মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওর নেতৃত্বাধীন দফতর জানায়, সংশ্লিষ্ট দেশগুলির দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলিকে ইতিমধ্যেই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে, যাতে ওই সব দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন গ্রহণ না করা হয়।
.jpg.webp)
ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 15 January 2026 09:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান-সহ মোট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা (Immigrant Visa) প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (US Govt)। বুধবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানায় মার্কিন বিদেশ দফতর (State Department)। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এই স্থগিতাদেশ কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
মার্কিন বিদেশ দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে গত নভেম্বর মাসে জারি হওয়া একটি নির্দেশিকার ভিত্তিতে। সেই নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, যাঁদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি ভাতা বা জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের উপর নির্ভর করার আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ভিসা প্রক্রিয়া আরও কড়াভাবে খতিয়ে দেখা হবে। এই নীতির আওতাতেই আপাতত ৭৫টি দেশের অভিবাসী ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওর নেতৃত্বাধীন দফতর জানায়, সংশ্লিষ্ট দেশগুলির দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলিকে ইতিমধ্যেই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে, যাতে ওই সব দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসার (Immigrant Visa) আবেদন গ্রহণ না করা হয়। তবে এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়বে না নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা (Non-Immigrant Visa), অর্থাৎ পর্যটক (Tourist Visa), ব্যবসা বা স্বল্পমেয়াদি ভিসা। ফলে সাময়িক ভিসা আবেদনকারীরা এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকছেন।
মার্কিন বিদেশ দফতরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ট্রাম্প প্রশাসন (Donald Trump Govt) আমেরিকার অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর। যারা আমেরিকান জনগণের অর্থ ও কল্যাণমূলক প্রকল্পের উপর নির্ভর করতে চান, তাদের প্রবেশ রুখতেই এই পদক্ষেপ।” বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, ভিসা প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়ন না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) প্রথম মেয়াদেই ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির আওতা বাড়ানো হয়েছিল। স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে কোন কোন সরকারি সুবিধা গ্রহণ অযোগ্য বলে গণ্য হবে, সেই তালিকাও সম্প্রসারিত করা হয়। বর্তমান নির্দেশিকা সেই নীতিকেই আরও কড়া করছে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভিসা আবেদনকারীদের বয়স, শারীরিক অবস্থা, পারিবারিক পরিস্থিতি, আর্থিক সামর্থ্য, শিক্ষা, দক্ষতা, এমনকি ইংরেজি ভাষায় দক্ষতাও খতিয়ে দেখতে পারবেন কনস্যুলার অফিসাররা। প্রয়োজনে ইংরেজিতে সাক্ষাৎকার নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
এই তালিকায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ছাড়াও রয়েছে নেপাল, শ্রীলঙ্কা-সংলগ্ন দেশগুলি, আফ্রিকা, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার একাধিক রাষ্ট্র। অভিবাসন নীতি আরও কঠোর হওয়ায়, আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন আপাতত বহু মানুষের কাছেই আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠল বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।