আলোচনার মাঝেই সামনে আসে বড় তথ্য। পাকিস্তানি ভূখণ্ড থেকে আফগানিস্তানে মার্কিন ড্রোন হামলা চালানোর অনুমতি দিয়েছে ইসলামাবাদই। পাকিস্তান আলোচনার টেবিলে প্রথমবার এই গোপন চুক্তির কথা স্বীকার করে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 30 October 2025 11:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চার দিন ধরে ইস্তানবুলে বসেছিল আফগানিস্তান (Afghanistan) ও পাকিস্তানের (Pakistan) প্রতিনিধিদের বৈঠক। তুরস্ক (Turkey) ও কাতারের (Qatar) মধ্যস্থতায় হওয়া এই বৈঠক সীমান্তে যুদ্ধবিরতির (Ceasefire) মাঝে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনও সমঝোতা হয়নি। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে সংঘর্ষে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হওয়ার পরও টানাপড়েন কমার কোনও লক্ষণ মিলল না।
আফগান সূত্রের দাবি, তালিবান নেতৃত্বাধীন প্রশাসন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলা রুখতে প্রতিশ্রুতি দিতে প্রস্তুত ছিল, তবে শর্ত ছিল ইসলামাবাদ (Islamabad) যেন আফগান আকাশসীমা লঙ্ঘন না করে এবং মার্কিন ড্রোন অভিযান বন্ধ করায় উদ্যোগী হয়। পাকিস্তান এই শর্ত মানতে অস্বীকার করায় আলোচনায় ভাঙন ধরে।
আলোচনার মাঝেই সামনে আসে বড় তথ্য। পাকিস্তানি ভূখণ্ড থেকে আফগানিস্তানে মার্কিন ড্রোন (US Drone) হামলা চালানোর অনুমতি দিয়েছে ইসলামাবাদই। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টোলো নিউজ জানিয়েছে, পাকিস্তান আলোচনার টেবিলে (Peace Talks) প্রথমবার এই গোপন চুক্তির কথা স্বীকার করে। পরে তারা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তি ভাঙার ক্ষমতা তাদের নেই।
সূত্রের দাবি, শুরুতে কিছু শর্তে সম্মতি দিয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু একটি ফোনের পর হঠাৎ অবস্থান বদলায় প্রতিনিধিদল। এরপরই আলোচনা অচলাবস্থায় পৌঁছয়। মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে তুরস্ক ও কাতারের কর্মকর্তারাও নাকি পাকিস্তানের আচরণে বিস্ময় প্রকাশ করেন।
তবু ইসলামাবাদের অভিযোগ, দিল্লির প্রভাবে আফগান নেতৃত্ব সমঝোতা ভেঙেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খওয়াজা আসিফ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “কাবুলকে পুতুলনাচের মতো নাচাচ্ছে নয়াদিল্লি (Indian Govt)।” যদিও তিনি উল্লেখ করেননি, আলোচনার মাঝেই কী ভাবে মার্কিন ড্রোনচুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থান বদলেছে।
আসিফ পরে তালিবানকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন যে, ২০০১ সালের টোরা বোরার মতো ফল ভুগতে হতে পারে। তাঁর দাবি, পাকিস্তান তাদের অস্ত্রভাণ্ডারের সামান্য অংশ ব্যবহার করলেই তালিবান প্রশাসন গুঁড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।
ঘটনার প্রেক্ষিতে আবার সামনে এল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্কের সামরিক নির্ভরতা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ইসলামাবাদ ওয়াশিংটনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা জোট আরও মজবুত করেছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের হোয়াইট হাউসে দৌড়ঝাঁপ, সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের উপস্থিতির বিষয় আলোচনায় এসেছে।
অন্যদিকে, পাক-আফগান সীমান্ত ডুরান্ড লাইনে উত্তেজনা এখনও চরমে। তালিবান ডুরান্ড লাইন মানে না। সেপ্টেম্বরের শুরুতে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের হামলার জেরে সীমান্তযুদ্ধ তীব্র হয়। পাকিস্তান এরপর আফগান ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালায়। জঙ্গি ও বেসামরিক মিলিয়ে দুই পক্ষেই মৃত্যু হয় ২০০-র বেশি মানুষের। তালিবান জানায়, বাজারে হামলায় শিশু ও মহিলাও মারা গেছে।
এ অবস্থায় পাকিস্তানের স্বীকারোক্তি যে মার্কিন ড্রোন পাকিস্তান থেকেই উড়ছে - তা বহু প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।