নিমিটজ শ্রেণির পরমাণু শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন (সিভিএন-৭২) হল ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ ৩-এর প্রধান জাহাজ। জানুয়ারির ১৯ তারিখে মালাক্কা প্রণালী অতিক্রম করে এই রণতরী।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 27 January 2026 12:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার (US Iran Conflict) আবহে আরব দুনিয়ায় পৌঁছেছে মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ (Abraham Lincoln Carrier Strike Group)। সোমবারই এই নৌবহর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন এলাকায় প্রবেশ করেছে। মূলত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মোতায়েন থাকার কথা থাকলেও, পরিস্থিতির পরিবর্তনে দিক বদল করে সেটিকে আরব দুনিয়ায় (Middle East) পাঠানো হয়েছে। এর জেরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে - ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানেরই কি নির্দেশ দিতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)?
নিমিটজ শ্রেণির পরমাণু শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন (সিভিএন-৭২) হল ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ ৩-এর প্রধান জাহাজ। জানুয়ারির ১৯ তারিখে মালাক্কা প্রণালী অতিক্রম করে এই রণতরী। তার সঙ্গে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল তিনটি আরলি বার্ক শ্রেণির গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার - ইউএসএস ফ্র্যাঙ্ক ই. পিটারসন জুনিয়র, ইউএসএস স্প্রুয়ান্স এবং ইউএসএস মাইকেল মারফি।

সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “আরব দুনিয়ায় (Middle East) আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই আব্রাহাম লিঙ্কন ও তার স্ট্রাইক গ্রুপ (Abraham Lincoln Carrier Strike Group) মোতায়েন করা হয়েছে।” এই মোতায়েনের ফলে কয়েক হাজার মার্কিন সেনা নতুন করে ওই অঞ্চলে যুক্ত হলেন। অক্টোবরের পর এই প্রথম কোনও মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আরব দুনিয়ার জলসীমায় এল। শেষবার ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড মোতায়েন করা হয়েছিল ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে।
এই সামরিক তৎপরতাকে সরাসরি ইরানের উপর চাপ তৈরির কৌশল হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। দেশজুড়ে চলা প্রতিবাদ আন্দোলন দমনে তেহরানের ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনা চলছে। ট্রাম্প নিজেও প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, ‘প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্যই’ এই যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়েছে। তাঁর মন্তব্য, “আমাদের একটি বিশাল নৌবহর ওই দিকে যাচ্ছে। হয়তো ব্যবহার করতে হবে না, আবার হয়তো হবে।”
এর আগেও ইরানে ব্যাপক মৃত্যুদণ্ড বা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের হত্যা হলে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, আন্দোলন দমনে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ৪১ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। যদিও ইরান সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যান অনেক কম।
এদিকে পেন্টাগনও আরব দুনিয়ায় আরও যুদ্ধবিমান ও সামরিক পরিবহণ উড়ান পাঠাচ্ছে। ফলে ইরানের আশপাশে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। হোয়াইট হাউস যদিও জানিয়েছে, আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ নয়। এক মার্কিন আধিকারিকের কথায়, ইরান জানে আলোচনা শুরু করতে হলে কী শর্ত মানতে হবে।