এক্সক্যালিবার রাউন্ডগুলির আলাদা অনুমোদন প্রায় ৪৭ মিলিয়ন ডলার মূল্যের। ফলে জ্যাভেলিন এবং এক্সক্যালিবার মিলিয়ে মোট চুক্তির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৯৩ মিলিয়ন ডলার।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 20 November 2025 08:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর ভারতের জন্য ৯৩ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির (Weapon Deal) অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে জ্যাভেলিন অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল (Javelin Anti-Tank Missile) এবং এক্সক্যালিবার প্রিসিশন-গাইডেড আর্টিলারি রাউন্ডের নতুন চালান পেতে চলেছে নয়াদিল্লি (India)। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স সিকিউরিটি কো-অপারেশন এজেন্সি (DSCA) কংগ্রেসকে এই প্রস্তাবিত হস্তান্তরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে।
বিবৃতি অনুযায়ী, প্যাকেজে রয়েছে ১০০টি FGM-148 জ্যাভেলিন মিসাইল, ২৫টি হালকা কমান্ড লঞ্চ ইউনিট এবং ২১৬টি এক্সক্যালিবার আর্টিলারি রাউন্ড। পাশাপাশি রয়েছে অপারেটর প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা পরিদর্শন, মেরামত পরিষেবা, লঞ্চ ইউনিটের রিফার্বিশিং এবং অস্ত্রগুলির পূর্ণাঙ্গ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য সহায়ক উপাদান।
সংস্থাটি জানিয়েছে, এই অস্ত্রগুলি ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াবে এবং উদীয়মান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। বিবৃতিতে এও বলা হয়েছে, ভারতের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় (Security) শক্তি জোগাবে এগুলি, অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা মজবুত করবে এবং আঞ্চলিক হুমকিকে প্রতিহত করতে সহায়তা করবে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, ভারত এই সরঞ্জাম গ্রহণ ও ব্যবহারে কোনও অসুবিধা অনুভব করবে না।
এক্সক্যালিবার রাউন্ডগুলির আলাদা অনুমোদন প্রায় ৪৭ মিলিয়ন ডলার মূল্যের। ফলে জ্যাভেলিন এবং এক্সক্যালিবার মিলিয়ে মোট চুক্তির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৯৩ মিলিয়ন ডলার।
ডিএসসিএ (DSCA) জানিয়েছে, এই লেনদেন অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্যে কোনও পরিবর্তন আনবে না। এখনও পর্যন্ত কোনও অফসেট চুক্তি রয়েছে বলে জানা যায়নি; থাকলেও তা পরে ভারত ও প্রস্তুতকারক সংস্থার মধ্যে নির্ধারিত হবে।
জ্যাভেলিন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাটি যুক্তভাবে তৈরি করেছে RTX এবং লকহিড মার্টিন। এটি পদাতিক বাহিনীকে দূরপাল্লায় সাঁজোয়া যান ধ্বংসের ক্ষমতা দেয়। এক্সক্যালিবার রাউন্ড জিপিএস-নির্ভর নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম, যা ভারত আগেও সীমান্তে সীমিত ক্ষয়ক্ষতির জন্য ব্যবহার করেছে।
সম্প্রতি ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ T-72 এবং T-90 ট্যাংক ধ্বংসে জ্যাভেলিনের কার্যকারিতা আন্তর্জাতিক মনোযোগ কেড়েছে। কাঁধে বহনযোগ্য এই তৃতীয় প্রজন্মের অস্ত্রটি উপরের দিক থেকে আঘাত করে, যা সাধারণত ট্যাঙ্কের সবচেয়ে দুর্বল অংশ। এর সফ্ট-লঞ্চ ব্যবস্থার ফলে সুরক্ষিত ঘর বা বাঙ্কারের মধ্য থেকেও এটি নিক্ষেপ করা যায়। লঞ্চ টিউবটি একবার ব্যবহারযোগ্য হলেও কমান্ড লঞ্চ ইউনিট পুনর্ব্যবহারযোগ্য, ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত মোতায়েন সম্ভব।
এখন মার্কিন কংগ্রেসের সামনে রয়েছে পর্যালোচনার সময়সীমা। আপত্তি না থাকলে শীঘ্রই এই অস্ত্র ভারতীয় বাহিনীর হাতে পৌঁছবে।