এক দিন আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন—“তৃতীয় বিশ্বের সমস্ত দেশের জন্য আমেরিকার অভিবাসন স্থায়ী ভাবে বন্ধ করা হবে।”

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 29 November 2025 08:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের হত্যাকাণ্ড যেন আগুনে ঘি ঢালল। এক দিন আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ঘোষণা করেছিলেন—“তৃতীয় বিশ্বের সমস্ত দেশের জন্য আমেরিকার অভিবাসন স্থায়ী ভাবে বন্ধ করা হবে।”
ঘোষণা হাওয়ায় মিলিয়ে যাওয়ার আগেই পরের দিন কড়া পদক্ষেপ নিল তাঁর প্রশাসন। শনিবার মার্কিন বিদেশ দফতর জানিয়ে দিল—আফগান পাসপোর্টধারীদের ভিসা ইস্যু ‘অবিলম্বে’ স্থগিত করা হল (US pauses visas for all Afghan passport holders)। খবরটি নিশ্চিত করেছেন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিয়োও।
মার্কিন বিদেশ দফতর সমাজমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে বলেছে, “আফগান পাসপোর্টে যাঁরা আমেরিকায় আসতে চান, তাঁদের ভিসা ইস্যু আপাতত বন্ধ। মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপই নেওয়া হবে।”
পোস্টটি শেয়ার করে রুবিয়ো লিখেছেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিদেশ দফতর সকল আফগান নাগরিকের ভিসা দেওয়া বন্ধ করেছে। দেশ ও নাগরিকদের সুরক্ষাই আমাদের অগ্রাধিকার।”
এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে হোয়াইট হাউসের সামনে ঘটে যাওয়া রক্তাক্ত ঘটনা। কিছু দিন আগেই একটি বন্দুকবাজের গুলিতে মারা যান ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ন্যাশনাল গার্ড সদস্য সারাহ্ বেকস্ট্রম (২০) এবং অ্যান্ড্রু উলফ (২৪)। পরে জানা যায়, হামলাকারী রহমানুল্লা লাকানওয়াল ছিলেন আফগানিস্তানের নাগরিক, যিনি ২০২১ সালে আমেরিকায় এসে স্থায়ী হয়েছিলেন। গুলিবর্ষণের পরেই হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা রক্ষীদের গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই আফগানিস্তানের উপর সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন ট্রাম্প।
ঘটনার আরও একটি রাজনৈতিক তাৎপর্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় আফগানিস্তানের সঙ্গে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ কর্মসূচি’ চালু করেছিলেন—যুদ্ধে আমেরিকাকে সাহায্যকারী আফগানদের পুরস্কার হিসেবে। সেই কর্মসূচির অধীনেই আমেরিকায় ঢুকেছিলেন লাখানওয়াল। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর ট্রাম্প তোপ দেগেছেন বাইডেন প্রশাসনের বিরুদ্ধে। যদিও বিতর্কিত তথ্য আরেক দিকে ইঙ্গিত করছে—লাখানওয়ালা ট্রাম্পের পূর্ববর্তী মেয়াদকালেই আনুষ্ঠানিক আশ্রয় পেয়েছিলেন।
হামলার পর ফের তৎপর ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবারই ট্রাম্প ঘোষণা করেন—“যাঁরা আমেরিকার নাগরিক নন, তাঁরা কোনও সরকারি সুবিধা পাবেন না। অনুপ্রবেশ বন্ধে কঠোর নজরদারি হবে।” পাশাপাশি জানান, আফগানিস্তান-সহ ১৯টি দেশের নাগরিকদের গ্রিন কার্ড আবেদন ফের খতিয়ে দেখা হবে। আর তার এক দিনের মাথায় আফগানদের ভিসা বন্ধের ঘোষণা—যা ইঙ্গিত দিচ্ছে, অভিবাসন নীতিতে ট্রাম্প আরও কঠোর পথেই হাঁটতে চলেছেন।