কয়েকদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) নিজেই জানিয়েছিলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif) আমেরিকা ও ইরানকে আলোচনায় বসতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পাকিস্তানে (Pakistan)।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 29 March 2026 15:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একমাস পরও শান্তি ফেরানো যায়নি। বরং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি (Middle East Tension) আরও চরমে পৌঁছেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলের হামলায় (US Israel strikes) ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মৃত্যুর (Khamenei Death) পর পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ। এমন অবস্থায় সংঘাত থামানোর চেষ্টা হিসেবে মধ্যস্থতা বৈঠকের আয়োজন করছে পাকিস্তান (Pakistan)। রবিবার ও সোমবার ইসলামাবাদে (Islamabad) সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশরের বিদেশমন্ত্রীরা একসঙ্গে বসবেন উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়ার এই উত্তেজনা কমানোর পথ খুঁজতে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইজরায়েল-আমেরিকার যৌথ হামলায় (US Israel strikes) সর্বোচ্চ নেতা খামেনেই নিহত হওয়ার পর সংঘাত ভয়াবহ রূপ নেয়। প্রতিশোধ নিতে আরব দুনিয়ার দেশগুলিতে হামলা করে তেহরান (Tehran)। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হতে থাকে, বাড়তে থাকে জ্বালানির দাম, বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ বাড়ে।
কয়েকদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) নিজেই জানিয়েছিলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif) আমেরিকা ও ইরানকে আলোচনায় বসতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পাকিস্তানে (Pakistan)। এরপরই যুদ্ধ থামাতে ইরানের কাছে ১৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছে আমেরিকা। আর সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেও উঠে আসে পাকিস্তান।
পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ইসলামাবাদ শান্তি আলোচনার মঞ্চ বাঁধতে প্রস্তুত। শাহবাজের সেই পোস্ট আবার ট্রাম্প শেয়ার করেছিলেন।
যেমন ভাবা তেমনিই কাজ! মধ্যস্থতা করাতে বিশাল আয়োজন শুরু করে দিয়েছে ইসলামাবাদ। পাক উপ প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার–এর আমন্ত্রণে তিন দেশের বিদেশমন্ত্রী ফয়জল বিন ফারহান আল সৌদ (সৌদি আরব), হাকান ফিদান (তুরস্ক), বাদার আব্দেলাত্তি (মিশর) ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন বা পৌঁছবেন।
তাঁরা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের (Shehbaz Sharif) সঙ্গেও বৈঠক করবেন। পাকিস্তান জানিয়েছে, এই দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক 'অত্যন্ত মূল্যবান' এবং এই সফর পারস্পরিক সম্পর্ক আরও উন্নত করবে।
বৈঠকে আমেরিকা–ইরান সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে অনেক সিদ্ধান্ত আসতে পারে। মার্কিন প্রশাসন ইতিমধ্যেই ইরানকে একটি ১৫ দফা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠিয়েছে। যদিও ইরান প্রথমে আলোচনা চলছে বলে অস্বীকার করেছিল, পরে মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছে ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যে বার্তা দেওয়া নেওয়া চলছে।
অন্যদিকে, ভারতের অবস্থান স্পষ্ট। সর্বদলীয় বৈঠকে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (Subrahmanyam Jaishankar) বলেন, ভারত নিজেকে পাকিস্তানের মতো 'দালাল' দেশ হিসেবে দেখে না। তাঁর কথায়, 'পাকিস্তানকে বহুবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতার খেলায় ব্যবহার করেছে। কিন্তু ভারত কোনও দালাল জাতি নয়।'
যুদ্ধের ভয়াবহতা বাড়লেও কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। পাকিস্তান মধ্যস্থতার চেষ্টা চালালেও, ভারত নিজের অবস্থান পরিষ্কার রেখে পরিস্থিতিকে গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছে।