ডাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, এই উদ্যোগে অংশ নিতে ইতিমধ্যেই সম্মতি দিয়েছেন পুতিন। সেই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাশিয়ার অবস্থান প্রকাশ্যে আনলেন সে দেশের প্রেসিডেন্ট।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভ্লাদিমির পুতিন
শেষ আপডেট: 22 January 2026 09:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গাজায় শান্তি পুনর্গঠনের লক্ষ্যে মার্কিন উদ্যোগে প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ (Gaza Board of Peace) যোগ দেওয়া নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছয়নি রাশিয়া (Russia)। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানালেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin)। কৌশলগত সহযোগী দেশগুলির সঙ্গে আলোচনা করেই মস্কো সিদ্ধান্ত নেবে বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। তবে বোর্ডে স্থায়ী সদস্যপদের জন্য এক বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট - যে অর্থ আসবে আমেরিকার হাতে জব্দ হওয়া রুশ সম্পদ থেকেই।
ডাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামে (World Economic Forum) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) দাবি করেছিলেন, এই উদ্যোগে অংশ নিতে ইতিমধ্যেই সম্মতি দিয়েছেন পুতিন। সেই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাশিয়ার অবস্থান প্রকাশ্যে আনলেন সে দেশের প্রেসিডেন্ট।
জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে দেওয়া টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে পুতিন বলেন, “‘বোর্ড অব পিস’-এ (Gaza Board Of Peace) আমাদের অংশগ্রহণ নিয়ে যে নথিপত্র এসেছে, তা পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিদেশ মন্ত্রককে। পাশাপাশি আমাদের কৌশলগত অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা হবে। তার পরেই আমন্ত্রণের জবাব দেওয়া সম্ভব হবে।”
একই সঙ্গে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার যে কোনও উদ্যোগকেই রাশিয়া সমর্থন করে এসেছে। ইউক্রেন সংকট সমাধানের চেষ্টায় বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের ভূমিকার কথাও স্বীকার করেন পুতিন।
আমেরিকার মধ্যস্থতায় গাজা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল সীমিত সংখ্যক বিশ্বনেতাকে নিয়ে একটি ছোট কমিটি গঠন করা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই উদ্যোগের পরিধি অনেকটাই বেড়েছে। এখন এই বোর্ডকে একাধিক আন্তর্জাতিক সংঘাত মেটানোর দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। ফলে অনেকেই এই প্ল্যাটফর্মকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গে তুলনা করছেন।
এক বিলিয়ন ডলার আর্থিক অবদানের প্রসঙ্গে পুতিন জানান, এই অর্থ আসতে পারে আগের জো বাইডেন প্রশাসনের আমলে আমেরিকার হাতে জব্দ হওয়া রুশ সম্পদ থেকে। তাঁর কথায়, “বোর্ডে অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই, প্যালেস্টাইন জনগণের সঙ্গে রাশিয়ার বিশেষ সম্পর্কের কথা মাথায় রেখে, আমরা এই আর্থিক সহায়তা দিতে পারি।”
পুতিন আরও বলেন, গোটা প্রক্রিয়ার লক্ষ্য হওয়া উচিত প্যালেস্টাইন-ইজরায়েল সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। সেই সমাধান হতে হবে জাতিসংঘের প্রাসঙ্গিক সিদ্ধান্তগুলির ভিত্তিতে এবং প্যালেস্টাইনীদের মৌলিক প্রয়োজন ও ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়েই।
এ দিকে ডাভোসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, পুতিন ইতিমধ্যেই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, “ওঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। উনি গ্রহণ করেছেন।”
হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫০টি দেশের রাষ্ট্রনেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তার মধ্যে অন্তত ৩৫ জন এই বোর্ডে যোগ দিতে সম্মত হয়েছেন। তালিকায় রয়েছে ইজরায়েল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, বাহরিন, জর্ডন, কাতার ও মিশরের মতো দেশ। ন্যাটোর সদস্য তুরস্ক ও হাঙ্গেরিও সম্মতি দিয়েছে। পাশাপাশি মরক্কো, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, কসোভো, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান, প্যারাগুয়ে ও ভিয়েতনামও যোগ দিচ্ছে। আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছে আর্মেনিয়া, আজারবাইজান ও বেলারুশও।
ভারতের ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছে। তবে নয়াদিল্লি এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানা গেছে।