পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। এই আবহেই একদিকে কূটনৈতিক উদ্যোগ, অন্যদিকে যুদ্ধ থেকে দূরত্ব - দু’দিক সামলাতে চাইছে ব্রিটেন।

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টার্মার
শেষ আপডেট: 1 April 2026 18:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে (global energy route crisis)। এই আবহেই একদিকে কূটনৈতিক উদ্যোগ, অন্যদিকে যুদ্ধ থেকে দূরত্ব - দু’দিক সামলাতে চাইছে ব্রিটেন (UK Iran conflict policy)।
বুধবার ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টার্মার (UK PM Keir Starmer) স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ইরান-আমেরিকা- ইজরায়েলকে ঘিরে চলা এই সংঘাতে দেশটি কোনওভাবেই জড়াবে না (Britain not a part of Iran war)। একইসঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার পথ খুঁজতে অন্তত ৩৫টি দেশের নেতাদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হচ্ছে (Strait of Hormuz reopening talks)।
এই বৈঠকের নেতৃত্ব দেবেন ব্রিটেনের বিদেশ সচিব ইভেট কুপার। লক্ষ্য একটাই, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণের পথ হরমুজ প্রণালীকে আবার স্বাভাবিক পথে ফিরিয়ে আনা।
যুদ্ধের আঁচ, কিন্তু আতঙ্ক নয়
সাধারণ মানুষের কি দৈনন্দিন জীবনে কোনও পরিবর্তন আনা উচিত - সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে স্টার্মার এড়িয়ে যান এই জিজ্ঞাসা। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবেনিজ নাগরিকদের গণপরিবহণ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছিলেন।
তবে ব্রিটিশ নাগরিকদের আশ্বস্ত করে স্টার্মার বলেন, এই যুদ্ধ পরিস্থিতি একপ্রকার “ঝড়” তৈরি করেছে ঠিকই, কিন্তু সেই ঝড় সামাল দেওয়ার মতো অবস্থানে রয়েছে ব্রিটেন।
“যুদ্ধের প্রভাব আমাদের দেশের ভবিষ্যতের উপর পড়বেই। কিন্তু যতই পরিস্থিতি কঠিন হোক, আমরা তা সামাল দেওয়ার মতো প্রস্তুত,” বলেন তিনি।
হরমুজ প্রণালী: বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন
স্টার্মার স্পষ্ট করেন, হরমুজ প্রণালী কেবল একটি জলপথ নয়, এটি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট। বর্তমানে এই পথ কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় তেলের দাম বেড়েছে, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতি সামাল দিতে বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশগুলি -
তবে স্টার্মার সতর্ক করে দেন - পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা কমলেই যে হরমুজ প্রণালী দ্রুত খুলে যাবে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
ইউরোপ-ন্যাটো জোটে জোর
এই সঙ্কটের মাঝেই ব্রিটেনের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলও স্পষ্ট করেছেন স্টার্মার। তিনি জানান, ভবিষ্যতে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় দরকার। একইসঙ্গে তিনি পুনরায় সমর্থন জানান ন্যাটো-কে।
এখানেই প্রাসঙ্গিকভাবে উঠে আসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য, যেখানে তিনি ন্যাটোকে “কাগুজে বাঘ” বলে কটাক্ষ করেছিলেন। সেই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই স্টার্মার বলেন, ন্যাটো বহু দশক ধরে ইউরোপকে নিরাপত্তা দিয়েছে এবং ব্রিটেন এই জোটের প্রতি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।