ভারতের রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনা নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল, তাও দ্রুত মিটে যাবে বলে আশাবাদী ওয়াশিংটন। যদিও জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে মার্কিন দফতরের বক্তব্য, এটি সম্পূর্ণ দ্বিপাক্ষিক ইস্যু।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 25 September 2025 09:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানাপোড়েন থাকলেও ভারত-আমেরিকার সম্পর্ক (India US Relation) অটুট রয়েছে - এমনটাই দাবি মার্কিন স্বরাষ্ট্র দফতরের। এক শীর্ষ কর্তার কথায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) বৈঠক খুব তাড়াতাড়ি হতে চলেছে। একই সঙ্গে চতুর্দেশীয় (Quad) শীর্ষ সম্মেলনের তারিখ নিয়েও আলোচনা চলছে। এ বছর না হলে আগামী বছর শুরুর দিকেই সেই বৈঠক হতে পারে।
মার্কিন ওই শীর্ষ কর্তার দাবি, মোদী এবং ট্রাম্পের সম্পর্ক খুবই ইতিবাচক। তাই দুই রাষ্ট্রের সম্পর্কেও ইতিবাচক গতি অব্যাহত থাকবে। খুব জলদিই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন নতুন অধ্যায় আসবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল, দ্বিপাক্ষিক টানাপড়েনের কারণে ট্রাম্প হয়তো কোয়াড শীর্ষ বৈঠকের (Quad Meeting) জন্য ভারতে আসবেন না। তবে ওয়াশিংটনের এই বার্তায় আপাতভাবে মনে হচ্ছে, বরফ আরও গলেছে। দুই দেশের সম্পর্কে পথ অনেকটাই উন্নত হয়েছে।
ভারতের রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনা নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল, তাও দ্রুত মিটে যাবে বলে আশাবাদী ওয়াশিংটন। যদিও জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে (Jammu Kashmir Issue) মার্কিন দফতরের বক্তব্য, এটি সম্পূর্ণ দ্বিপাক্ষিক ইস্যু। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনও রকম মধ্যস্থতার পরিকল্পনা করছে না। তাঁদের স্পষ্ট কথা - 'এটা ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের বিষয়। যদি তাঁরা চান, আমেরিকা সাহায্য করতে প্রস্তুত। তবে এই ইস্যুতে সরাসরি জড়ানোর কোনও ইচ্ছে নেই।'
তাৎপর্যপূর্ণভাবে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টই বারংবার দাবি করে এসেছেন যে, ভারত-পাকিস্তান সংঘাত তিনি থামিয়েছেন এবং প্রয়োজনে কাশ্মীর ইস্যুর সমাধান করতেও তিনি প্রস্তুত। কিন্তু বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে, এই মুহূর্তে দুই দেশ যে অবস্থানে রয়েছে তাতে নতুন করে কেউই আর জট পাকাতে চাইছে না। আপাতত আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক সুস্থ রাখার ওপরই জোর দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে অবশ্য রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে ফের ভারতকে একপ্রকার হুঁশিয়ারি দিয়েছে আমেরিকা। মার্কিন জ্বালানি সচিব (US Energy Secretary) ক্রিস রাইট (Chris Wright) বলেন, ভারতের হাতে প্রচুর বিকল্প আছে, তাই রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করা উচিত। তিনি দাবি করেন, মস্কো থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল কেনা মানে পরোক্ষে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনকে মদত দেওয়া (Russia-Ukraine War)। একই সঙ্গে তিনি ভারত-আমেরিকার জ্বালানি সহযোগিতার আরও বিস্তৃত সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন।
রাইট বলেন, “আমরা ভারতকে শাস্তি দিতে চাই না। পৃথিবীর যে কোনও দেশ থেকে তেল কিনতে পারে ভারত, শুধু রাশিয়া ছাড়া। আমেরিকারও তেল বিক্রি করার ক্ষমতা আছে, অন্য দেশগুলিরও আছে।” তাঁর মতে, অন্য দেশের তুলনায় সস্তা বলেই ভারত রুশ তেলের দিকে ঝুঁকছে।