হিসেব অনুযায়ী, এই তেল বিশ্ববাজারে এলে তা প্রায় ১০ দিন থেকে দু’সপ্তাহের জোগান মেটাতে সক্ষম হবে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারির দাবি, এই অতিরিক্ত সরবরাহ আগামী ১০ থেকে ১৪ দিন তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 20 March 2026 09:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম (global oil prices) নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিল আমেরিকা। ট্যাঙ্কারে আটকে থাকা ইরানের তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল (Iran oil sanctions US) করা হতে পারে, এমনটাই জানালেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট।
বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, “আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই জলে থাকা ইরানের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হতে পারে। এর পরিমাণ প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল।” ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্কের একটি অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বেসেন্টের হিসেব অনুযায়ী, এই তেল বিশ্ববাজারে এলে তা প্রায় ১০ দিন থেকে দু’সপ্তাহের জোগান মেটাতে সক্ষম হবে। তাঁর দাবি, এই অতিরিক্ত সরবরাহ আগামী ১০ থেকে ১৪ দিন তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে।
হরমুজ প্রণালী সংকট, চড়া তেলের দাম
গত দু’সপ্তাহ ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের উপরে রয়েছে। এর প্রধান কারণ, ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং একাধিক তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে সরবরাহ বাড়ানোই এখন ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য।
আগেও একই পদক্ষেপ, বাড়বে সরবরাহ
মার্কিন ট্রেজারি ইতিমধ্যেই রাশিয়ার ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল। ট্যাঙ্কারে আটকে থাকা নিষিদ্ধ রুশ তেল বিক্রির অনুমতি দিয়ে প্রায় ১৩০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে আনা হয়েছিল, যা সরবরাহ বাড়াতে সাহায্য করে।
এবার ইরানের ক্ষেত্রেও সেই পথেই হাঁটার পরিকল্পনা করছে আমেরিকা।
স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ থেকেও তেল ছাড়তে পারে আমেরিকা
বেসেন্ট আরও জানান, সরবরাহ বাড়াতে আরও একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (SPR) থেকে অতিরিক্ত তেল ছাড়া।
এর আগে জি-৭ দেশগুলির যৌথ উদ্যোগে ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়া হয়েছিল। তার বাইরেও আমেরিকা একতরফা ভাবে অতিরিক্ত তেল ছাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
তবে তেলের ফিউচার মার্কেটে সরাসরি হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দিয়েছেন বেসেন্ট। তাঁর কথায়, “আমরা আর্থিক বাজারে হস্তক্ষেপ করছি না, বরং বাস্তব সরবরাহ বাড়ানোর দিকেই জোর দিচ্ছি।”
প্রতিদিন ১০-১৪ মিলিয়ন ব্যারেল ঘাটতি
হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার জেরে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন বেসেন্ট। সেই ঘাটতি পূরণ করতেই এই পদক্ষেপগুলি নেওয়া হচ্ছে।
জাপানের সঙ্গে আলোচনা, নিরাপত্তা জোরদার
এদিনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বৈঠক হওয়ার কথা। হোয়াইট হাউসে এই বৈঠকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাপানের নৌবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। কারণ, জাপানের অধিকাংশ তেল আমদানি এই পথেই হয়। পাশাপাশি, জাপানও তাদের স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ থেকে অতিরিক্ত তেল ছাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন বেসেন্ট।
চিন নিয়ে কড়া মন্তব্য
চিনের ভূমিকাও এদিন কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন বেসেন্ট। তাঁর অভিযোগ, চিন এখন আর নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী নয়। কারণ তারা এশিয়ার অন্যান্য দেশে জেট ফুয়েল-সহ বিভিন্ন পরিশোধিত জ্বালানি রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে।