সতর্কবার্তায় স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে— পরিস্থিতি যে কোনও সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে, তাই আর দেরি না করে এখনই ইরান ত্যাগ করা উচিত।
.jpeg.webp)
দেশের নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়তে বলল আমেরিকা
শেষ আপডেট: 13 January 2026 12:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানে (Iran) ক্রমশ অশান্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সে দেশে থাকা নিজেদের নাগরিকদের দ্রুত দেশ ছাড়ার পরামর্শ দিল আমেরিকা (America)। সোমবার তেহরানে (Tehran) মার্কিন দূতাবাসের তরফে জারি করা সতর্কবার্তায় স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে— পরিস্থিতি যে কোনও সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে, তাই আর দেরি না করে এখনই ইরান ত্যাগ করা উচিত। পাশাপাশি কোন কোন দেশের মধ্য দিয়ে স্থলপথে ইরান ছাড়া তুলনামূলক ভাবে সম্ভব, তাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ওই বার্তায়।
গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানের বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে টানা গণবিক্ষোভ (Iran Protest) চলছে। প্রথমে মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ধীরে ধীরে রূপ নিয়েছে সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর জনঅসন্তোষে। আমেরিকার আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হলে এই বিক্ষোভ যে কোনও মুহূর্তে হিংসাত্মক আকার নিতে পারে। সে ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাহিনীর তরফে কড়া দমননীতি গ্রহণ করা হতে পারে, যার ফলে ব্যাপক ধরপাকড়, আহত হওয়ার ঘটনা এবং চলাচল সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, বিক্ষোভের জেরে রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যেতে পারে, গণপরিবহণ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়তে পারে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন বিপন্ন হতে পারে। পরিস্থিতি বিচার করে বহু বিমান সংস্থা আগামী শুক্রবার, অর্থাৎ ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ইরানে উড়ান পরিষেবা স্থগিত রেখেছে বলেও জানানো হয়েছে। এই কারণে আকাশপথে দেশ ছাড়া অনেকের পক্ষেই আপাতত সম্ভব নয়।
এই অবস্থায় মার্কিন নাগরিকদের স্থলপথে ইরান ত্যাগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দূতাবাস জানিয়েছে, আর্মেনিয়া অথবা তুরস্ক হয়ে ইরান থেকে বেরোনোর সুযোগ রয়েছে। তবে সীমান্ত পেরোনোর সময়ও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ইরানের বহু এলাকায় এখনও ইন্টারনেট পরিষেবা সীমিত বা সম্পূর্ণ বন্ধ। প্রশাসনের দাবি, ধাপে ধাপে গোটা দেশে ইন্টারনেট পরিষেবা স্বাভাবিক করা হবে, যদিও বাস্তবে এখনও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত।
এ দিকে বিক্ষোভের রূপ ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। রাজধানী তেহরান ছাড়াও একাধিক শহরে আন্দোলনের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা সরাসরি দেশের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে স্লোগান তুলেছেন এবং সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের অপসারণের দাবিও উঠেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে অভিযোগ। প্রতিবাদীদের উপর গুলি চালানো হয়েছে বলেও বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে। সংবাদ সংস্থাগুলির রিপোর্ট অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে ৬৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গুলিবিদ্ধ ও আহতদের ভিড়ে হাসপাতালগুলি কার্যত উপচে পড়ছে।