দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতির পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেছি। ভারত ও আমেরিকা বিশ্বশান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির স্বার্থে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।”

গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 11 December 2025 20:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য-উত্তেজনার মধ্যেই বৃহস্পতিবার টেলিফোনে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। ঠিক এমন সময়ে তাঁদের ফোনে কথা হল যখন আবার মেক্সিকো (Mexico) ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে দিয়েছে। ট্রাম্পকে খুশি করতেই মেক্সিকো এই পদক্ষেপ করেছে বলে অনেকের অনুমান। আরও তাৎপর্যপূর্ণ হল, বৃহস্পতিবার থেকেই দিল্লিতে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্য আলোচনাও শুরু হয়েছে। ঠিক সেই অমোঘ মুহূর্তেই এসেছে ট্রাম্পের ফোন (Modi-Trump phone call)।
এখন কৌতূহলের বিষয় মোদী ও ট্রাম্পের মধ্যে কী কথা হল?
কথোপকথনের পরে প্রধানমন্ত্রী মোদী ‘এক্স’-এ লিখেছেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে অত্যন্ত উষ্ণ ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতির পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেছি। ভারত ও আমেরিকা বিশ্বশান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির স্বার্থে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।”
বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে জট কোথায়?
ওয়াশিংটনে এক শীর্ষ মার্কিন আধিকারিক জানিয়েছেন, ভারত দীর্ঘদিনের বকেয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির জন্য এবার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রস্তাব রেখেছে, কিন্তু আমেরিকার মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্য ভারতীয় বাজারে প্রবেশাধিকার না পাওয়া এখনও সবচেয়ে বড় বাধা।
মার্কিন ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ জেমিসন গ্রিয়ার সেনেট কমিটিকে জানান,“ভারত একটি কঠিন বাজার। কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে প্রবেশাধিকারের উপর বাধা রয়েছে। কিন্তু এবার যে প্রস্তাব ভারত দিয়েছে, তা এত বছরের মধ্যে সেরা।”
তিনি আরও জানান, দিল্লিতে মার্কিন প্রতিনিধিদল ভারতের কৃষিজ পণ্যের আমদানিবিরোধী অবস্থানসহ বাকি ‘ফ্রিকশন পয়েন্ট’গুলোর সমাধানে আলোচনায় ব্যস্ত।
ভারতের অবস্থান
বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল জানান, আলোচনা ঠিকঠাক গতিতে এগোচ্ছে। “আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তির পথে অগ্রসর হচ্ছি।” আমেরিকার প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি। দুই দেশের লক্ষ্য—চলতি বছরই ট্রেড চুক্তির প্রথম ধাপ চূড়ান্ত করা।
বাড়তি চাপ: মার্কিন শুল্কনীতির কড়া অবস্থান
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫% শুল্ক এবং রুশ তেল ক্রয়ের কারণে অতিরিক্ত ২৫% জরিমানা আরোপ করেছে। অর্থাৎ মোট ৫০% শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা কোনও বাণিজ্য অংশীদারের উপর চাপিয়ে দেওয়াটা নজরকাড়ার মতই। এর পরেই ট্রাম্প আবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ভারতের চাল আমদানি আসলে আমেরিকায় ‘ডাম্পিং’। এর পর নতুন শুল্ক আরোপের ইঙ্গিত দেন তিনি।
অনেকের মতে, ট্রাম্প কৌশলগত ভাবে চালের প্রসঙ্গ তুলে ভারতের বাজারে মার্কিন কৃষিপণ্য ঢোকাতে চাইছেন। দুগ্ধজাত পণ্য ও মাংস ভারতে রফতানির জন্য চাপ বাড়াতে পারে ওয়াশিংটন।