এই অভিযানে অংশ নেয় মার্কিন বিমানবাহিনীর বিখ্যাত দল ‘হ্যারিকেন হান্টার্স’। তাঁদের লক্ষ্য ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হ্যারিকেন সেন্টারের জন্য ঘূর্ণিঝড় সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আবহাওয়ার তথ্য সংগ্রহ করা।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 28 October 2025 16:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অসাধ্য সাধন করল মার্কিন বিমানবাহিনীর (US Air Force) একটি বিশেষ বিমান। বিশ্বের অন্যতম ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় ‘মেলিসা’-র (Cyclone Melissa) 'চোখে' (Eye of the Cyclone) প্রবেশ করে এমন এক দৃশ্য প্রকাশ্যে এনেছে যা, বিরলের থেকে বিরলতম ভিডিওগুলির মধ্যে একটি বলে মনে করা হচ্ছে।
এই অভিযানে অংশ নেয় মার্কিন বিমানবাহিনীর বিখ্যাত দল ‘হ্যারিকেন হান্টার্স’ (Hurricane Hunters)। তাঁদের লক্ষ্য ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হ্যারিকেন সেন্টারের জন্য ঘূর্ণিঝড় সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আবহাওয়ার (Weather) তথ্য সংগ্রহ করা। ক্যাটেগরি-৫ মাত্রার এই ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমানে জ্যামাইকার দিকে ধেয়ে আসছে।
সূর্য ওঠার পরপরই দক্ষিণ-পূর্ব দিক দিয়ে ঘূর্ণিঝড়ের 'চোখে' প্রবেশ করে বিমানটি। পুরু ধূসর মেঘের ভেতর দিয়ে এগিয়ে যেতে যেতে দেখা যায়, ঝড়ের বিশাল প্রাচীর বা ‘আই ওয়াল’ (Eye Wall) মাথা তুলে রয়েছে। উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে সূর্যের আলো মেঘের কিনারা ছুঁয়ে এক উজ্জ্বল আভা তৈরি করেছিল।
A thread of videos from today’s flight into Hurricane Melissa
In this first one we are entering from the southeast just after sunrise and the bright arc on the far northwest eye wall is the light just beginning to make it over the top from behind us. pic.twitter.com/qGdpp7lbCN— Tropical Cowboy of Danger (@FlynonymousWX) October 27, 2025
ইউএস এয়ার ফোর্সের হান্টার ইউনিট সোশ্যাল মাধ্যমে পোস্ট করে লেখে, “আমরা দক্ষিণ-পূর্ব দিক দিয়ে সূর্যোদয়ের পরপরই ঘূর্ণিঝড়ের 'চোখে' ঢুকেছি, আর দূরে উত্তর-পশ্চিমের উজ্জ্বল অংশটা আসলে সূর্যের আলো, যা এখন ঝড়ের মাথা ছুঁয়ে উঠছে।”
ভিডিওতে দেখা যায়, ঘূর্ণিঝড়ের 'চোখে'র ভেতরে স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে তথাকথিত ‘স্টেডিয়াম এফেক্ট’ (Stadium Effect) - যেখানে ঝড়ের দেয়াল বা 'আই ওয়াল' ওপরে উঠতে উঠতে বাইরে দিকে বাঁক নেয়। অন্য এক ভিডিওতে বিদ্যুতের ঝলকানিতে ঝড়ের প্রাচীর দেখা যায়। বিমানের নীচে সাগরের পৃষ্ঠে ঢেউ বিভিন্ন দিকে ছুটে চলেছে - যেন প্রকৃতির এক বিশৃঙ্খল অথচ নিখুঁত দৃশ্যায়ন।
Another view looking down in the eye… got a nice swirl of clouds going on pic.twitter.com/8K7SPSmjFE
— Tropical Cowboy of Danger (@FlynonymousWX) October 27, 2025
ন্যাশনাল হ্যারিকেন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ‘হ্যারিকেন মেলিসা’ ১৮৫১ সালে রেকর্ড শুরু হওয়ার পর থেকে জামাইকার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ঝড় হতে চলেছে। প্রায় ২৮২ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে বইছে বাতাস।
The sea surface is always interesting in the eye with waves going different directions pic.twitter.com/sM2lvvUWoC
— Tropical Cowboy of Danger (@FlynonymousWX) October 27, 2025
ঝড়ের সঙ্গে জামাইকায় উপকূলীয় এলাকায় ১৩ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস এবং কোথাও কোথাও ৪০ ইঞ্চিরও বেশি বৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা। ইতিমধ্যেই দ্বীপজুড়ে ৮০০-র বেশি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং নীচু এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার রাত পর্যন্ত অন্তত ৫০ হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গোটা ক্যারিবিয়ান জুড়ে এখন পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে হাইতি ও ডোমিনিকান রিপাবলিকও রয়েছে।