আন্তর্জাতিক শেয়ার বাজারেও এই হামলার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের সূচক ব্রেন্ট ক্রুডে শুক্রবার ব্যারেল প্রতি দাম বেড়েছে ৭২.৪ ডলার বা ৪.৩ শতাংশ।
শেষ আপডেট: 13 June 2025 13:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের বুকে ইজরায়েলের হামলায় কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রথম একদিনে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সর্বোচ্চ বৃদ্ধি পেল। এই সামান্য উত্তেজনা থেকে ভবিষ্যতে সংঘর্ষ আরও ব্যাপক মাত্রা পেলে জ্বালানি সরবরাহে বিশাল অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা। আন্তর্জাতিক বাজারের সূচক ব্রেন্ট ক্রুডে শুক্রবার ব্যারেল প্রতি দাম বেড়েছে ৭২.৪ ডলার বা ৪.৩ শতাংশ। মার্কিন তেলের বাজারের সূচক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটে লাফ দিয়ে দাম বেড়েছে ৫ শতাংশ বা ব্যারেল প্রতি ৭১.৪ ডলার।
রয়টার্সের খবর অনুযায়ী ২০২২ সালের মার্চের পর এই প্রথম একদিনের ব্যবধানে এই বৃদ্ধি ঘটল। ইউক্রেনের মাটিতে রাশিয়ার অভিযানের একমাস পর এই দাম বেড়েছিল। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক শেয়ার বাজারেও এই হামলার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে। মার্কিন শেয়ার বাজারে বেশ খানিকটা পতন ঘটেছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের চিরাচরিত সোনায় টাকা ঢালার প্রবণতা লক্ষ্য করা গিয়েছে। ডো ফিউচার্স ১.৩ শতাংশ অথবা ৫৪০ পয়েন্টের বেশি পতন ঘটেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার্স এবং ন্যাসডাক কোম্পোজিট ফিউচার্সেও ১.৪ ও ১.৬ শতাংশ পতন ঘটেছে। অন্যদিকে, সোনার দাম উঠেছে ১ শতাংশ।
প্রসঙ্গত, ইরানে (Iran) জাগ্রত সিংহ অভিযান (Operation Rising Lion)চালিয়ে শুক্রবার ভোররাতের দিকে ইরানকে তছনছ করে দিয়েছে ইজরায়েল। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে আরব দুনিয়ায় যুদ্ধের ডঙ্কা বাজার অপেক্ষা। কারণ, আমেরিকা ইজরায়েলি হানার বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। হাত ধুয়ে ফেলেছে। ব্রিটেন দুপক্ষকে সংযমী হওয়ার বার্তা দিয়ে চুপ রয়েছে। চিন এ পর্যন্ত চুপ করে থাকলেও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধু ইরানে আমেরিকার মদতপুষ্ট ইজরায়েলি হানার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো বার্তা মিলতে পারে। কেননা কিছুদিন আগেই ইরানের সামরিক ঘাঁটিগুলিতে হামলার হুমকি দিয়েছিল আমেরিকা। তার নিন্দা করেছিল ক্রেমলিন।
এতকিছু সত্ত্বেও ইরানের পরমাণু কেন্দ্র এতই মজবুত যে তা গুঁড়িয়ে দিতে পারেনি ইজরায়েলি বাহিনী। কারণ এটা তৈরি করতে ইরান সরকার বছরের পর বছর অর্থ ও শ্রম ঢেলে দিয়েছে। যে কোনও ধরনের সামরিক হামলার মোকাবিলা করার মতো ঢাল রয়েছে এই পরমাণু কেন্দ্রে। এক সমর বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, ইরান এর বাইরের অংশে এমন শক্ত কংক্রিট দিয়ে বাঁধাই করে রেখেছে, যা সাধারণ হামলায় ভাঙবে না। এছাড়াও ইরানে এমন বেশ কয়েকটি পরমাণু কেন্দ্র রয়েছে যেগুলি রয়েছে মাটির তলায়। ফলে উপরে বোমাবর্ষণ করলেও তার টিকিটি ছোঁয়া যাবে না। ওয়াশিংটনের এক বিশেষজ্ঞ জানান, ইরানের ফোরডো পরমাণু কেন্দ্রটি জমি থেকে অন্তত আধ মাইল গভীরে তৈরি করা হয়েছে।
অ্যাটলান্টিক কাউন্সিলের গবেষক অ্যালেক্স প্লিটসাস জানান, তেহরানের ভূগর্ভস্থ পরমাণু কেন্দ্রগুলির সুড়ঙ্গগুলি ৯০ ডিগ্রি বাঁকে রয়েছে। ফলে ধ্বংস করা কঠিন এই কারণেও। বিশেষ করে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও ৯০ ডিগ্রি বাঁক নিতে অক্ষম। ফলে এই কাজ প্রায় অসম্ভব।