ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নীতির অন্যতম রূপকার হিসেবে পরিচিত ছিলেন লারজানি। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ক্ষমতার অন্তরালে থেকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা পালন করেছেন। দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও তাঁর প্রভাব ছিল যথেষ্ট।

আলি লারজানি
শেষ আপডেট: 18 March 2026 20:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ায় চলা সংঘাতের (Middle East Conflict) আবহে বড় ধাক্কা খেয়েছে ইরান। দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ আলি লারজানির (Ali Larzani) হত্যার ঘটনায় তেহরানের ক্ষমতার কাঠামোয় গভীর প্রভাব পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলার প্রেক্ষিতে উত্তেজনা যখন চরমে, সেই সময় এই ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নীতির অন্যতম রূপকার হিসেবে পরিচিত ছিলেন লারজানি। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ক্ষমতার অন্তরালে থেকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা পালন করেছেন। দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও তাঁর প্রভাব ছিল যথেষ্ট। সম্প্রতি শীর্ষ নেতৃত্বের পরিবর্তনের পর তিনি প্রশাসনিক কাঠামোর অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন।
ইরান সরকার ইতিমধ্যেই তাঁর মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে এবং তাঁকে শহিদের মর্যাদা দিয়েছে। দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় তাঁর অবদানের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে সরকারি বিবৃতিতে।
একই সময়ে আর এক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ব্যক্তিত্বও নিহত হয়েছেন। বেসিজ বাহিনীর প্রধান গোলামরেজা সোলেমানির মৃত্যুর খবরও সামনে এসেছে। রাজধানী তেহরানে হামলার ঘটনায় এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
কীভাবে লারজানির খোঁজ পেল ইজরায়েল
আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের মতে, শীর্ষ নেতৃত্বে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের পর লারজানি অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছিলেন। তবে তাঁকে খুঁজে বের করা সহজ ছিল না। নিরাপত্তা জোরদার করতে তিনি নিয়মিত নিজের অবস্থান বদল করছিলেন এবং গোপন আশ্রয়ে থাকছিলেন বলে সূত্রের খবর।
শেষ পর্যন্ত তেহরানের উপকণ্ঠে তাঁর মেয়ের বাড়িতে থাকার সময় হামলা চালানো হয়। সেই হামলাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনায় তাঁর পরিবারের সদস্য এবং নিরাপত্তারক্ষীরাও নিহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে গোয়েন্দা তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলেও দাবি উঠেছে। স্থানীয় সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই হামলার পরিকল্পনা করা হয় বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশের সামরিক নেতৃত্ব স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই হামলার জবাব দেওয়া হবে। তাদের কথায়, প্রতিক্রিয়া হবে কঠোর এবং তাৎপর্যপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, লারজানির মৃত্যু পশ্চিম দুনিয়ার অস্থির পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করে তুলেছে। এর প্রভাব ভবিষ্যতে কতদূর গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।