধরনের সম্ভাব্য সাহায্যের প্রস্তাবও রেখেছে। দুই দেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে মোদীর প্রশাসন।
ভারত মধ্যপন্থা অবলম্বনের চেষ্টা করলেও কমিউনিস্ট চিন স্পষ্টতই ইজরায়েলি আগ্রাসনের নিন্দা করেছে এদিনই। চিনা বিদেশ মন্ত্রক বলেছে, ইরানে ইজরায়েলি হানাদারির মারাত্মক প্রতিফল নিয়ে বেজিং ভীষণ দুশ্চিন্তায় রয়েছে। ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সংহতির উপর এই আঘাতের তীব্র নিন্দা করে চিন। তাদের মতে, এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক শান্তি নষ্ট করার পক্ষে যথেষ্ট। এতে কারও স্বার্থ রক্ষিত হবে না বলে আমেরিকার বন্ধুদেশ ইজরায়েলকে একপ্রকার ঠারেঠোরে সতর্ক করেছে চিনের প্রশাসন। উল্লেখ্য, আরব দুনিয়ায় চিন ইরানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও কূটনৈতিক মদতদাতা। ইরানের কাছ থেকে সবথেকে বেশি তেল কেনা দেশ হল চিন এবং ইরানের উপর মার্কিন অবরোধের লাগাতার সমালোচনা করে এসেছে চিন। গত বৃহস্পতিবারও চিন, রাশিয়া মিলে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিল। যে প্রস্তাবে ইরানের বিরুদ্ধে নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি অমান্য করে ইরানকে অভিযুক্তের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছিল।
আমেরিকা ইজরায়েলি হানার বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। হাত ধুয়ে ফেলেছে। ব্রিটেন দুপক্ষকে সংযমী হওয়ার বার্তা দিয়ে চুপ রয়েছে। কিছুদিন আগেই ইরানের সামরিক ঘাঁটিগুলিতে হামলার হুমকি দিয়েছিল আমেরিকা। তার নিন্দা করেছিল ক্রেমলিন। এতকিছু সত্ত্বেও ইরানের পরমাণু কেন্দ্র এতই মজবুত যে, তা গুঁড়িয়ে দিতে পারেনি ইজরায়েলি বাহিনী। কারণ এটা তৈরি করতে ইরান সরকার বছরের পর বছর অর্থ ও শ্রম ঢেলে দিয়েছে। যে কোনও ধরনের সামরিক হামলার মোকাবিলা করার মতো ঢাল রয়েছে এই পরমাণু কেন্দ্রে।
এক সমর বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, ইরান এর বাইরের অংশে এমন শক্ত কংক্রিট দিয়ে বাঁধাই করে রেখেছে, যা সাধারণ হামলায় ভাঙবে না। এছাড়াও ইরানে এমন বেশ কয়েকটি পরমাণু কেন্দ্র রয়েছে যেগুলি রয়েছে মাটির তলায়। ফলে উপরে বোমাবর্ষণ করলেও তার টিকিটি ছোঁয়া যাবে না। ওয়াশিংটনের এক বিশেষজ্ঞ জানান, ইরানের ফোরডো পরমাণু কেন্দ্রটি জমি থেকে অন্তত আধ মাইল গভীরে তৈরি করা হয়েছে।
অ্যাটলান্টিক কাউন্সিলের গবেষক অ্যালেক্স প্লিটসাস জানান, তেহরানের ভূগর্ভস্থ পরমাণু কেন্দ্রগুলির সুড়ঙ্গগুলি ৯০ ডিগ্রি বাঁকে রয়েছে। ফলে ধ্বংস করা কঠিন এই কারণেও। বিশেষ করে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও ৯০ ডিগ্রি বাঁক নিতে অক্ষম। ফলে এই কাজ প্রায় অসম্ভব।