মার্কিন টেক ইন্ডাস্ট্রি বহু বছর ধরেই বিদেশি দক্ষ কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল, বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ফিনটেক সেক্টর। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এবার যুক্তি দিচ্ছে - সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্যই এই বাড়তি নজরদারি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 4 December 2025 08:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার দাবি তুলে এবার আরও কঠোর ভিসা যাচাই (Visa Process) প্রক্রিয়া চালু করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA)। নয়া নির্দেশে মার্কিন প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছে - H-1B সহ সব ভিসা আবেদনকারীর লিংকডইন প্রোফাইল (LinkedIn Profile) ও রিজিউম (Resume) এখন থেকে খুঁটিয়ে দেখা হবে।
এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারেন ভারত (India) ও চিন (China) থেকে আসা বিপুল সংখ্যক H-1B ভিসা প্রাপ্ত কর্মী। মার্কিন টেক ইন্ডাস্ট্রি বহু বছর ধরেই বিদেশি দক্ষ কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল, বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ফিনটেক সেক্টর। তবে ট্রাম্প প্রশাসন (Donald Trump Administration) এবার যুক্তি দিচ্ছে - সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্যই এই বাড়তি নজরদারি।
সাম্প্রতিক ওই সরকারি চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ভিসা অফিসারদের দেখতে হবে আবেদনকারী অথবা তাঁদের পরিবারের কেউ কনটেন্ট মডারেশন, মিথ্যা তথ্য শনাক্তকরণ, ডিসইনফরমেশন রিসার্চ, ফ্যাক্ট-চেকিং, কমপ্লায়েন্স বা অনলাইন সেফটির মতো ক্ষেত্রে কাজ করেছেন কিনা। কারণ এই কাজগুলির কিছু অংশ যুক্তরাষ্ট্রের আইনে সুরক্ষিত মতপ্রকাশ সীমিত করতে পারে, এমনটাই দাবি ওয়াশিংটনের।
চিঠিতে আরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যদি কোনও আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে সুরক্ষিত মতপ্রকাশ দমন বা দমন-প্রচেষ্টায় যুক্ত থাকেন, তাহলে তাঁকে অনুপযুক্ত বলে ঘোষণা করতে হবে। অর্থাৎ, শুধু প্রথমবারের নয়, পুনরায় ভিসা চাইলে সেখানেও একইভাবে পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই হবে।
টেক ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত H-1B আবেদনকারীরাই মূলত নজরের কেন্দ্রে। মার্কিন প্রশাসনের মতে, সোশ্যাল মিডিয়া, ফিনান্সিয়াল সার্ভিস বা বড় টেক সংস্থায় কর্মরত অনেকেই এমন পদে কাজ করেন যেখানে 'সেন্সরশিপ'-এর অভিযোগ উঠেছে। তাই তাঁদের কর্মজীবন খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন গত এক বছরে 'ফ্রি স্পিচ ডিফেন্স'-কে (Free Speech Defense) বিদেশনীতি হিসেবে সামনে এনেছে। এ বছরের শুরুতে রিপাবলিকান সেনেটর মার্কো রুবিও ঘোষণা করেছিলেন, যে কেউ যুক্তরাষ্ট্রের মতপ্রকাশ স্বাধীনতা দমানোর কাজে যুক্ত থাকবে, তাকে ভিসা-ব্যান করতে হবে। বিদেশি সংস্থা বা নিয়ন্ত্রক সংস্থায় কর্মরতদেরও এর আওতায় আনার কথা বলেন তিনি।
এখন সেই অবস্থানই সরকারি প্রক্রিয়ায় পরিণত হল। ছাত্রভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রিনিং ইতিমধ্যেই কঠোর হয়েছে, তার পাশাপাশি H-1B ভিসার ফি বেড়েছে। নতুন এই নির্দেশে বিদেশি পেশাজীবীদের ওপর চাপ আরও বাড়ল বলেই মনে করছেন ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞরা।