গত কয়েক সপ্তাহে ওয়াশিংটন তার আগের কড়া অবস্থান থেকে খানিকটা সরে এসে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনাকে কেন্দ্র করে থাকা অস্বস্তি কমানোর চেষ্টা করেছে (US stance on Russian oil imports)।

ছবি - গুগল
শেষ আপডেট: 14 November 2025 09:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত–মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্কের বরফ যেন গলতে শুরু করেছে (India–US trade deal progress)। দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন ও অনিশ্চয়তার পর অবশেষে সামনে এল ইতিবাচক খবর। মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ এক আধিকারিকের ভারতের সঙ্গে বহু প্রতীক্ষিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির (India US Trade Deal) আলোচনায় 'অনেক ইতিবাচক অগ্রগতি' দেখা যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত কয়েক সপ্তাহে ওয়াশিংটন তার আগের কড়া অবস্থান থেকে খানিকটা সরে এসে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনাকে কেন্দ্র করে থাকা অস্বস্তি কমানোর চেষ্টা করেছে (US stance on Russian oil imports)।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মার্কিন আধিকারিক বলেন, ভারত ও আমেরিকা বর্তমানে দুটি সমান্তরাল ইস্যুতে কাজ করছে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি এবং রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি নিয়ে উদ্বেগ।
সেই আধিকারিকের কথায়, “সম্প্রতি আমাদের মধ্যে বেশ কিছু ইতিবাচক উন্নতি হয়েছে। বাণিজ্য আলোচনাও এগোচ্ছে, আর রাশিয়ান অয়েল সংক্রান্ত বাজার পরিস্থিতিতেও উন্নতির ইঙ্গিত মিলছে।”
তিনি আরও জানান, বছরের শেষের আগেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ধরা দিতে পারে, যদিও এখনও অনেক কাজ বাকি। “আরাম করে বসে থাকার সময় নয়,” বলেই তিনি ইঙ্গিত দেন, এগোনোর গতি খুবই উৎসাহজনক।
চুক্তি হলে বদলে যাবে বাজার-অ্যাকসেস ও শুল্ক কাঠামো
সম্ভাব্য ভারত–মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির মূল লক্ষ্য দুই দেশের বাজারে শুল্ক কমানো, অ্যাকসেস বাড়ানো এবং বহুদিনের সমস্যাগুলি নিষ্পত্তি করা। এর মধ্যে রয়েছে -
এছাড়াও প্রযুক্তি স্থানান্তর, ডেটা রেগুলেশন এবং ই-কমার্সে দীর্ঘদিনের মতবিরোধ - এই সবই আলোচনার অংশ হতে পারে।
মার্কিন প্রশাসনের লাতিন আমেরিকা ফোকাসের মধ্যেও গুরুত্ব পাচ্ছে ভারত
একই দিনে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে - আর্জেন্টিনা, এল সালভেডর, ইকুয়েডর ও গুয়াতেমালার সঙ্গে প্রাথমিক বাণিজ্য সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে যেসব পণ্য উৎপাদন হয় না, সেগুলির ওপর শুল্ক ছাড়ই এই চুক্তিগুলির মূল লক্ষ্য।
মার্কিন কর্তারা বলছেন, এটি বৃহৎ বহুপাক্ষিক কাঠামোর বদলে টার্গেটেড দ্বিপাক্ষিক চুক্তির দিকে ওয়াশিংটনের কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত। সাম্প্রতিক সময়ে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও সুইজারল্যান্ডের সঙ্গেও গঠনমূলক বাণিজ্য-আলোচনা চলছে।
দিল্লিতে আলোচনার গতি বাড়াতে নতুন দূত
ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সের্জিও গর। শপথগ্রহণের অনুষ্ঠানে ট্রাম্প নিজেই ইঙ্গিত দেন, ভারতীয় আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে 'বড় ধরনের অগ্রগতি' ধরা দিতে পারে।
ট্রাম্পের ভাষায়, “আমরা এমন কিছুতে পৌঁছনোর খুব কাছে, যা সত্যিই বড় পরিবর্তন আনতে পারে।”
ফল কোথায় আটকে?
গত কয়েক বছরে বাণিজ্য চুক্তির চেষ্টায় বারবার বাধা এসেছে -
এই সব প্রশ্নে দড়ি-টানাটানিই আলোচনাকে থামিয়ে দিত।
তবে সাম্প্রতিক ইঙ্গিত বলছে, দুই পক্ষই এবার বাস্তব পরিস্থিতি মাথায় রেখে আরও ইতিবাচক পথে হাঁটতে চাইছে।