দুই পক্ষের শীর্ষ কূটনীতিকরা আগেই জানান, দুই দেশের নানা মতপার্থক্য মেটাতে একটি প্রাথমিক কাঠামো তৈরি হয়েছে। বৈঠকের আগে আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে ট্রাম্প বলেন, “এই আলোচনার ফল ভাল হবে গোটা বিশ্বের জন্য।”

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শি জিনপিং
শেষ আপডেট: 30 October 2025 08:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছ'বছর পর ফের একবার মুখোমুখি বৈঠকে বসলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Xi Jinping)। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই ট্রাম্পের সঙ্গে শি'র প্রথম সাক্ষাৎ।
দুই পক্ষের শীর্ষ কূটনীতিকরা আগেই জানান, দুই দেশের নানা মতপার্থক্য মেটাতে একটি প্রাথমিক কাঠামো তৈরি হয়েছে। বৈঠকের আগে আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে ট্রাম্প বলেন, “এই আলোচনার (Meeting) ফল ভাল হবে গোটা বিশ্বের জন্য।”
চিন-মার্কিন বাণিজ্যিক টানাপড়েন (US China Relation), প্রযুক্তি নীতি, বিরল খনিজ নিয়ন্ত্রণ - সবই ছিল বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে। বিশেষ নজর ছিল বিরল খনিজের ওপর। মোবাইল ফোন ও বৈদ্যুতিক যান থেকে যুদ্ধবিমান, অসংখ্য আধুনিক প্রযুক্তির ভিত্তি এই উপাদান। বিশ্ব বাজারে যার নিয়ন্ত্রণ মূলত চিনের হাতে।
সম্প্রতি মার্কিন কালো তালিকাভুক্তি নীতির জবাবে এই খনিজের রফতানি আরও কঠোর করেছে বেজিং (Bejing)। ফলে আমেরিকার কাছে এই খনিজের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করাই ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার।
তাছাড়া টিকটকের (TikTok) মালিকানা মার্কিন সংস্থার হাতে যাওয়ার বিষয়েও চাপ বাড়াতে চলেছেন ট্রাম্প। মার্কিন কৃষকদের সুবিধার জন্য চিনের কাছে সয়াবিন কেনা বাড়ানোর দাবি রাখবেন বলেও জানা গেছে। অন্যদিকে উন্নত কম্পিউটার চিপের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল, ফেন্টানিল সংক্রান্ত অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার এবং বন্দর শুল্কে পরিবর্তন - এই দাবিগুলি তুলতে পারে বেজিং।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে জি২০ সম্মেলনে শি-ট্রাম্প বৈঠকে দু’পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে দ্বন্দ্ব কমিয়ে সহযোগিতার পথে হাঁটার বার্তা দিয়েছিল। তখনও শি জানিয়েছিলেন, সংঘাত নয়, সমঝোতার মধ্যেই দুই দেশের লাভ। ট্রাম্পও সেই সময়ে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তী বছরগুলিতে সম্পর্ক বারবার উত্তপ্ত হয়েছে নানা বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত সিদ্ধান্তে।
চিন-আমেরিকার মধ্যে শুল্ক-সংঘাতের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ১০ নভেম্বর শেষ হচ্ছে, তবে সেই সময়সীমা আরও বাড়ানো হবে বলেই জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। গত সেপ্টেম্বর থেকে চিন আমেরিকার সয়াবিন কেনা বন্ধ রেখেছিল, যা ফের শুরু হতে পারে শীঘ্রই-এমনটাই আশাবাদী মার্কিন প্রশাসন।
নয়া বৈঠকে তাই নজর - বৈরিতা কমিয়ে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন দ্বার খুলতে পারে কিনা দুই শক্তিশালী রাষ্ট্র।