সব বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হম্বিতম্বি ও হামবড়া ভাবকে একেবারে চুপসে দিয়েছে তাঁরই সামরিক সদর কার্যালয় পেন্টাগনের একটি অফিস।

তাইওয়ান দখল নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি না করার আভাস দিয়েছে ওই রিপোর্ট।
শেষ আপডেট: 11 December 2025 10:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সব বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হম্বিতম্বি ও হামবড়া ভাবকে একেবারে চুপসে দিয়েছে তাঁরই সামরিক সদর কার্যালয় পেন্টাগনের একটি অফিস। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস আমেরিকা সরকারের একটি গোপনতম পর্যালোচনা রিপোর্ট ফাঁস করে জানিয়েছে, চিন-মার্কিন সংঘাত বাধলে বেজিং সরকার মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলিকে খতম করে দেবে এবং ওয়াশিংটনের সেনার নাকে ঝামা ঘষে দেবে। সে কারণে তাইওয়ান দখল নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি না করার আভাস দিয়েছে ওই রিপোর্ট।
‘Overmatch Brief’ নামে পেন্টাগনের অফিস অফ নেট অ্যাসেসমেন্টের ওই রিপোর্টে দুই দেশের সামরিক ক্ষমতার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তাতে উল্লেখ রয়েছে যে, অত্যন্ত দামি অস্ত্রপাতির উপর ভরসা করে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে, শত্রুদেশের হাতে রয়েছে খুবই সস্তা কিন্তু প্রযুক্তিগতভাবে অনেক উন্নত যুদ্ধাস্ত্র।
নিউইয়র্ক টাইমসের এই খবরটি এমন সময় সামনে এসেছে, যার কয়েকদিন আগেই চিন তাইওয়ান নিয়ে কেউ পা বাড়ালে তাদের গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। চিন বলেছে, বিশ্বের কোনও শক্তি যদি তাইওয়ানের ব্যাপারে নাক গলায়, তাহলে তারা তাদের গুঁড়িয়ে দেবে। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই জাপান আমেরিকার উসকানিতে তাইওয়ানের খুব কাছে একটি দ্বীপে ক্ষেপণাস্ত্র মজুত করেছে।
জাপানের এই পদক্ষেপের ব্যাপারে চিনের তাইওয়ান সম্পর্কিত অফিসের মুখপাত্র একটি সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, আমরা আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং দেশের সংহতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর ও শক্তিশালী ক্ষমতা রাখি। কেউ যদি এ ব্যাপারে পা বাড়ানোর চেষ্টা করে, আমরা তাহলে তাদের একেবারে ধুলোয় মিশিয়ে দেব।
এ প্রসঙ্গেই পেন্টাগনের ওভারম্যাচ ব্রিফ নামে অতি গোপনীয় সরকারি তথ্য চিন ও আমেরিকার যুদ্ধ ক্ষমতা নিয়ে পর্যালোচনা করে। সেখানে আমেরিকার বোমারু জেট বিমান, বিশালাকার যুদ্ধজাহাজ ও উপগ্রহ নিয়ে বিশদে আলোচনা হয়েছে। এমনকী এখানে যুদ্ধকালীন আমেরিকার খাদ্য-সরঞ্জাম সরবরাহ ক্ষমতার দুর্বলতা নিয়েও আলোকপাত করা হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসে এক সরকারি অফিসার জানিয়েছেন, এই গোপন তথ্য দেখার পর তাঁর মুখ শুকিয়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, আমি দেখলাম আমাদের যত কায়দাকানুন আছে তার সবটাই আমাদের হাতের নাগালের বাইরে। এবং চিন ক্ষমতার উপরেও ক্ষমতাবান দেশ।
রিপোর্টে আরও উল্লেখ রয়েছে যে, কোনও সুপারপাওয়ারের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লড়াই করা এবং জেতা ওয়াশিংটনের সম্ভবপর নয়। রিপোর্টে রয়েছে, ভোল্ট টাইফুন নামে চিনের আর্থিক মদতপুষ্ট একটি হ্যাকিং গ্রুপ রয়েছে। যারা আমেরিকার কম্পিউটার সিস্টেমে যে কোনও সময় ম্যালওয়্যার ঢুকিয়ে দিতে সক্ষম। ফলে আমেরিকার যত সামরিক ঘাঁটি আছে, সেখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা, ক্ষমতা পরিচালনা এবং পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থা মুহূর্তে বিকল হয়ে যেতে পারে। শুধু সামরিক ক্ষেত্রে নয়, এতে সাধারণ মানুষের সমস্যা হবে।