শীতকালীন অধিবেশনে নতুন বিতর্ক—লোকসভায় তৃণমূল সাংসদ ই-সিগারেট টেনেছেন বলে অভিযোগ বিজেপির অনুরাগ ঠাকরের। স্পিকার ওম বিড়লা জানালেন, প্রমাণ পেলে পদক্ষেপ করা হবে।

অনুরাগ ঠাকুর।
শেষ আপডেট: 11 December 2025 17:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শীতকালীন অধিবেশনে তর্ক-বিতর্কের আবহে বৃহস্পতিবার লোকসভার ভিতরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল। বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর অভিযোগ তোলেন— একজন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সংসদ ভবনের ভিতরেই নাকি ই-সিগারেট টানছেন। নাম না করেই তিনি বিষয়টি স্পিকার ওম বিড়লার নজরে আনেন।
অনুরাগ ঠাকুর বলেন, “ই-সিগারেট দেশে নিষিদ্ধ। আমি জানতে চাই, স্পিকার কি সংসদের ভিতরে ই-সিগারেট টানার অনুমতি দিয়েছেন? তৃণমূলের এক সাংসদ বহু দিন ধরে লোকসভায় ই-সিগারেট টানছেন।”
এই নিএ শোরগোলের মধ্যেই স্পিকার বিড়লা স্পষ্ট জানান, “কক্ষের ভিতরে কোনও সাংসদ ধূমপান করতে পারেন, এমন বিধান নেই। বিষয়টি যদি স্পষ্টভাবে আমার নজরে আসে, উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে।”
এই অভিযোগের পটভূমিতে রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের জারি করা কঠোর আইন। ২০১৯ সালে পাশ হওয়া Electronic Cigarettes (Prohibition) Act–এর মাধ্যমে দেশে ই-সিগারেট উৎপাদন, বিক্রি, আমদানি, রফতানি, এমনকি প্রচারও বেআইনি ঘোষিত হয়। আইন অনুযায়ী জেল ও জরিমানা— দু’ধরনের শাস্তিই প্রযোজ্য।
এমন পরিস্থিতিতে সংসদের ভিতরে ই-সিগারেট ব্যবহারের অভিযোগ স্বাভাবিকভাবেই তীব্র আলোড়ন তোলে। সূত্রের খবর, অভিযুক্ত ধূমপায়ী হলেন বর্ধমান-দুর্গাপুরের তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ।
বুধবার থেকেই SIR এবং ভোট চুরি সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধীর মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ বাঁধে লোকসভায়। তার পরেই ফের সিগারেট-বিতর্কে উত্তাল হল লোকসভা।
রাহুল গান্ধী অভিযোগ তুলেছিলেন, বিজেপি নাকি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে মিল রেখে ভোট চুরির ষড়যন্ত্র করছে। অমিত শাহ সাফ জবাব দেন, “কংগ্রেস আর দুর্নীতির ভরসায় নির্বাচন জিততে পারে না বলেই এসব প্রসঙ্গ তোলা হচ্ছে। কংগ্রেস হারলে বিচারপতিকে দায়ী করেন, আর কংগ্রেসকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে বলা হয়, বিজেপির এজেন্ট। এর পরে আবার কথা শুরু হয়েছে, ইভিএম নয়, ভোট চুরি নিয়ে।"
শাহ আরও কটাক্ষ করেন, “বিহারেও হারলেন। তবে তার কারণ ইভিএম নয়, আপনাদের নেতৃত্ব।” এর উত্তরে রাহুল সরাসরি বিতর্কের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন, “আমার তিনটি সাংবাদিক সম্মেলনের বক্তব্য নিয়ে আসুন খোলা বিতর্কে। হোম মিনিস্টার সাহেব, আসুন মুখোমুখি।”
গতকাল থেকে যখন এই গন্ডগোল চলছে, তার মধ্যেই আজ, বৃহস্পতিবার নতুন করে অভিযোগ উঠল তৃণমূল সাংসদের ই-সিগারেট খাওয়া নিয়ে। স্পিকার কোনও পদক্ষেপ করেন কিনা, সেদিকেই চোখ রাজনীতিক মহলের।