যদি ভিসা আধিকারিক মনে করেন আবেদনকারীর ট্রিপের প্রধান উদ্দেশ্য সন্তান জন্ম দেওয়া, তাহলে পর্যটক ভিসা সরাসরি বাতিল করা হবে (US tourist visa denied birthright citizenship)।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 12 December 2025 08:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ফের স্পষ্ট বার্তা দিল যে, শুধুমাত্র সন্তানের জন্ম এবং সেই সূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে আমেরিকা সফরের পরিকল্পনা করলে কোনও ভাবেই পর্যটক ভিসা মেলবে না (US tourist visa denied birthright citizenship)। বৃহস্পতিবার এক্স–এ পোস্ট করে মার্কিন দূতাবাসের (US Embassy India) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদি ভিসা আধিকারিক মনে করেন আবেদনকারীর ট্রিপের প্রধান উদ্দেশ্য সন্তান জন্ম দেওয়া, তাহলে পর্যটক ভিসা সরাসরি বাতিল করা হবে। এটি (Trump birthright citizenship order) অনুমোদিত নয়, পরিষ্কার জানিয়েছে দূতাবাস।
প্রসঙ্গত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (Birthright Citizenship) বন্ধ করার নির্দেশে সই করেছেন। এই নীতি অনুযায়ী, মার্কিন মাটিতে জন্মালেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার যে নিয়ম ছিল, ট্রাম্প প্রশাসন সেটাকেই চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের নীতি
ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের নির্দেশই তাঁর প্রশাসনের প্রথম অভিবাসন–সংক্রান্ত পদক্ষেপ যা চূড়ান্ত রায়ের জন্য মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে (US Supreme Court) উঠল। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট জানায়, তারা বিষয়টি শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে, অর্থাৎ ট্রাম্পের আদেশ সাংবিধানিক কিনা, তা এখন আদালতই ঠিক করবে।
ট্রাম্পের এই আদেশ বহাল থাকলে মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর ১২৫ বছরেরও বেশি সময়ের এক ব্যাখ্যার অবসান ঘটবে। এত দিন পর্যন্ত ‘জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব’কে আমেরিকার অভিবাসন নীতির অন্যতম মূল স্তম্ভ হিসেবে দেখা হতো।
নাগরিকত্ব নীতি বদল: নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবে
ট্রাম্প এ বছর জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই অভিবাসন–বিরোধী অবস্থান আরও কঠোর করেছেন। জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিল সেই উদ্যোগের প্রথম দিকের পদক্ষেপ। এর পাশাপাশি বেশ কয়েকটি শহরে কঠোর ইমিগ্রেশন অভিযান এবং শান্তিকালীন সময়ে ১৮শ শতকের Alien Enemies Act প্রয়োগের কথাও ঘোষণা করেছে তাঁর প্রশাসন।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ‘পলিটিকো’কে ট্রাম্প বলেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের ফাঁকে “লক্ষ লক্ষ মানুষ আমেরিকায় ঢুকেছে”, এবং দেশ আর তাদের “আশ্রয় দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না”। তাঁর দাবি, এই ব্যবস্থা মূলত আমেরিকায় দাসপ্রথা বিলুপ্তির পর দাসদের সন্তানের সুরক্ষার জন্য আনা হয়েছিল। আজকের অভিবাসন বাস্তবতার সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই।
তবে তিনি এটিও স্বীকার করেন, সুপ্রিম কোর্ট তাঁর পক্ষে রায় দিলে আগের মতো নাগরিকত্ব পাওয়া মানুষদের নাগরিকত্ব বাতিল করবেন কিনা, তা তিনি এখনও ভাবেননি।