কেন্টাকির লুইসভিলে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু অন্তত সাতজনের। 'টেক অফের সময় ইউপিএস কার্গো বিমানটি বিস্ফোরণে আগুনে পুড়ে যায়। আহত ১১, তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন প্রশাসন।

ঘটনাস্থলের ছবি
শেষ আপডেট: 5 November 2025 11:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকির লুইসভিলে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল অন্তত সাতজনের। আহত হয়েছেন আরও ১১ জন।
মঙ্গলবার বিকেলে টেক অফের সময় বিস্ফোরণ ঘটে ইউপিএস কার্গো বিমানে। মুহূর্তে পুড়ে ছাই হয়ে যায় সেটি। ভয়ঙ্কর সেই দুর্ঘটনার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হয়েছে স্থানীয়দের হাতে। জ্বলন্ত বিমানের ডানায় দেখা গিয়েছে আগুনের শিখা, চারদিক ছেয়ে গিয়েছে ঘন কালো ধোঁয়ায়।
মঙ্গলবার বিকেল প্রায় সাড়ে ৫টা নাগাদ লুইসভিল মহম্মদ আলি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইউপিএস ওয়ার্ল্ডপোর্ট থেকে হনলুলুর উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা ছিল ম্যাকডোনেল ডগলাস এমডি-১১ মডেলের বিমানটির। কিন্তু টেক-অফের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি রানওয়ের এক প্রান্তে ভেঙে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গেই ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। মুহূর্তে আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে অন্তত সাতজনের। তার মধ্যে চারজন বিমানযাত্রী নন বলেই জানিয়েছে প্রশাসন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কেন্টাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেসহিয়ারের কথায়, “এই দুর্ঘটনার ছবি থেকে ভয়াবহতা স্পষ্ট। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের আঘাত অত্যন্ত গুরুতর।”
গভর্নর আরও জানান, বিমানে ঠিক কতজন ক্রু সদস্য ছিলেন তা এখনই স্পষ্ট নয়। দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (NTSB)। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে এসডিআরএফ ও এনডিআরএফ টিম। উদ্ধারকাজ চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়।
বিস্ফোরণের ধাক্কায় বিমানবন্দরের পাশের বেশ কয়েকটি ভবনের ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি অটো পার্টস কারখানা ও ‘কেন্টাকি পেট্রোলিয়াম রিসাইক্লিং’ নামের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানও ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন লুইসভিল পুলিশের প্রধান পল হামফ্রে। তাঁর কথায়, “দুর্ঘটনাস্থল এখনো বিপজ্জনক। নিরাপদ করতে কতটা সময় লাগবে বলা যাচ্ছে না।”
বিস্ফোরণের পর থেকে লুইসভিল বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বুধবার সকাল পর্যন্ত বিমান চলাচল বন্ধ। স্থানীয় বাসিন্দা টম ব্রুকস জুনিয়র বলেন, “এত জোরালো শব্দ আমি জীবনে শুনিনি। চারদিক কেঁপে উঠেছিল। মনে হচ্ছিল যেন যুদ্ধ শুরু হয়েছে!” অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শী লেইরিম রদ্রিগেজ তাঁর ভিডিওয় দেখিয়েছেন, কীভাবে একের পর এক আগুনের গোলা আকাশে বিস্ফোরিত হচ্ছে, চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে ঘন ধোঁয়া। আরও এক প্রত্যক্ষদর্শী ডেস্টিন মিচেল জানান, তিনি তখন আউটব্যাক রেস্তরাঁয় কাজ করছিলেন। হঠাৎই প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ কানে পৌঁছয়। সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকেই খাওয়া মাঝপথে ছেড়ে উঠে পড়েন বাঁচতে।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, ভিডিও ফুটেজ দেখে মনে হচ্ছে বিমানের বাঁদিকের এক ইঞ্জিনে আগুন ধরে গিয়েছিল। ওড়ার সময় বিমানে থাকা বিপুল জ্বালানি মজুত থাকায় বিস্ফোরণ ঘটে আরও ভয়ঙ্কর আকারে। এক বিমান আইনজীবী পাবলো রোহাসের মতে, “এত জ্বালানি নিয়ে বিমানটা নিজেই একটা বোমার মতো কাজ করেছে।”
ইউপিএস কর্তৃপক্ষের দাবি, আপাতত লুইসভিল হাবে পার্সেল বাছাইয়ের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৩০০টি ফ্লাইট পরিচালিত হয় এই হাব থেকে, যেখানে ঘণ্টায় চার লক্ষেরও বেশি পার্সেল ডেলিভারি হয়। স্থানীয় কাউন্সিল সদস্য বেটসি রুহে বলেন, “আমাদের শহরে প্রায় প্রত্যেকেরই কেউ না কেউ ইউপিএসে কাজ করেন। সবাই নিজেদের আত্মীয়-পরিজনের খোঁজ নিচ্ছেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, কিছু ফোনের উত্তর হয়তো আর কেউ পাবেন না।”
বর্তমানে গোটা শহরজুড়ে শোকের ছায়া। প্রশাসন দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।