
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 21 April 2025 19:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার সকালে প্রয়াত হয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস (Pope Francis)। গত কয়েক বছর ধরে একাধিক রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। তবে শেষদিকে জটিল এক রোগে আক্রান্ত হন পোপ। তা হল ডাবল নিউমোনিয়া বা বাইল্যাটারাল নিউমোনিয়া (Bilateral Pneumonia)। কী এই রোগ, কাদের হয়, তা নিয়ে এখন চর্চা শুরু হয়েছে।
২০২৩ সালের পর থেকে অনেকবার হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল পোপ ফ্রান্সিসকে। কিছু মাস আগে পর্যন্ত শ্বাসকষ্ট এবং ফুসফুসের সংক্রমণে ভুগছিলেন তিনি। এও জানা যায়, অল্প বয়সে ফুসফুসের একটি অংশ চিকিৎসার কারণেই বাদ দিতে হয়েছিল তাঁর। ফলে ডবল নিউমোনিয়ার কারণে পোপের স্বাস্থ্যের আরও অবনতি হচ্ছিল। সোমবার সেই রোগের কারণেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন পোপ।
কী এই ডবল নিউমোনিয়া?
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এটি সাধারণ নিউমোনিয়ার তুলনায় বেশি বিপজ্জনক। কারণ এটি দুটি ফুসফুসে একসঙ্গে আক্রমণ করে। এটি ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাক দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে। তবে মূলত স্ট্রেপ্টোকক্কাস নিউমোনি নামের ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ নিউমোনিয়া রোগের একটি অন্যতম প্রধান কারণ।
কারা বেশি সংক্রামিত হন?
এই রোগটি মূলত ছোট শিশুদের এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সিদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। যাঁদের ফুসফুস সংক্রান্ত রোগ রয়েছে, যেমন ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (COPD) বা ইমফাইসেমা, এবং ধূমপানের ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের মধ্যে এই সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি।
উপসর্গ
দীর্ঘস্থায়ী কাশির সঙ্গে কফ (হলুদ, সবুজ বা রক্ত মিশ্রিত)
বেশি জ্বর, ঠান্ডা লাগা ও অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
শ্বাসকষ্ট ও দ্রুত শ্বাস নেওয়া
বুক ব্যথা, যা শ্বাস নেওয়া বা কাশির সময় বাড়ে
শরীর দুর্বল লাগা ও ক্ষুধামন্দা
প্রবীণদের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি বা স্মৃতিভ্রংশের লক্ষণ দেখা দিতে পারে
প্রতিরোধের উপায়
ভ্যাকসিন: নিউমোকক্কাল ও ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা নেওয়া
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: নিয়মিত হাত ধোয়া
ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার: ধূমপান ফুসফুসের ক্ষতি করে, যা নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়
পর্যাপ্ত পুষ্টি ও শরীরচর্চা: স্বাস্থ্যকর খাবার ও ব্যায়াম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে
বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার নিয়ন্ত্রণ: অ্যাজমা, COPD বা ব্রঙ্কাইটিস থাকলে সেগুলোর সঠিক চিকিৎসা করানো
ভিড় এড়িয়ে চলা: বিশেষত যাঁদের ফুসফুসজনিত রোগ রয়েছে, তাঁদের জন্য সংক্রমণ এড়াতে মাস্ক পরা জরুরি
এই অসুখ এড়াতে সঠিক চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁদের পূর্ববর্তী ফুসফুসজনিত রোগ রয়েছে, তাঁদের উচিত প্রথম থেকেই উপসর্গগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা।