সোমবার বেজিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, আর্কটিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতাবস্থা ও টেকসই উন্নয়নই চিনের কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য।

শি জিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 12 January 2026 17:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্রিনল্যান্ড (Greenland) নিয়ে আমেরিকার (US) অবস্থানকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করল চিন। বেজিং স্পষ্ট জানাল, নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য অন্য দেশকে ‘অজুহাত’ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। পাশাপাশি চিনের (China) দাবি, আর্কটিক অঞ্চলে তাদের যাবতীয় কার্যকলাপ আন্তর্জাতিক আইনের মধ্যেই রয়েছে।
সোমবার বেজিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, আর্কটিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতাবস্থা ও টেকসই উন্নয়নই চিনের কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য। তাঁর কথায়, “আইন মেনে আর্কটিক অঞ্চলে কাজ করার অধিকার সব দেশেরই রয়েছে। সেই অধিকারকে পূর্ণ সম্মান জানানো উচিত।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, “আমেরিকার উচিত নয় নিজের স্বার্থে অন্য দেশগুলিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা।”
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিক বার বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে না এলে তা রাশিয়া বা চিনের হাতে চলে যেতে পারে। তাই ওই আর্কটিক দ্বীপটি ‘দখল’ করা প্রয়োজন বলে তাঁর দাবি। এমনকি রবিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, তিনি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ‘চুক্তি’ করতে চান, তবে দরকার হলে অন্য পথও নেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য, “এক ভাবে হোক বা অন্য ভাবে, আমাদের গ্রিনল্যান্ড লাগবেই।”
ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান ঘিরে চলতি মাসে ওয়াশিংটন, কোপেনহেগেন ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে টানাপড়েন বেড়েছে। হোয়াইট হাউস নাকি গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের নানা সম্ভাব্য পথ খতিয়ে দেখছে, যার মধ্যে সামরিক শক্তি ব্যবহারের কথাও রয়েছে বলে জল্পনা।
এই প্রসঙ্গে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সতর্ক করে দিয়েছেন, আমেরিকা যদি গ্রিনল্যান্ড দখল করে, তা হলে ন্যাটোর অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়বে। অন্য দিকে, শুক্রবার গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স–ফ্রেডেরিক নিলসেন এবং সে দেশের সংসদের আরও চারটি দলের নেতারা যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার শুধু সেখানকার জনগণের। একই সঙ্গে তাঁরা আমেরিকার ‘অবজ্ঞাসূচক মনোভাব’ বন্ধ করার আহ্বান জানান।
চিন অবশ্য সরাসরি গ্রিনল্যান্ডের নাম না করেই বলেছে, আর্কটিক অঞ্চল কোনও একটি দেশের একক স্বার্থের বিষয় নয়। মাও নিংয়ের কথায়, “আর্কটিক গোটা আন্তর্জাতিক সমাজের সামগ্রিক স্বার্থের সঙ্গে জড়িত।”
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে চিন নিজেকে ‘নিয়ার-আর্কটিক রাষ্ট্র’ বলে ঘোষণা করে এবং ওই অঞ্চলে প্রভাব বাড়ানোর কথা জানায়। পাশাপাশি বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের অংশ হিসেবে ‘পোলার সিল্ক রোড’ তৈরির পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে বেজিং।
এই পরিস্থিতিতে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে আন্তর্জাতিক কূটনীতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহেই ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিরা ওয়াশিংটনে পৌঁছতে পারেন আলোচনার জন্য। একই সঙ্গে আমেরিকার কয়েক জন সেনেটরের ডেনমার্ক সফরের প্রস্তুতিও চলছে। গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে বড় শক্তিগুলির এই টানাপড়েন কোন দিকে গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।