ইরান ও আমেরিকার সংঘাত ঘিরে চরম উত্তেজনা পশ্চিম এশিয়ায়। কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনা সরানোর সিদ্ধান্তে যুদ্ধের আশঙ্কা আরও ঘনালো।
.jpeg.webp)
ইরান ও আমেরিকার সংঘাত
শেষ আপডেট: 14 January 2026 23:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরান ও আমেরিকার সংঘাত (Iran US Conflict) কি তবে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছতে চলেছে? মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমশ ঘনাচ্ছে যুদ্ধের আশঙ্কা। বুধবার সন্ধ্যার মধ্যেই পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি, কাতারের আল-উদেইদ থেকে মার্কিন কর্মীদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আমেরিকার তরফে জানানো হয়েছে, এটি একটি ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’। তবে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের দাবি, পেন্টাগনের এই পদক্ষেপ আসলে বড় মাপের সংঘাত শুরুর আগের কৌশলগত প্রস্তুতি। একই সঙ্গে ইজ়রায়েলি গোয়েন্দা সূত্রের বক্তব্য, ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি অনুযায়ী, ইরানে চলমান বিক্ষোভে এখনও পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ২৪০০ ছাড়িয়েছে। এই দমন-পীড়নের তীব্র নিন্দা করে মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দেন ট্রাম্প। তিনি লেখেন, ‘সাহায্য আসছে... আন্দোলন চালিয়ে যান।’ পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, আন্দোলনকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে আমেরিকা ‘কঠোরতম পদক্ষেপ’ নেবে। বর্তমানে দু’দেশের মধ্যে সব ধরনের কূটনৈতিক আলোচনা কার্যত বন্ধ।
এর পাল্টা জবাবে ইরানও স্পষ্ট করে দিয়েছে, আমেরিকার হামলা হলে তারাও প্রতিশোধ নেবে। তেহরান প্রতিবেশী দেশগুলিকে সতর্ক করে জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যদি আমেরিকা হামলা চালায়, তবে সেই দেশগুলিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানবে। অর্থাৎ কাতার বা বাহরিন, কেউই যুদ্ধের আঁচ থেকে রেহাই পাবে না।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই কাতারের ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনা কমানোর খবর সামনে এসেছে। কাতার সরকারও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আঞ্চলিক উত্তেজনার কথা মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ।’ রয়টার্সের দাবি, শুধু কাতার নয়—মধ্যপ্রাচ্যের আরও একাধিক বড় মার্কিন ঘাঁটি থেকেও সেনা ও কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত বছর ইরানে আমেরিকার আকাশপথে হামলার পর আল-উদেইদ ঘাঁটিতে ইরানের মিসাইল আছড়ে পড়েছিল। তার আগেও একইভাবে নিঃশব্দে সেনা সরিয়ে নিয়েছিল ওয়াশিংটন। এবারও কি সেই পুরনো কৌশলই অনুসরণ করছে আমেরিকা? মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কায় আতঙ্কিত গোটা বিশ্ব।