ইরানের সরকারবিরোধী আন্দোলনে এখনও পর্যন্ত প্রায় সাতশ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে একাধিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন জানিয়েছে।
.jpg.webp)
ইরানে বিক্ষোভ
শেষ আপডেট: 13 January 2026 08:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের সরকারবিরোধী আন্দোলনে (Iran Protest) এখনও পর্যন্ত প্রায় সাতশ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে একাধিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে পুলিশ এবং সরকারের পক্ষে পথে নামা মানুষও আছেন। রাজধানী তেহরান-সহ (Tehran) দেশটির বিভিন্ন শহরের হাসপাতালের মর্গে অজ্ঞাত পরিচিত মৃতদেহের সংখ্যা বাড়ছে বলে এক রিপোর্টে জানিয়েছে বিবিসি (BBC)।
এদিকে ইরান নিয়ে করণীয় স্থির করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump) হোয়াইট হাউজের পদস্থ আধিকারিকদের বৈঠকে ডেকেছেন। ভারতীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই বৈঠক হওয়ার কথা। ট্রাম্প ইরানের বিক্ষোভকারীদের পাশে থাকার বার্তা দেওয়ার পর দু'দেশের সম্পর্ক নিয়েও টানাপড়েন শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এই সুযোগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানে হামলা চালিয়ে সেখানকার তেল ভান্ডার গুলি দখল এবং সামরিক ঘাঁটি ধ্বংসের সুযোগ নিতে পারেন। যদিও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরান জানিয়ে দিয়েছে আমেরিকা একচুলও এগলে উপসাগরীয় এলাকায় মার্কিন ঘাঁটিগুলি তারা গুড়িয়ে দেবে।
সোমবারই ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) দাবি করেছিলেন শান্তি ফেরাতে ইরানি কর্তৃপক্ষ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এই দাবির পাশাপাশি তিনি ইরান নিয়ে সুর নরম করেছিলেন। পরে নতুন বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, বিগত কয়েকদিন যা হয়েছে তার ভিত্তিতেই তিনি হোয়াইট হাউজের (White House) আধিকারিকদের বৈঠকে ডেকেছেন। কূটনৈতিক ও সমর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানে সামরিক অভিযানে সায় দিতে পারেন। জবাবে ইরানের বিদেশ মন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, আমরা যুদ্ধ চাইনা। তবে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত আছি।
মঙ্গলবার ইরানের চলমান চলমান সরকার বিরোধী বিক্ষোভের ১৭ তম দিন। দেশটি ইসলামিক প্রজাতন্ত্র হিসাবে যাত্রা শুরুর ৪৭ বছরের মধ্যে এমন বিক্ষোভের নজির নেই। বিক্ষোপকারীরা পুলিশের সামনে দেশের প্রধান শাসক আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির (Ayatollah Ali Khamenei) মৃত্যু প্রার্থনা করছে। বিগত ৪৭ বছরে ইরানে সরকার বিরোধী আন্দোলনগুলির তুলনায় এবারের মতো দেশের সব প্রান্তের মানুষের যোগদানের নজির নেই। নজির নেই সব শ্রেণির মানুষের পথে নেমে আসার।
অতীতের আন্দোলন গুলিতে কখনও শুধু গ্রামের মানুষ, কখনও শহরবাসী অংশ নিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের পাল্টা হামলায় মারা গিয়েছেন পুলিশ সহ নিরাপত্তা বাহিনীর বহু জওয়ান। পরিস্থিতি এই দিকে গড়ানোর পর সরকারপন্থীরাও নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দমনে পথে নেমেছে। দেশটির হামিদান ও ইলাম শহরে সরকারপন্থীদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের তুমুল সংঘর্ষ হয়েছে বলে ইরানের সরকারি রেডিও ইরানিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন সোমবার রাতে জানিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক গতিতে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, নেপাল প্রভৃতি দেশে যেভাবে নবীন প্রজন্ম সরকারবিরোধী আন্দোলনের রাশ নিজেদের হাতে নিয়েছিল ইরানের প্রতিবাদ সেই তুলনায় আরো ব্যাপক। সমাজের সব বয়সের মানুষ শুরু থেকেই রাজপথে রয়েছে। আন্দোলনের রাশও মাঝবয়সি এবং প্রবীনদের নিয়ন্ত্রণে।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অনেকটাই ২০২৪ এ বাংলাদেশে জুলাই-অগস্ট আন্দোলনের (Bangladesh July Protest 2024) মতো পরিস্থিতি বলে একাধিক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন। বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের মতোই ইরানে এবার সব ধরনের মানুষ সরকার বিরোধিতায় নেমেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের মত ইরানের বর্তমান প্রশাসকেরাও বিক্ষোভকারীদের জঙ্গি এবং বিদেশে সাহায্যপ্রাপ্ত দেশবিরোধী শক্তি বলে উল্লেখ করে চরম দমন পীড়নের রাস্তায় হেঁটেছে। মৃত্যুর সংখ্যায় বাংলাদেশকেও ছাপিয়ে গিয়েছে ইরান (Iran)।
মাত্র ১৬ দিনে প্রায় ৭০০ কাছাকাছি মানুষ নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন গুলির জানাচ্ছে, নিহতরা শুধু বিক্ষোভকারী নয়। মৃতের তালিকায় পুলিশ কর্মী এবং সরকার সমর্থকরা আছে। ২০২৪ এ বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের সময়েও প্রচুর পুলিশ কর্মী এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সমর্থক নিহত হন