আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। ওয়াশিংটনের (Washington) বক্তব্য, ইরানকে কোণঠাসা করতে “ম্যাক্সিমাম প্রেশার” (Maximum Pressure) নীতি আরও জোরদার করার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ।

চাবাহার বন্দর
শেষ আপডেট: 18 September 2025 23:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের চাবাহার (Chabahar Port) বন্দরের উন্নয়ন ও পরিচালনা নিয়ে ভারতের (India) স্বপ্নে বড়সড় ধাক্কা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (US) জানিয়ে দিয়েছে, ২০১৮ সালে দেওয়া বিশেষ ছাড় (Sanctions Waiver) প্রত্যাহার করা হচ্ছে। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। ওয়াশিংটনের (Washington) বক্তব্য, ইরানকে কোণঠাসা করতে “ম্যাক্সিমাম প্রেশার” (Maximum Pressure) নীতি আরও জোরদার করার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ।
চাবাহার বন্দর ভারতের কাছে কৌশলগত ভাবে অত্যন্ত (Strategic) গুরুত্বের। আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্যপথ তৈরি করেছে এই বন্দর, যা পাকিস্তানকে এড়িয়ে ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থার নতুন দিশা দিয়েছে। কিন্তু ছাড় প্রত্যাহার হলে ভারতীয় কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীরা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন।
ভারতের জন্য কী সংকট তৈরি হল
গত বছরই (১৩ মে, ২০২৪) ভারত ইরানের পোর্ট অ্যান্ড মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (Port and Maritime Organisation of Iran) সঙ্গে দশ বছরের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। ভারতীয় পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড (IPGL) প্রায় ১২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে সম্মত হয় এবং আরও ২৫০ মিলিয়ন ডলারের ক্রেডিট লাইন দেওয়ার পরিকল্পনাও ঘোষণা করে। এই প্রথম ভারতের কোনও বিদেশি বন্দরে দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু নতুন মার্কিন সিদ্ধান্ত সেই চুক্তির ভবিষ্যতকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিল।
চাবাহার প্রকল্প ভারতের কৌশলগত পাল্টা চাল হিসেবেও দেখা হয়। কারণ, মাত্র ১৪০ কিলোমিটার দূরেই পাকিস্তানের গওয়াদর বন্দর (Gwadar Port), যা চিনের নিয়ন্ত্রণে। ফলে চাবাহার কার্যত দিল্লির জন্য বেজিংয়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে ঠেকানোর অস্ত্র।
আমেরিকার যুক্তি
ওয়াশিংটনের বক্তব্য, একবার ছাড় প্রত্যাহার হলে চাবাহার বন্দরে কাজ করলে বা সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামোতে যুক্ত থাকলে সেই ব্যক্তি বা সংস্থাকে সরাসরি ইরান ফ্রিডম অ্যান্ড কাউন্টার-প্রলিফারেশন অ্যাক্ট (IFCA)–এর আওতায় আনা হবে। অর্থাৎ, নিষেধাজ্ঞা এড়ানো আর সম্ভব হবে না। মার্কিন বিদেশ দফতর স্পষ্ট জানিয়েছে, ইরান সরকারের আর্থিক নেটওয়ার্ক ও সামরিক কার্যকলাপ রুখতেই এই পদক্ষেপ।
ভারতের দ্বিধা বাড়ল
২০০৩ সালে প্রথমবার ভারত চাবাহার উন্নয়নের প্রস্তাব দিয়েছিল। আফগানিস্তানে গম সাহায্য পাঠানো থেকে শুরু করে মধ্য এশিয়ার বাণিজ্যপথ খোলার ক্ষেত্রে বন্দরটির গুরুত্ব অপরিসীম। ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন ফের ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপালেও আফগানিস্তানের প্রেক্ষাপটে চাবাহারকে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছিল। সেই পথ এখন বন্ধ হয়ে গেল।
ফলে প্রশ্ন উঠছে ভারত কীভাবে এই বিনিয়োগ ও কৌশলগত অবস্থান রক্ষা করবে? একদিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, অন্যদিকে তেহরানকে পাশে রাখা এবং ইজরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখা— সব মিলিয়ে দিল্লির জন্য চাবাহার হয়ে উঠল বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ।