বিষয়টি নিয়ে গোপীনাথ স্পষ্ট করে বলেন - নতুন ব্যবসা, বিনিয়োগ বা শিল্পোন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হলে সাধারণত শুল্ক, বাণিজ্যনীতি কিংবা নিয়মকানুনই মুখ্য হয়ে ওঠে। কিন্তু দূষণ নিয়ে ততটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না।

গীতা গোপীনাথ
শেষ আপডেট: 22 January 2026 08:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্ববাজারে শুল্কযুদ্ধ বা বাণিজ্য বাধার থেকেও ভারতের অর্থনৈতিক (Indian Economy) বৃদ্ধির জন্য বড় বিপদ হয়ে উঠছে দূষণ! এমনই কড়া সতর্কবার্তা দিলেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গীতা গোপীনাথ (Gita Gopinath)। বুধবার ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে (World Economic Forum) এক আলোচনাচক্রে তিনি বলেন, দূষণের প্রভাব ভারতের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনে এতটাই গভীর যে তা এখন কার্যত ‘নীরব ঘাতক’-এর ভূমিকা নিচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে গোপীনাথ স্পষ্ট করে বলেন - নতুন ব্যবসা, বিনিয়োগ বা শিল্পোন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হলে সাধারণত শুল্ক, বাণিজ্যনীতি কিংবা নিয়মকানুনই মুখ্য হয়ে ওঠে। কিন্তু দূষণ নিয়ে ততটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তবে তাঁর কথায়, “ভারতে দূষণ একটি বড় সমস্যা এবং অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব এখনও পর্যন্ত আরোপিত যে কোনও শুল্কের (Tariffs on India) থেকেও অনেক বেশি ক্ষতিকর।”
গীতা গোপীনাথ ব্যাখ্যা করেন, দূষণ সরাসরি উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয়, স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় বাড়ায় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের বৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়ে পড়ে, অথচ এই ক্ষতির হিসাব অনেক সময় চোখের আড়ালেই থেকে যায়।
তিনি বিশ্বব্যাঙ্কের (World Bank) ২০২২ সালের একটি সমীক্ষার (World Bank Survey) উল্লেখ করে জানান, ভারতে প্রতি বছর প্রায় ১৭ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয় দূষণের কারণে। যা দেশের মোট মৃত্যুর প্রায় ১৮ শতাংশ। তাঁর বক্তব্য, এই বিপুল প্রাণহানির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক বিরাট অর্থনৈতিক ক্ষতিও - পরিবার ভাঙছে, কর্মক্ষম জনশক্তি কমছে এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে।
গোপীনাথের মতে, দূষণ শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছেও এটি বড় উদ্বেগের বিষয়। তিনি বলেন, “কোনও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী যখন ভারতে ব্যবসা শুরু করার বা এখানে বসবাস করার কথা ভাবেন, তখন পরিবেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।” খারাপ বাতাস ও অসুস্থ জীবনযাত্রার আশঙ্কা অনেক সময় বিনিয়োগে বাধা তৈরি করে বলেও তিনি মনে করেন।
এই সমস্যা যে শুধু বিদেশিদের জন্য নয়, তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দূষিত শহরে প্রতিদিন বসবাস করা ভারতীয়দের ক্ষেত্রেও এই স্বাস্থ্যঝুঁকি সমানভাবে প্রযোজ্য।
দূষণ মোকাবিলাকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়ে গোপীনাথ বলেন, “এটা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মোকাবিলা করতে হবে। ভারতের জন্য এটি একটি মিশন হওয়া প্রয়োজন।” তাঁর মতে, অর্থনৈতিক সংস্কার বা নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার মতোই দূষণ নিয়ন্ত্রণও এখন নীতিগত সিদ্ধান্তের শীর্ষে থাকা উচিত।
ভারত যখন নিজেকে বিশ্ব অর্থনীতি ও উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে, তখন গোপীনাথের এই মন্তব্য নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, পরিচ্ছন্ন শহর ও সুস্থ জীবনযাপন ছাড়া সেই লক্ষ্য পূরণ সম্ভব নয়। দূষণের বিরুদ্ধে লড়াই শুধু পরিবেশ রক্ষার প্রশ্ন নয়, এটি মানুষের জীবন বাঁচানো, অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগে ভারতের আকর্ষণ ধরে রাখার লড়াইও বটে।