২৬ বছরের এরফান সোলতানি (Erfan Soltani)-কে ফাঁসিতে ঝোলানোর তোড়জোড় শুরু করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ, এমনই দাবি করেছে ইজরায়েল ও আমেরিকা-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জেফিড (Jfeed)।

২৬ বছরের এরফান সোলতানি (Erfan Soltani)-কে ফাঁসিতে ঝোলানোর তোড়জোড় শুরু করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। ছবিতে এআই ব্যবহার করা হয়েছে।
শেষ আপডেট: 13 January 2026 10:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানে (Iran) আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-বিরোধী (Anti-Khamenei) চলতি গণআন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে। ২৬ বছরের এরফান সোলতানি (Erfan Soltani)-কে ফাঁসিতে ঝোলানোর তোড়জোড় শুরু করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ, এমনই দাবি করেছে ইজরায়েল ও আমেরিকা-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জেফিড (Jfeed)। খবরে বলা হয়েছে, সোলতানির ফাঁসি কার্যকর হলে তা হতে পারে চলতি আন্দোলনের জেরে প্রথম প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড। মানবাধিকার সংগঠনগুলির আশঙ্কা, আন্দোলন দমন করতেই দ্রুত বিচার ও একের পর এক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পথে হাঁটছে তেহরান।
নরওয়ের কুর্দি মানবাধিকার সংগঠন হেংগাও (Hengaw Organisation for Human Rights) জানিয়েছে, সোলতানির বিরুদ্ধে চলা আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অস্বচ্ছ। তাঁকে গ্রেফতারের পর থেকে মৌলিক আইনি অধিকার দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ। আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ, আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার— সবই অস্বীকার করা হয়েছে। এদিকে লেবানন-অস্ট্রেলীয় উদ্যোক্তা মারিও নওফাল (Mario Nawfal) তাঁর অফিসিয়াল এক্স (X) অ্যাকাউন্টে দাবি করেছেন, এই ফাঁসি ‘শুরু মাত্র’। তাঁর বক্তব্য, ভয় দেখিয়ে জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতেই এই কৌশল নিয়েছে ইরানি শাসকগোষ্ঠী।
হেংগাও-এর দাবি অনুযায়ী, সোলতানির পরিবারকেও ফাঁসির বিষয়ে অন্ধকারে রাখা হয়েছে। কে তাঁকে গ্রেফতার করেছে, কী অভিযোগে— সেসব তথ্য দীর্ঘদিন জানানো হয়নি। গত ১১ জানুয়ারি পরিবারকে জানানো হয়, তাঁর মৃত্যুদণ্ড চূড়ান্ত হয়েছে। তারপর মাত্র ১০ মিনিটের জন্য তাঁর সঙ্গে পরিবারকে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয় বলেও জানানো হয়েছে।
পরিবারের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানিয়েছে, কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই সাজা বদলানোর কোনও সুযোগ নেই এবং নির্ধারিত দিনেই তা কার্যকর করা হবে। সোলতানির বোন একজন আইনজীবী হলেও তাঁকে মামলার নথি দেখতে দেওয়া হয়নি। এমনকী তিনি ভাইয়ের পক্ষে আইনগত লড়াই চালানোর অনুমতিও পাননি বলে অভিযোগ।
তেহরানের উপকণ্ঠ কারাজের (Karaj) ফারদিস এলাকার বাসিন্দা এরফান সোলতানিকে ৮ জানুয়ারি গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ, তিনি খামেনেই-বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। মানবাধিকার সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমের দাবি, বুধবারই তাঁর ফাঁসি কার্যকর হতে পারে। ইরানে বিরোধী আন্দোলন দমনে আগেও মৃত্যুদণ্ডের পথ নিয়েছে সরকার। তবে সেসব ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময় গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। চলতি আন্দোলনে এই প্রথম কাউকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মারার হুকুমের অভিযোগ সামনে এল।
নওফালের আরও দাবি, খামেনই-বিরোধী আন্দোলনে এখনও পর্যন্ত প্রায় ২,০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যদিও এই সংখ্যার সরকারি কোনও নথি নেই। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়। ইরানি রিয়ালের ভয়াবহ দরপতন, লাগামছাড়া মুদ্রাস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের আকাশছোঁয়া দামের জেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ মানুষ। প্রথমে তেহরানের বাজারগুলিতে প্রতিবাদ শুরু হলেও দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে দেশের নানা শহরে। দোকানদার, ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ— সবাই রাস্তায় নামেন।
অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকেই শুরু হওয়া এই আন্দোলন ধীরে ধীরে রূপ নিয়েছে খামেনেই ও শিয়া শাসনের বিরুদ্ধে বৃহত্তম গণআন্দোলনে। শাসনব্যবস্থার সংস্কার এবং শিয়া নেতৃত্বের অবসানের দাবিতেই এখন সরব ইরানের রাজপথ।