গত মাসে বাংলাদেশ সরকার চিনের কাছ থেকে যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আশ্চর্যের হল এই ব্যাপারে এক প্রকার এজেন্টের কাজ করছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী।

শেষ আপডেট: 12 January 2026 14:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে সামরিক ড্রোন তৈরির কারখানা গড়তে চলেছে চিন। দুই দেশের মধ্যে এ নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যদিও কোনও দেশই সরকারিভাবে এই চুক্তির কথা এখনও ফাঁস করেনি। বিমান বাহিনীর প্রস্তাব মত বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এই সংক্রান্ত ফাইল অর্থ মন্ত্রকে যাওয়ার পর বিষয়টি জানাজানি হয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা ডঃ সালেহউদ্দিন আহমেদও এই বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি।
যুদ্ধের সময় বোমা ফেলতে সহায়ক ড্রোন তৈরির কারখানাটি বাংলাদেশের কোথায় গড়ে তোলা হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই সিদ্ধান্তকে ভারতের ঘাড়ের ওপর চিনের নিঃশ্বাস ফেলার চেষ্টা বলে মনে করছে কূটনৈতিক ও সামরিক বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশের লালমনিরহাট এবং ঠাকুরগাঁওয়ে অবস্থিত দুটি পরিত্যক্ত সামরিক বিমান ঘাঁটি সচল করতে চিনের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের আলোচনা চলছে। ওই বিমান ঘাঁটি দুটি ভারতের সীমান্ত থেকে তিন-চার কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত। বাংলাদেশ সরকারের ওই সিদ্ধান্তকেও ভারত অত্যন্ত সন্দেহের চোখে দেখছে। একাধিক সূত্র জানাচ্ছে বিমান ঘাঁটি দুটি সচল করার পর সেখানে চিন তাদের সামরিক তৎপরতা বাড়াতে পারে, যা ভারতের জন্য অত্যন্ত দুশ্চিন্তার। লালমনিরহাট এবং ঠাকুরগাঁওয়ের বিমান ঘাঁটি হজম করার সিদ্ধান্ত জানার পর ভারতের সামরিক কর্তাদের একটি দল বাংলাদেশ সফর করেছেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্তাদের ভারতের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন সেনা আধিকারিকেরা।
ড্রোন কারখানা তৈরির ওই প্রকল্পে বাংলাদেশি অর্থে চিন ৬০৮ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। পুরো প্রযুক্তিও তাদের। কারখানাটি গড়ে উঠবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর তত্ত্বাবধানে।
গত মাসে বাংলাদেশ সরকার চিনের কাছ থেকে যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আশ্চর্যের হল এই ব্যাপারে এক প্রকার এজেন্টের কাজ করছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। তারা দাবি করছে, গত বছর মে মাসে ভারতের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে চিনের প্রযুক্তিতে তৈরি বিমান চূড়ান্ত দক্ষতার পরিচয় দেয়। ওই বিমান দিয়ে তারা ভারতের বেশকিছু যুদ্ধবিমানকে ভূপতিত করে বলে পাকিস্তান দাবি করছে। পাকিস্তানের দাবিকে হাতিয়ার করেছে চিন। তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে বোঝাচ্ছে তাদের প্রযুক্তিতে তৈরি যুদ্ধবিমান কীভাবে ভারতের রাফায়েল সহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমানকে আঘাত করতে সক্ষম হয়েছে।
গত সপ্তাহে বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর প্রধান ইসলামাবাদে গিয়ে পাক বিমানবাহিনীর প্রধানের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করে এসেছেন। তার আগে দফায় দফায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্তারা ঢাকা সফর করে গিয়েছেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কয়েকটি ক্যান্টনমেন্টও সফর করেছেন পাক সেনা আধিকারিকেরা।
দুই দেশের সেনাবাহিনীর এই তৎপরতার মাঝে প্রকাশ পেল বাংলাদেশে চিনের সামরিক ড্রোন তৈরির কারখানার বিষয়টি। সে দেশে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক রয়েছে প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের অধীনে। প্রধান উপদেষ্টার উৎসাহে চিনের সঙ্গে বাংলাদেশের ড্রোন কারখানা তৈরি নিয়ে চুক্তি হয়ে গিয়েছে।
অপারেশন সিঁদুরের পর থেকেই পাকিস্তানে সেনা কর্তারা একপ্রকার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন হিন্দুস্তানের সঙ্গে তাদের পরবর্তী যুদ্ধ হবে পূর্বপ্রান্তে। এর অর্থ বাংলাদেশের মাটি থেকে পাকিস্তান ভারতকে আক্রমণ শানাবে। দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক ঘনিষ্ঠতা এবং সামরিক বিষয়ে সহযোগিতা থেকে অনেকেই মনে করছেন ভবিষ্যতে এই তৎপরতা ভারতের জন্য বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। এমনকী আগামী দিনে বাংলাদেশের মাটিতে চিনের সামরিক ঘাঁটি গড়ে ওঠাও অসম্ভব নয়।