আমেরিকা-ইজরায়েল ও ইরান সংঘাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই কড়া জবাব বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের। সর্বদলীয় বৈঠকে তিনি বলেন, ভারত কোনও দালাল রাষ্ট্র নয়।

ছবি: এআই
শেষ আপডেট: 25 March 2026 23:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ায় (Iran Conflict) ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে যুদ্ধ পরিস্থিতি। আমেরিকা–ইজরায়েল ও তেহরানের সংঘাতের (Pakistan Mediation) মধ্যে মধ্যস্থতা করার উদ্যোগ নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ইসলামাবাদ। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—ভারত কোথায়? কেন এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় নেই নয়াদিল্লি?
মঙ্গলবারই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছিলেন, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে আলোচনা আয়োজন করতে পারলে পাকিস্তান ‘গর্বিত’ হবে। সংবাদ সংস্থা ‘রয়টার্স’-এর সূত্র অনুযায়ী, বুধবার আমেরিকার ১৫ দফা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে পাকিস্তান। পাক বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার জানিয়েছেন, এই বিষয়ে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি-র সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। ইসলামাবাদের এই সক্রিয়তা ঘিরেই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারতের অবস্থান নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
এই অস্বস্তিকর প্রশ্নই উঠে আসে বুধবার পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর নেতৃত্বে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন-সহ কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ মন্ত্রীরা। ‘ইন্ডিয়া টুডে’-র এক সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, বৈঠকে বিরোধী শিবির পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং জানতে চায়, এই পরিস্থিতিতে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান কী।
জবাবে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ভারত কোনও ‘দালাল রাষ্ট্র’ নয় এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে ব্রোকারের ভূমিকা নেওয়া ভারতের নীতির সঙ্গে যায় না। তিনি আরও জানান, সঙ্কটের সময়ে সরকার নীরব রয়েছে—এই অভিযোগও ঠিক নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী ভারত সরকার পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করছে এবং প্রতিক্রিয়াও জানাচ্ছে বলে তিনি বিরোধীদের আশ্বস্ত করেন।
তবে পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে কার্যত নস্যাৎ করেছে তেহরান। ইরান প্রকাশ্যে জানিয়েছে, আমেরিকা বা ইজরায়েলের সঙ্গে কোনও আলোচনার প্রশ্নই ওঠে না। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আপসের জল্পনাও উড়িয়ে দিয়েছে ইরানের নেতৃত্ব। তাদের বক্তব্য, আমেরিকার সাম্প্রতিক পদক্ষেপ কূটনীতির প্রতি ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ ছাড়া আর কিছু নয়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ওমানে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা ট্রাম্পের মনমতো না হওয়ায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। যৌথ হামলায় মৃত্যু হয় ইরানের তৎকালীন সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-র। সেই ঘটনার পর গত চার সপ্তাহ ধরে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে যুদ্ধের আগুন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতির ভারসাম্যকেও নতুন করে নাড়া দিচ্ছে।